বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৭ পি.এম
গতকাল বুধবার ভিডিওকাণ্ডে অভিযুক্ত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি পাঠিয়েছে দলটি।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দলের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে এ কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যেই এ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প খাতের সহযোগিতা বাড়ানো, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা-উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সুশাসন ও মাননিশ্চিতকরণ।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো, জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ বিষয়ে আরো বলেন, খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।
এরপর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের রূপরেখা ইউজিসির কাছ থেকেই আসা উচিত। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, বরং তাদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জাতীয় উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব একটি যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পাবে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সৌদি প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান এবং মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের মধ্যে একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি’ এবং একটি ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য আইনি সুযোগ পেয়েছে।
এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
তবে বিতর্কিত এই চুক্তিটি এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত রাখতে অভ্যন্তরীণভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ার কারণে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে বিদ্যালয়সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার বিদ্যালয় চলাকালীন চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এই সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আর্জেন্টিনা দলকে ব্যঙ্গ করে গান গাইছিল। এর পরেই সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার জানায় যে, শিক্ষক আব্দুস সালাম আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। দল হেরে যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ব্যঙ্গাত্মক গান গাওয়ার কারণে তিনি এসে তাদের মারধর করেন। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান জানায়, “‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’—এ কথা বলে তারা গান গাইছিল। এরপর স্যার রেগে গিয়ে তাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।’এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর (BEAR) সামিট। আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে এই সামিটের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গঠনে একটি নতুন কৌশলগত ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে আর সেটা হচ্ছে- ‘Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh’.
সচিব আরও বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট ২০২৬।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী সামিটে সরকারের নীতি নির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন। তাঁরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিই সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি উচ্চপ্রযুক্তি সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আরও বলেন, এই সামিটের মূল লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা। এখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে স্টলগুলোতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে বায়োটেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক সম্পর্কে আগত দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ১১ প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে গবেষক শিক্ষক বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন।
ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে সচিব বলেন, সরকার, শিল্প খাত ও একাডেমিয়ার যৌথ সমন্বয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে ‘ন্যাশনাল AI ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সামিটে আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস। সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধি, বিএসআইএ-র সদস্য প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ, বৈশ্বিক বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় এবং বিদেশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, এসব আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর খাতের দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ইকোসিস্টেম গঠন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, গবেষণা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্যিকীকরণ এবং উদীয়মান ডিপ-টেক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাঁদের অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটাবে। ‘বাংলাদেশের ডিপ-টেক ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে সামিটের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে ক্রেইস্ট ফেলোস রিসার্চ সিম্পোজিয়াম, যেখানে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করা হবে।
সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে বেয়ার ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে এবং এক্সপোতে মোট ৩৫ টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসআইএর সভাপতি এম. এ. জাব্বার, সেক্রেটারি মো. হাসেম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ