ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গ্রেপ্তার ৬ জন কারাগারে


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গ্রেপ্তার ৬ জন কারাগারে

গোপালগঞ্জের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গ্রেফতারকৃত ৬ জনকে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে। বিজ্ঞ বিচারক জেলা কারাগারে তাদের পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর তাদের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া ইউনিয়নের বাজুনিয়া গ্রামের মনা মার্কেট এলাকা থেকে পুলিশ ওই ৬ জনকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠি গ্রামের ঠান্ডা মোল্লার ছেলে রাতুল মোল্লা, আহমেদ শেখের ছেলে মুন্না শেখ, মোহাম্মদ রিপন শেখের ছেলে রিফাত শেখ, মাঝিগাতি গ্রামের জাকির শেখের ছেলে রিশাদ শেখ, চর সোনাকুড় গ্রামের শারাফত শেখের ছেলে মেহেদী হাসান এবং রমজান আলীর ছেলে হৃদয় খান।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার, গোপালগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান রিপনের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাজুনিয়া গ্রামের মনা মার্কেট এলাকায় মিছিল বের করেন। এই সময়ে তারা বিভিন্ন ধরনের কটুক্তিমূলক শ্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ জনকে গ্রেফতার করে, অন্যরা পালিয়ে যায়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের করার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আক্তাদের সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার বলে কোর্টে চালান করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক নীতিতে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক নীতিতে ইরান

ইরান ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক নীতির ঘোষণা করেছে, যা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে পরিবর্তন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক মতবাদ ধীরে ধীরে ‘আক্রমণাত্মক’ নীতিতে সরে যাচ্ছে।

এছাড়া ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যদি দেশটিতে কোনও স্থল অভিযান হয়, তাহলে মার্কিন সেনা হত্যা বা আটক করা হলে একটি পুরস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য প্রদান করেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।

তিনি বলেন, অতীতে ইরানের সামরিক মতবাদ ছিল প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ এবং ‘৪০ দিনের যুদ্ধের’ অভিজ্ঞতা থেকে সেই অবস্থানে পরিবর্তন ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, “সামরিক মতবাদ অতীতে প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে এই দুই যুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, সামরিক মতবাদ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

তবে আক্রমণাত্মক সামরিক মতবাদ গ্রহণের ফলে সব ক্ষেত্রে আগাম হামলা চালানো যাবে না বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, এর অন্যতম দিক হবে শত্রুর হামলার দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রাথমিক হামলার চেয়েও বিস্তৃত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া।

আকরামিনিয়া দাবি করেন, যুদ্ধের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সরাসরি প্রবেশের আগেই ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। তার দাবি মতে, ওই হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম, স্থাপনা ও জনবলের ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ হয়।

তিনি বলেন, নতুন এই সামরিক মতবাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ইরানের ওপর কোনও হামলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত দেওয়া। সেই জবাব শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের হামলার সমপরিমাণ হবে না, বরং আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর মাধ্যমে দ্রুত ও বিস্তৃত পাল্টা হামলা এবং কিছু ক্ষেত্রে আগাম অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে ইরানের সামরিক মতবাদের এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকে পুরস্কারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে, আকরামিনিয়া বলেন, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবেলায় সেনাবাহিনী একটি বিশেষ পুরস্কার কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে।

তিনি জানান, যদি কোনও মার্কিন সেনা ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং তাকে হত্যা বা আটক করা হয়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য অথবা বৈধ শিকারি নাগরিককে ৫ বিলিয়ন তোমান পুরস্কার দেয়া হবে। এই অর্থের মান প্রায় ২৬ হাজার ডলার।

নারীদের ক্ষেত্রে, তারা যদি কোনও মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে, তাহলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১০ বিলিয়ন তোমান, অর্থাৎ প্রায় ৫৩ হাজার ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আকরামিনিয়া জানান, অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও তার মূল্যের দ্বিগুণ দামে কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পরে এই অস্ত্রটি মালিকের নামসহ সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে এবং তাকে একটি বিকল্প অস্ত্র প্রদান করা হবে।

সামরিক কমান্ড কাঠামোয় পরিবর্তনের ব্যাপারে তিনি জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর কাঠামোতে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সকে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্য হলো ইরানের সেনাবাহিনীকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা। এটির মাধ্যমে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

আকরামিনিয়া আরো দাবি করেন যে, এই একীভূত কাঠামোর ফলে হুমকির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি, সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয়ও আরও কার্যকর হবে।

কাতারে নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের বিষয়ে তিনি জানান, ইরানের চারজন এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমানের পাইলটের বিষয়ে কাতারের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় অংশ নেওয়া চার পাইলটের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি নিহত হয়েছেন এবং পরে তাকে ইরানের শিরাজ শহরে দাফন করা হয়েছে। তবে বাকি তিন পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

আকরামিনিয়া বলেন, বিষয়টি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনী কাতার এবং আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে অনুসরণ করবে।

তিনি কাতারকে ওই তিন পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আকরামিনিয়া সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তার দাবি হল, এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর গঠন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

আকরামিনিয়া বলেন, ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আগের চেয়ে কমেছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এই বক্তব্য সেই মুহূর্তে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে দেশটি তার সামরিক কৌশল ও কমান্ড কাঠামো নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার এই ঘোষণা ভবিষ্যতে ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কর্মকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী সোমবার ইউক্রেনের মিত্রদের বৈঠক, নেতৃত্বে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


আগামী সোমবার ইউক্রেনের মিত্রদের বৈঠক, নেতৃত্বে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের পাশে থাকা দেশেরগুলোর আগামী সোমবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্ধারিত বৈঠকটি ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের দিন অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে কিয়েভের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ নিশ্চিত করেছে যে, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এই জোটের বৈঠকটি যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

এলিসি প্রাসাদ থেকে জানা গেছে, মাখোঁ অনলাইনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

একজন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কোস্তাসহ প্রায় ১০ জন নেতা জোটের বৈঠকে যোগ দিতে কিয়েভে উপস্থিত থাকতে পারেন।

ন্যাটো জানিয়েছে, জোটটির উপমহাসচিব রাদমিলা শেকেরিনস্কা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বৈঠকে অংশ নেবেন।

এদিকে, মস্কো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দেওয়ার সময়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কোর ‘উত্তেজনা বাড়ানোর’ বিরোধিতা করে বিশ্ববাসীকে সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানালেন।

গেল জুলাইয়ে জেলেনস্কিসহ জোটের ৩৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর ১৬তম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এই জোট প্রতিষ্ঠা করেছে।

সর্বশেষ বৈঠকে ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইউক্রেনে মোতায়েন করা হতে পারে এমন বাহিনীর মহড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


মধুপুরে জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শরিকদের জমি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে মধুপুর প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী শরিক, স্বজন ও এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লাবনী আক্তার। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মধুপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পুন্ডুরা (বড়বাজার) গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিন খানের ছেলে বজলুর রশিদ খান চুন্নু শরিকদের জমি গোপনে ক্রয় ও বিভিন্ন ধরনের জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মৌজায় শরিক ও অন্যান্য ব্যক্তির জমি নিয়ে গোপনে লেনদেন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা তাদের জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে নানা জটিলতার মধ্যে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শরিক, তাদের স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শরিকদের প্রতিনিধি মোনছের আলী খান, ছানোয়ার হোসেন খান, ফারুক খান, শিরিনা খানম, হবি খান, বিল্লাল খান, লাবনী খানম, ফিরোজা আক্তার, মিনা, মমতা আক্তার, আশিক খান, আজহার আলী, মুক্তার আলী, আলম, জলিল, রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বজলুর রশিদ খান চুন্নু শরিকদের জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়েছেন। জমির রেকর্ড সংশোধনের বিষয়ে কথা বললে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বজলুর রশিদ খান চুন্নু, ইব্রাহিমসহ সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জমির রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মালিকদের নামে পুনরায় রেকর্ড করারও দাবি জানান তারা।
এলাকাবাসী বলেন, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত জমি বিরোধ নয়; এর সঙ্গে একাধিক মানুষের সম্পৃক্ততা ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন জড়িত। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও নেতানিয়াহুর ভাইকে সম্মান, উগান্ডার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও নেতানিয়াহুর ভাইকে সম্মান, উগান্ডার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী?

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া উগান্ডা এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য উন্মোচন করেছে। উক্ত ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক এন্টেবে বিমানবন্দর জিম্মি উদ্ধার অভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে।

রাজধানী কামপালা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওল্ড এন্টেবে টার্মিনালে উগান্ডার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা ভাস্কর্যটি উন্মোচন করেন। তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র।

তবে গাজায় চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ ভাস্কর্য উন্মোচনের ঘটনা এবং সম্প্রতি গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীর অধীনে উগান্ডার সেনা মোতায়েনে পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

উন্মোচন অনুষ্ঠানে জেনারেল কাইনেরুগাবা এ স্মারকটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, "এই স্মারক শুধু একজন বীর সেনাকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং বিপদের সময় সাহস এবং নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষায় তাঁর প্রতিশ্রুতি ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।"

হাতে মেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর এই ভাস্কর্যটি উগান্ডা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ময় ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে উগান্ডার স্থানীয় রাজনীতিক এবং সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি এই উদ্যোগকে দেশটির সার্বভৌমত্বের অবমাননা হিসেবে দেখছেন। সাবেক আঞ্চলিক বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসুমান কিয়িঙ্গি দ্য অবজারভারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্মারকটিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সরানোর দাবি জানিয়েছেন।

কিয়িঙ্গি বলেন, "উগান্ডা এমন একজন বিদেশি সামরিক কমান্ডারকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত, যিনি উগান্ডার সম্মতি ছাড়াই দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন।" তিনি যুক্তি দেন যে, এন্টেবে বিমানবন্দর রক্ষা করতে গিয়ে নিহত উগান্ডার সেনাদের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

তাঁর মতে, এই উদ্যোগ একটি বার্তা দিচ্ছে যেখানে আফ্রিকান সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে বিদেশি সামরিক শক্তিকে উঁচুতে তুলে ধরা হচ্ছে।

১৯৭৬ সালের ২৭ জুন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিন এবং জার্মানির একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা তেল আবিব থেকে প্যারিসগামী এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান ছিনতাই করে উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। বিমানটিতে থাকা ২৪৮ জন আরোহীর মধ্যে ১০৫ জন ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক।

উগান্ডার তৎকালীন স্বৈরশাসক ইদি আমিন অপহৃতদের অভ্যর্থনা জানান এবং ছিনতাইকারীদের সমর্থন করেন। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে এই জিম্মি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ৩ জুলাই, ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা উগান্ডা সরকারের অনুমতি ছাড়াই এন্টেবে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ১০২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেন।

অভিযানে ৪৫ জন উগান্ডার সেনা এবং সব ছিনতাইকারী নিহত হন, এবং অভিযানটি পরিচালনাকারী ইসরায়েলি কমান্ডো দলের প্রধান ইয়োনাতান নেতানিয়াহুই ছিলেন অভিযানে নিহত একমাত্র ইসরায়েলি সেনা।

এ ঘটনাটি ইসরায়েলে অপারেশন থান্ডারবোল্ট নামে পরিচিত, তবে পরে ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর সম্মানে এর নাম বদলে অপারেশন জোনাথন রাখা হয়। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তাঁর ছোট ভাই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

উগান্ডা ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ইতিহাসও নজরকাড়া। ১৯৬২ সালে স্বাধীনতার পর উগান্ডার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি ১৯৭১ সালে ইদি আমিনের ক্ষমতা দখলের পেছনেও ইসরায়েলি সমর্থনের ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ১৯৭২ সালে ইদি আমিন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং দেশটির সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করেন। ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবারও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। মুসেভেনি একাধিকবার ইসরায়েল সফর করেন এবং দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হয়।

পরবর্তীতে এন্টেবে অভিযানের ঘটনাকে উগান্ডার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের একটি প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়। ২০১৬ সালে অভিযানের ৪০ বছর পূর্তিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এন্টেবে সফর করেছিলেন।

উগান্ডার রাজনীতিতে প্রভাবশালী খ্রিষ্টান জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগও বেড়েছে। তবে এর মধ্যেও কামপালা নীতিগতভাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা একাধিক প্রস্তাবের পক্ষেও ভোট দিয়েছে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও ধর্মীয় কূটনীতির মাধ্যমে ইসরায়েল উগান্ডার ওপর কিছুটা প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করলেও দেশটির মূল পররাষ্ট্রনীতিতে পুরোপুরি পরিবর্তন আনা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%