১১:৩৭ এম
টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, এতে প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সংস্থাটির এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে যে, একদিনেই শিবিরগুলোতে ১৯৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নারী ও শিশু মিলিয়ে অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণহানি থেকে রক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত ৪৮৯টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে নতুন কুঁড়ির ভার্চুয়াল উদ্বোধনে অংশ নিলেন নূরুল ইসলাম এমপি
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, ‘বর্তমানে বায়ুচাপের ব্যাপক তারতম্য বিরাজ করছে। এর ফলে সমুদ্রবন্দর এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, বায়ুচাপের এই তারতম্যের কারণে প্রচুর মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকির সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আগাম সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে যেহেতু আগামী দুই-তিন দিন একই মাত্রার বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে ভূমিধসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্প-৯ থেকে ১৫ পর্যন্ত এলাকা ভূমিধস ও দুর্যোগঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। এসব ক্যাম্পে বসবাসকারীদের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। পাহাড়ে অনিরাপদ বসবাসের কারণে প্রতি বর্ষায় ভূমিধস, প্রাণহানি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। ফলে এসব রোহিঙ্গা সবসময় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় সময় কাটাচ্ছেন।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি) ডেইলি ইনসিডেন্টস ড্যাশবোর্ড রিপোর্ট তুলে ধরছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গত ৪ থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু ঘটেছে এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আরও পড়ুন: মদনে বাছুরকে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে প্রাণ গেল বৃদ্ধার
এ সময়ে ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি বন্যা এবং ৮৩টি ঝড়ের ঘটনা ছিল। ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি উদ্ধার, আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন