ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী


খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী

মাজিয়া নামে এক ইরানি নারী যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ৪০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এসেছেন খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই দেশে ফিরে এসেছেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় যাওয়ার পথে মাজিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বকে জানাতে এসেছি যে ৪ হাজার বছরের পুরনো একটি সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। যে এটি ধ্বংস করতে চায়, সে আসলে নিজের দেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ তার এই মন্তব্যের অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। তবে মাজিয়ার মন্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব হয়েছে ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে আরো শক্তিশালী করেছে। এটি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ মাজিয়া মনে করেন, বিদেশি চাপ ইরানিদের জাতীয় ঐক্য ও সংকল্পকে দৃঢ় করেছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপমূলক নীতিরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘যারা অন্য দেশের সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।’ আমেরিকার ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এনে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ দেন। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রবেশের আগে তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান, ‘সিরিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তানে যে ধরনের গণতন্ত্র দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

মাজিয়া বলেন, মিনাবের ট্র্যাজেডির স্মৃতি এখনো তাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এই শোকাবহ ঘটনা ভুলে যাইনি। এক দিনের জন্যও না।’ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে তাদের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান। তার দাবি, নিরীহ শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এসব যুদ্ধ মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থ দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পতাকা হাতে শোকাহত মানুষের ঢল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে। প্রয়াত নেতার শাহাদাত স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের শোকগীতি রাজধানীজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ ধৈর্য ধরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

তেহরানের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা, কালো শোকের ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে সজ্জিত করা হয়েছে। শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণ এবং পথনির্দেশনায় কাজ করছেন। আয়োজকদের ধারণা, শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে বিদায় জানাতে তেহরানজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজধানীজুড়ে শোক, ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতীকের ছাপ স্পষ্ট। তবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে আরেকটি দৃশ্য।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে কথিত মার্কিন হামলায় নিহত ১৫০ জনেরও বেশি শিশুর ছবি সংবলিত পোস্টার টাঙানো হয়েছে। শোকবার্তার পাশে রাখা এসব ছবি মানুষের কাছে বারবার সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

যখন ইরান সাম্প্রতিক দশকগুলোর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার দাফন সম্পন্ন করছে, তখনো যুদ্ধের ক্ষত দেশটির মানুষের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। নিহত শিশুদের ছবি সেই বেদনাদায়ক স্মৃতিকে আরো স্পষ্ট করে তুলছে। তেহরান থেকে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা সোমবার কুম শহরে যাবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সারা দিন ধরে খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান চলছে। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো খামেনির কনিষ্ঠ নাতি-নাতনির ছবি, যা তার কফিনের পাশে রাখা হয়েছে। ছবিটি দেখে অনেক শোকাহত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

এদিকে, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মানুষের ঢল অব্যাহত রয়েছে। পুরো তেহরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত এখনো মানুষের মনে তাজা মনে হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব অন্তত সাময়িকভাবে জনগণের বড় একটি অংশকে নিজেদের পাশে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজ করার সময় মেশিনে হাত ঢুকে যায়, পরবর্তী ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


কাজ করার সময় মেশিনে হাত ঢুকে যায়, পরবর্তী ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের কারখানায় কাজ করার সময় একটি মেশিনে হাত থেঁতলে যাওয়ার ফলে ঘটেছে জাহাঙ্গীর আলম (২৩) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু।

ঘটনাটি রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফতুল্লার সিটি বোর্ড মিল নামের একটি কারখানায় ঘটে। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়া ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ছ্যাপড়াঝাড় গ্রামের মোহাম্মদ সুনীলের ছেলে। তিনি ফতুল্লা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন।

নিহতের মামা আব্দুর রহিম বলেন, জাহাঙ্গীর সাত বছর ধরে কারখানায় পুরোনো কাগজ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রাত ১২টার দিকে কাজ করার সময় অসতর্কতার কারণে হঠাৎ তার ডান হাত মেশিনের ভেতর ঢুকে যায়। এই দুর্ঘটনায় হাতটি সম্পূর্ণ থেঁতলে যায় এবং মাথার ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর তার সহকর্মী ও তিনি জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


পঞ্চদশ সংশোধনী: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের সাথে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয়ে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ড. শরীফ ভূঁইয়া।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ৩ নভেম্বর, বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা না থাকলে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই সব ক্লিনিকে ডেলিভারি রুমের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি এটি না করা হয়, তাহলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলাপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন অভিযান চলছে এবং লার্ভা নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি হাসপাতালসমূহে পর্যাপ্ত বেড এবং মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, স্যালাইনের ঘাটতি ছিলো তবে বর্তমানে পাইপ লাইনে অনেক আসছে এবং পরিস্থিতি পর্যাপ্ত।

তিনি আরো বলেন, জ্বর চলে যাওয়ার পরেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হলে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে না।

প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে কঠোর নজর দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং সরকার হামের ভ্যাকসিন দিতে সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী হবে নারীরা, যাদের অধিকাংশ মিডওয়াইফারি কর্মী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরবের ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


গৌরবের ৭৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পথচলার ৭৩ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একটি ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল, এবং আজ এটি এক বিশাল আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।

গৌরবময় এই দীর্ঘ চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি, ও জ্ঞানচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে জমা হয়েছে নতুন কিছু প্রত্যাশা। বিশেষ করে, আবাসন সংকট দূরীকরণ, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এখন প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৮৭৩ সালে রাজশাহী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও, পরবর্তীতে সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। তারপর রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৫০ সালে ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৫ জন ছাত্রনেতা কারাবরণও করেন।

অবশেষে, প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ এবং প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীর প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয় এবং ৬ জুলাই রাজশাহী কলেজে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান— দেশের প্রতিটি বাঁক পরিবর্তনে রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহারের আত্মত্যাগ এ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।

বর্তমানে ৩০৩ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের এই সবুজ ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী। জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত আছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ জন শিক্ষক। ১২টি অনুষলের অধীনে রয়েছে ৫৯টি বিভাগ ও একাধিক ইনস্টিটিউট। শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ১৭টি আবাসিক হল এবং গবেষকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।

সুদীর্ঘ এই সময়ে রাবি তৈরি করেছে বহু কালজয়ী মানুষ। ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ আব্দুল করিম, তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, কিংবা ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেনের মতো অসংখ্য গুণীজন এই ক্যাম্পাসেরই সৃষ্টি।

৭৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় আকাশচুম্বী সাফল্য থাকলেও আবাসন সংকট ও গবেষণায় সীমিত বরাদ্দের মতো কিছু চিরচেনা সমস্যা এখনো কাটেনি। বর্তমানে মাত্র ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলের সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে আবাসন সংকট ও হলের সিট বাণিজ্য বন্ধ করা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলকে সোমবার (৬ জুলাই) ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে ১০টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। পরে বেলুন-পায়রা ওড়ানো, আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয় উপস্থিত থাকবেন। বিকেলে স্টেডিয়ামে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%