১১:২১ এম
শুক্রবার ভারতীয় রুপি হঠাৎ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই দরবৃদ্ধি বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্য কমছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহের অভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে রুপির ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় ভারত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য প্রায় একই অবস্থানে থাকবে। প্রতি ডলারের দাম ৯৪ দশমিক ৯৪ থেকে ৯৪ দশমিক ৯৮ রুপির মধ্যে থাকতে পারে। গত সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় রুপির দর কমেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯৫ দশমিক ২৮-এ নেমে যায়। পরে একটি বড় বিদেশি ব্যাংক বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করলে রুপির দর আবার বাড়তে শুরু করে।
বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের এক মুদ্রা ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, শুক্রবার রুপির এই ঘুরে দাঁড়ানো ছিল অপ্রত্যাশিত। এটি বাজারের চলমান প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। তিনি বলেন, শুক্রবারের দরবৃদ্ধির পর ধারণা করা হচ্ছে, আপাতত প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫ রুপির আশপাশে রুপির দর ওঠানামা করবে। তবে ওই বিদেশি ব্যাংক কেন শুক্রবার বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে, তা জানা যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অন্য ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: আঞ্চলিক সংকটে চাপে ভারতের কূটনীতি, জয়শঙ্করের বৈঠক
ওই মুদ্রা ব্যবসায়ীর মতে, শুক্রবার রুপির দর বাড়লেও এই উন্নতি ধরে রেখে আরো শক্তিশালী হওয়া কঠিন হবে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মুদ্রার দর কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব পড়েছে এসব মুদ্রায়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম অনেক কমেছে। অন্যদিকে দেশটির সরকারি বন্ডের দাম বেড়েছে। প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে বন্ডের বাজার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বাড়তে থাকা বিপুল ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই খাতে এত বেশি বিনিয়োগ করেও পর্যাপ্ত মুনাফা পাওয়া নাও যেতে পারে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ খাতের দিকে ঝুঁকছেন। এআই খাতে ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে শেয়ারবাজারে দরপতন ভারতীয় রুপির জন্য দুই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতার মধ্যে ভারতকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শুক্রবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনার পরিমাণ বিক্রির চেয়ে বেশি রেখেছেন। অর্থাৎ ওই দিন তারা ভারতীয় শেয়ারবাজারে নিট ক্রেতা ছিলেন। এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ভবিষ্যৎ লেনদেনের বাজারে ডলারের নিট বিক্রির অবস্থান সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ২৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ২০ হাজার কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের ধারণা, একটি বিশেষ আমানত প্রকল্পের কারণে এই বৃদ্ধি হয়ে থাকতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাংকগুলো আরবিআইয়ের বিশেষ এফসিএনআর (বি) আমানত প্রকল্পের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করেছে। পরে মুদ্রা বিনিময় চুক্তির আওতায় সেই ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অদলবদল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর এই লেনদেনের কারণেই ভবিষ্যৎ লেনদেনের বাজারে আরবিআইয়ের ডলারের নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন