ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খান


নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীকে দলে ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়ে গেছে। এর ফলে জনগণ কেন তার আহ্বানে সাড়া দেবে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।

আজ বৃহস্পতিবার, নিজের ভরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা তুলে ধরেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, "নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যেতে বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীরা কাজে ফিরে গেলেন। নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও আর জড়ো হবে না। আশা করি তিনি এর প্রমাণ পেয়ে গেছেন।"

আরও পড়ুন: মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জামায়াত আমিরের

গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়কের এই মহা অধঃপতনের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, "কেন এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হলো? এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন?"

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, "নাহিদ ইসলামরা মনে করেছিলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে তারাই সব করেছিলেন। তারাই যে সব করেননি, সেটা তিনি যত বেশি অহংকারী হবেন, তত বেশি টের পাবেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কারা থাকছে আর কারা তাকে বর্জন করছে, তিনি কি উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন?"

যেখানে সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীদের ধরে রাখার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন, সেখানে জনগণ কেন তার ডাকে মাঠে নামবে, এই প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টের শেষে তোলেন রাশেদ খান।

আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ার ইঙ্গিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ সবার কাছে স্পষ্ট। আমরা হেরেছি ইরান যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পর গালিবাফ উপহাস করেছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি পোস্টে বলেন, ভ্যান্সের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি ‘হেরে যাওয়া জুয়াড়ির মতো’। তার টেবিল ছেড়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই।

গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ‘বস যখন পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কিনারায় দাঁড়িয়ে। এসব জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা বাদ দিন। আপনার বসকে এ কথা বলছে না কেন?’

ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয় হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। বুধবার এক দীর্ঘ এক্স পোস্টে ভ্যান্স আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ হলো এই যুদ্ধ।’

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে : তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে : তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য। "এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।"

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, "শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।" অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, "তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।"

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।" দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। "এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।" এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "তোমরা যদি পড়ালেখায় ভালো হও, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হও এবং তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিখতে পারো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না। একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দিতে হবে না, বরং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই দেশ তোমাদের। তোমাদেরই এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।"

এর আগে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মাঠ প্রদক্ষিণ করে গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোর ও ক্রীড়াবিদদের অভিবাদনের জবাব দেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা, স্টেডিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপি’র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।

তিনি দুপুরে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে বাগেরহাটে পীর খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করেন। পরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস আসে খুলনার প্রবেশদ্বার রূপসা উপজেলার তিলক কুদির তলায় নির্মিত পথসভার মঞ্চে। সেখানে তিনি বক্তৃতা করেন।

এ সময় অভ্যর্থনায় দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ তার কাছে পৌঁছানোর আগেই গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী মিশে যান সাধারণ মানুষের সাথে। কোনো প্রটোকল না মেনে জনগণের সাথে হাত মেলাতে থাকেন। তার এই আচরণে আনন্দে উদ্বেলিত হয় দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। পথসভা স্থলে উপস্থিত অনেককেই বলতে শোনা গেছে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এমন প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম। যিনি কোনো সভা-সমাবেশে গেলে মঞ্চে ওঠার আগেই জনগণের সাথে হাত মেলান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


কক্সবাজারে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের প্রত্যাশা

নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লি গড়ে উঠেছে পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম নিয়ে। এখানে প্রায় ৬শ’টি মহাল (শুঁটকি উৎপাদনের খামার) রয়েছে। জেলার টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপেও শুঁটকি উৎপাদনের খামার বিদ্যমান।

গত ২৯ অক্টোবর সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই কক্সবাজার উপকূলে শুঁটকি মাছ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার উপকূলে আট শতাধিক মহালে দৈনিক ১শ’ ৫০ মেট্রিক টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর জেলা থেকে ৫শ’ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা করছেন উৎপাদনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নাজিরারটেক এলাকার নেয়ামত এন্টারপ্রাইজ মহালে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছেন, এর মধ্যে ৯ জন নারী। সাবেকুন্নাহার নামের একজন নারী শ্রমিক বলেন, "এখন শুঁটকির ভরা মৌসুম চলছে। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর ৫ দিন আগে মাত তোরা (মাছ ধরা) আবার শুরু হয়েছে। এরপর থেকে শুটকি উৎপাদনে ধুম পড়েছে।"

কামাল ট্রেডার্স নামে একটি মহালে ৫০ মণ শুঁটকি রয়েছে। সেখানে নিয়োজিত শ্রমিক মামুনুল হক জানান, শীতকালে শুঁটকির চাহিদা বেশি থাকে। তবে শুঁটকি উৎপাদন মূলত নির্ভর করে সাগরে কী পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে, তার ওপর। ট্রলারের জালে বেশি মাছ ধরা পড়লে শুঁটকির উৎপাদনও বেড়ে যায়।

আলম এন্টারপ্রাইজ মহালের মালিক মো. আলম বলেন, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহালগুলোতে কাজ চলে। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণে আসা বিপুলসংখ্যক পর্যটক বাড়ি ফেরার সময় কয়েক কেজি করে শুঁটকি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন বাড়লে শুঁটকির চাহিদাও বাড়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের নাজিরারটেক শুটকি মহালে গিয়ে দেখা যায়, গভীর সাগর থেকে জেলেরা মাছ নিয়ে ঘাটে ভিড়ছেন। ব্যবসায়ীরা সেই মাছ কিনে মহালে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ধুয়েমুছে মাছগুলো শুঁটকি করার জন্য বাঁশের তৈরি মাচায় তুলে দিচ্ছেন শ্রমিকরা।

তিনি জানান, এসব মাছের মধ্যে বেশির ভাগ লইট্টা, ছুরি, পোপা, মাইট্যা, কামিলা, ফাইস্যা ও রূপচান্দাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। এসব মাছ সংগ্রহ করে ধুয়েমুছে তপ্ত রোদে ঘাম ঝরিয়ে শুঁটকি তৈরির কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন বেশির ভাগ নারী শ্রমিক। অনেক নারীই এ পেশাকে একমাত্র অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

নারী শ্রমিক রোকেয়া বেগম বলেন, "সাগর থেকে আহরণকৃত মাছ প্রথমে বেছে পৃথক করি। তারপর রোদে শুকাই। আমার তিন সন্তান রয়েছে। দু’জন স্কুলে পড়ে, খরচ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে আছি। তাই কয়েক বছর ধরে এ কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে।"

ব্যবসায়ীরা যা বলছেন:

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের ছোট-বড় ৬ শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁয় পর্যটকের জন্য খাবারের সঙ্গে শুঁটকির ভর্তা রাখতে হচ্ছে। তাই পর্যটক বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে শুটকির দামও বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ী মোস্তফা সরওয়ার বলেন, "১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করেন। চলতি মৌসুমে সাগরে মাছ কম, তাই দামও বেশি। সঠিক বাজারমূল্য পেলে আশা করছি লাভ হবে। এ পর্যন্ত এক কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।"

আমান ট্রেডার্স মহালের মালিক আমান উল্লাহ জানান, শীতের শুরুতে যে শুঁটকি উৎপাদিত হয়, তার কদর দেশব্যাপী। পুরোনো শুঁটকির তুলনায় নতুন শুঁটকির দাম প্রতি কেজিতে ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি। আগামী মে পর্যন্ত এ শুঁটকি উৎপাদন চলবে।

নাজিরটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ বলেন, মহালে উৎপাদিত শুঁটকি ব্যবসায়ীরা কিনে এনে প্রথমে গুদামে মজুত করে রাখেন। তারপর প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার শুঁটকি ট্রাকবোঝাই করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়। গত ৫ দিনে ৩০ ট্রাক (প্রতি ট্রাকে ১২-১৩ টন) শুঁটকি পাঠানো হয়েছে। এবার চড়া মূল্যে কাঁচা মাছ কিনতে হচ্ছে বলে গত বছরের তুলনায় শুঁটকির দাম অনেক বেড়েছে বলে জানান নেয়ামত উল্লাহ।

স্থানীয় মহাল ও বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মহালে উৎপাদিত প্রতি কেজি ছুরি শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’, লইট্যার কেজি ৫শ’ থেকে ১২শ’, ফাইস্যা ৩শ’ থেকে ৩শ’ ৫০, পোপা ৫শ’ থেকে ৮শ’, মাইট্যা ১২শ’ থেকে ১৫শ’, রূপচাঁদা ৩২শ’ থেকে ৩ হাজার ৭শ’, লাক্ষ্যা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩শ’ ও কোরাল ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায়।

স্থানীয় খুচরা বাজারে এসব শুঁটকি কেজিতে আরও ৫০ থেকে ২শ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুঁটকির দাম গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় শুঁটকি উৎপাদন হয়ছিল ৩৯ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২০২৭) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার মেট্রিক টন। তবে প্রতিদিন যে পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলার এ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, শীত মৌসুমের শুরুতে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিবছর মূলত অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে শুঁটকি উৎপাদন চলে শীতকাল জুড়ে।

বাংলাদেশ শুঁটকি মাছ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল শুক্কুর জানান, জেলার অন্তত ৪০টি মহাল থেকে গত বছর হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় শুধু পোপা শুঁটকি রপ্তানি করে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা আয় করা হয়। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর শুঁটকি রপ্তানি থেকে ৩শ’ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশি রপ্তানি হয় পোপা শুঁটকি। কারণ পোপা শুঁটকি দিয়ে সুস্বাদু স্যুপও তৈরি হয়।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ভ্রমণে আসা পর্যটকসহ দেশের মানুষকে বিষমুক্ত শুঁটকি সরবরাহ করতে কাজ চলছে। গত বছর কক্সবাজারে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছিল। পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার শুঁটকির উৎপাদন ৫শ’ কোটি টাকার কাছাকাছি যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম আলিবাবা ডটকমের ভেরিফায়েড সাপ্লায়ার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, পারসোনাল কেয়ার, হোমকেয়ার ও বেবিকেয়ার পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড।

এই উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি আলিবাবার বাংলাদেশি এজেন্ট স্কাইটেক বিয়ন্ড লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আলিবাবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সেবা সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রিমার্কের করপোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রিমার্কের পক্ষে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের এডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর শুভ কুমার সাহা এবং স্কাইটেক বিয়ন্ডের চিফ অপারেটিং অফিসার রিদওয়ান আহমেদ চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিমার্কের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান আরিফুল ইসলাম, রিমার্ক সুপার প্যাক চ্যানেলের প্রধান জয়ন্ত সরকার এবং স্কাইটেক বিয়ন্ডের অপারেশন ম্যানেজার ফয়সাল মাহমুদ দোলন ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সাকিব খানসহ আরও অনেকে।

চুক্তির আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে আলিবাবা প্ল্যাটফর্মে রিমার্কের লিলি, নিওর, সিওডিল, স্কিনমিন্ট, অরিক্স, সানবিট, একনল ও লিটল ওয়ানসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্কিনকেয়ার, পারসোনাল কেয়ার, কালার কসমেটিকস, হেয়ার কেয়ার, হোমকেয়ার ও বেবি কেয়ারের এক হাজারের বেশি পণ্য তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

জানা যায়, পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি খুচরা ও পাইকারি অর্ডারের কাস্টমাইজড প্যাকেজিং, মোল্ড, বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি এবং উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সেবাও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে স্কাইটেক বিয়ন্ডের সিওও রিদওয়ান আহমেদ মন্তব্য করেন, "আলিবাবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে শুধু তৈরি পণ্য নয়, উৎপাদন ও প্যাকেজিং খাতের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গেও রিমার্কের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। বিশেষ করে নিজস্ব ব্র্যান্ডের জন্য কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার ও পারসোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদন, কাস্টমাইজড প্যাকেজিং কিংবা সংশ্লিষ্ট শিল্পসেবা নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো আলিবাবার মাধ্যমে রিমার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।"

অপারেশন ম্যানেজার ফয়সাল মাহমুদ দোলন বলেন, "আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক বিটুবি প্ল্যাটফর্মে রিমার্কের পণ্য তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে পণ্য উপস্থাপন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ কার্যক্রমকে কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়, পণ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিষয়গুলোতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।"

রিমার্কের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান আরিফুল ইসলাম জানান, "বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আলিবাবাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রিমার্কের উপস্থিতি আরও সুসংহত করতে চাই আমরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের কাছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য পৌঁছে দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"

এডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর শুভ কুমার সাহা বলেন, "আলিবাবার সঙ্গে এ সংযুক্তি রিমার্কের গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের গুণগত মান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণের পথ আরও সুগম হবে।"

প্রসঙ্গত, রিমার্কের রয়েছে নিজস্ব অত্যাধুনিক ফ্যাক্টরি। গবেষণা ও উন্নয়ন, উন্নত ফর্মুলেশন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য উৎপাদন করছে। এসব পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভারত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা ও মান ব্যবস্থাপনার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আইএসও ও সিজিএমপি সনদের পাশাপাশি বিএসটিআই ও হালাল সনদ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%