০৩:৪৫ পি.এম
সরকার এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বার্তা প্রদান করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "ধর্মঘটের হুমকির পর সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কেউ কারসাজি করলে বা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে সরকার কঠোর হাতে তা দমন করবে। সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, তবে দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।"
জ্বালানিমন্ত্রী জানান, সরকার এলপিজির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চায়। তিনি বলেন, "ধর্মঘটের চেষ্টা করে দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না।"
আরও পড়ুন: সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জ্বালানিমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের আগামী দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এলপিজিতে ভর্তুকি দেয় না এবং প্রতিবেশী ভারতে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ১২ অক্টোবর এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশজুড়ে সব এলপিজি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান ওই দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে দুই দিনের পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হবে। ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা ও হয়রানি বন্ধসহ সাতটি দাবি রয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এ দামে কোথাও তা মিলছে না। বিক্রেতারা ইচ্ছামতো ৪০০-৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগের কথা বললেন
এলপিজি অপারেটররা জানিয়েছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন এবং বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
সরকারও সংকট নিয়ে তৎপর ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় অপারেটররা মন্ত্রীকে জানান, দেশে এলপিজির সংকট নেই। ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ৩ অক্টোবর আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক ও দাবি পূরণের আশ্বাসে সেদিন বিকেলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন