বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫১ পি.এম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায়। তবে, নির্বাচনের শুরু এবং শেষের সময় সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও চিন্তা করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি বছর শুরু হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, ইসির দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী তার মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসিকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, এ মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে চাওয়া হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো শেষ করা হোক। তবে, নির্বাচনের শুরুটা কখন হবে, তা সরকার নির্ধারণ করবে না।
মীর শাহে আলম জানান, পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে ইসির প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য এ ব্যয়ের পরিমাণের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। তবে, চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে এর কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কিনা, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা কঠিন। কারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে- প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ প্রশ্নটা ওনাকে করলেই ভালো হতো। যেহেতু উনি মনে করছেন, এ ব্যাপারে আমি উত্তর দেব না।
তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০ রাউন্ড ১২ বোরের শর্টগানের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১০, সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০ রাউন্ড ১২ বোর শর্টগানের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ, পরিবহন ও ব্যবহার রোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাশকতা ও যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার করা কার্তুজগুলো আইনগত প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) সদস্যদের প্রশিক্ষণ সরকারিভাবে প্রদান করা হয়েছে।
জামালপুর আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৪ জন ভিডিপি সদস্য ৮টি জেলার মধ্যে ২ মাসব্যাপী বিনামূল্যে আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
এই প্রশিক্ষণে ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় এবং জামালপুর জেলার যুবকরা রাজমিস্ত্রির কাজ, রড বাইন্ডিং ও শাটারিংয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করেছেন।
ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১৭ জন রাজমিস্ত্রির কাজ, ২০ জন রড বাইন্ডিং এবং ২৭ জন শাটারিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মীর বাহার শাহাদাত হোসেন বাসস’কে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভিডিপি সদস্যদের জন্য বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিমান ভাড়া দিয়ে বিদেশে চাকরির সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। যারা বিমান ভাড়া জোগাড়ে অক্ষম, তাদের জন্য আনসার ও ভিডিপি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, বিদেশে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং প্রথম ব্যাচে ৬৪ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রথমবারের মতো ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা অর্জন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম, যিনি ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেন ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে।
ক্যারিয়ারের এমন বিশেষ মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ইয়ামি। পুরস্কার গ্রহণের পর গণমাধ্যমের সামনে এসে তিনি জানান, এই অর্জনের তাৎপর্য এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে তার এখনো অনেক কিছু শেখা ও করার বাকি রয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর সাংবাদিকদের ইয়ামি বলেন, তিনি এই মুহূর্তের গভীরতা ও আনন্দ এখনো অনুভব করছেন। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য এমন স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়। বিশেষ করে যারা সারা জীবন অভিনয় ও শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের কাছে এই পুরস্কারের গুরুত্ব আরো বেশি।
ইয়ামি জানান, বিনোদনজগতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো মানুষের পক্ষ থেকেও তিনি এই অনুভূতির কথা বলছেন। কারণ, জীবনে ভবিষ্যৎ কার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা কেউই আগে থেকে জানেন না।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, মানুষের উচিত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাওয়া এবং মন দিয়ে ভালো কাজ করে যাওয়া। কারণ, একদিন না একদিন সেই পরিশ্রমের ফল পাওয়া যায়।
বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিনয়ী ইয়ামি জানান, তিনি ঠিক কোথায় এসে পৌঁছেছেন, সেটি এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে দীর্ঘ এই যাত্রায় তার এখনো অনেক কিছু শেখার এবং অনেক কাজ করার বাকি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ঐতিহাসিক একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় সম্মাননা গ্রহণের অভিজ্ঞতাকে জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন ইয়ামি।
‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও টানটান উত্তেজনার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যার পরিচালনা করেছেন আদিত্য সুহাস জামভালে। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন আদিত্য ধর, মোনাল ঠাকুর ও অর্জুন ধাওয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালক নিজেই।
সিনেমাটিতে ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়ামণি। এ ছাড়া রয়েছেন স্কন্দ ঠাকুর, অশ্বিনী কাউল, বৈভব তত্ত্ববাদী, অরুণ গোভিল ও কিরণ কর্মরকার।
২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায় ছবিটি। প্রায় ২০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত অ্যাকশন-ড্রামাধর্মী সিনেমাটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১০ কোটি রুপি আয় করে বাণিজ্যিক সাফল্য পায় এটি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চেও ছবিটির সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকে। ইয়ামি গৌতমের সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননার পাশাপাশি ‘আর্টিকেল ৩৭০’ পেয়েছে সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার। এ ছাড়া শাশ্বত সচদেব পেয়েছেন সেরা সংগীত পরিচালনার সম্মাননা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের বোমা হামলার মামলায় আদালত ১৫ জনকে ২০০ থেকে ২৬০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার এই রায়ে তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হামলায় ২৭০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নওফার মৌলভীও রয়েছেন, যাকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ মামলায় আরো নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। হামলায় অংশগ্রহণকারী সব আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরণে নিহত হয়। তদন্তকারীরা পূর্বে এই হামলার জন্য ইসলামপন্থী চরমপন্থীদের দায়ী করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনই শ্রীলঙ্কার মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বোমা হামলা হয়। এটি ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পর শ্রীলঙ্কার অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ২৩ হাজারের বেশি অভিযোগে অভিযুক্ত আসামিদের জোড়ায় জোড়ায় হাতকড়া পরিয়ে দুটি প্রিজন বাসে করে আদালতে আনা হয়। হামলায় নিহতদের অধিকাংশই শ্রীলঙ্কার নাগরিক ছিলেন, এবং নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু ছিল।
নিহতদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় শেফ শান্তা মায়াদুন্নে ও তার মেয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হামলায় পাঁচ সদস্যের একটি তরুণ পরিবারও প্রাণ হারিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া হোটেলগুলোর অন্তত আটজন কর্মী এবং নেগোম্বো শহরের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিহত হন। নিহত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয়, আটজন ব্রিটিশ এবং পাঁচজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ডেনমার্ক, জাপান, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের নাগরিকরাও হামলায় নিহত হন। শাংরি-লা হোটেলে হামলার সময় ডেনিশ ধনকুবের অ্যান্ডার্স হোলচ পভলসেনের তিন সন্তানও প্রাণ হারান। হামলার সময় পরিবারটি শ্রীলঙ্কায় ছুটি কাটাচ্ছিল।
‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ নিয়ে প্রশ্ন
ইস্টার সানডের বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দেশটির সংসদে জানানো হয়, হামলার বিষয়ে ভারত থেকে পাওয়া একটি গোপন সতর্কবার্তা যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনাকে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েক মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
গত মাসে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি অবহেলার দায়ে দুই সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় সাধারণত এই সাজা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়।
ইস্টার সানডের বোমা হামলার শিকারদের ন্যায়বিচারের দাবিতে শ্রীলঙ্কায় কয়েক বছর ধরে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। নতুন এই রায় এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সাল্লের বিরুদ্ধে পৃথক একটি তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে ইসলামপন্থী চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বোমা হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ৪-এর একটি তথ্যচিত্রে একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে কয়েকজন তথ্য ফাঁসকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি, শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী রাজাপাকসা পরিবারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই হামলাগুলো ঘটতে দেওয়া হয়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়া সুরেশ সাল্লে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৯ সালের হামলার কয়েক মাস পর ইসলামপন্থী চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। বর্তমানে রাজাপাকসার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চলমান তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ