০৫:০০ পি.এম
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। এ ঘটনার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তেহরানের পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশ সফলভাবে হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির এক কর্মকর্তা।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সেটি ভূপাতিত হয়।
এমকিউ-৯ ড্রোনটির বাজারমূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০০ কোটিরও বেশি হয়ে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক এই ড্রোনটি দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম এবং নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এই ড্রোনটি নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণের কাজে ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের
আইআরজিসি জানিয়েছে, ড্রোনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। তারা বলেছে, ড্রোনটিকে ভূপাতিত করতে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ সময়ের আগে গত সোমবার, হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে। ওই ঘোষণার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে হামলা চালায়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে পরে দুই দেশের মধ্যে নিজেদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি কোনো আগ্রাসন ঘটে, তাহলে তার জবাব হবে আরও কঠোর।
এদিকে বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইরানি হামলার পর বাহরাইনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, অন্তত ১৬টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী
এর আগে বুধবার ভোরে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে।
এক ইরানি সামরিক সূত্রের মতে, প্রাথমিক মূল্যায়নে অভিযানের পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
তবে ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলো অভিযোগ করেছে, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির বেমানি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাদেশিক পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় জলাধার এবং সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ছেন।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর চলমান পাল্টা হামলাকে শক্তিশালী ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রচ্যের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর আরো ব্যাপক ও কঠোর হামলা চালানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন