মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করে, তাহলে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য দেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুতের পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে এলপিজির সংকট নেই, যা নিশ্চিত করেছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে। সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বাজারদর পর্যালোচনা করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
উপদেষ্টা জানান, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি না করেন, সে বিষয়ে মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে পণ্যের বাজারে এক ধরনের জল্পনামূলক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, যা দাম বাড়ানোর কারণ হতে পারে। সরকার এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে দেশ অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে এবং বর্তমানে সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
অনলাইন নিরাপত্তা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হলে সমাজে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার অনেকটাই কমে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে।
বিদায়ী সাক্ষাৎকালে, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা চীনা রাষ্ট্রদূতের গঠনমূলক ভূমিকা ও অবদানের জন্য প্রশংসা করেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ছিল। তিনি চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান, যা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত যৌথ উদ্যোগের পরিধি আরও বেগবান ও সুদৃঢ় হবে।
বিদায়ী চীনের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ চীনের একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার। তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারি বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে পাওয়া জামিনের মেয়াদ আদালত বৃদ্ধি করেছেন। পাশাপাশি, এ মামলার চার্জ গঠন শুনানির তারিখও পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তানজিন তিশার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিশা। এর আগে, গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।
জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বলেন, "২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা—এমন কিছুই করিনি।"
এ সময় তিনি আরো বলেন, "একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সব কিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে, তাকে চিনি না।"
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের অ্যাডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আমি আদালতকে অনেক সম্মান করি। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস থেকে যদি আদালতে আরো পাঁচবার আসা হয়, আমি আসব। এই মামলায় ন্যায়বিচার নিয়েই আমি এখান থেকে যাব।’—এভাবে ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে এসব মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন ও চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তানজিন তিশা আরও বলেন, ‘হয়তো অনেকে মনে করেন, কেন আদালতে আসলাম, বারবার আদালতে আসি। আমি আদালতে বারবার আসব।’
তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জানিয়েছেন, জামিন বর্ধিতকরণের পরবর্তী তারিখ ও চার্জ শুনানির দিন আদালত থেকে বিকেলে জানানো হবে।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তানজিন তিশা। এর আগে, গত ১২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।
জামিন পাওয়ার পর তানজিন তিশা বলেছিলেন, ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তাকে আদালতে আসতে হয়েছে। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন বলেই আদালতে এসেছেন বলেও জানান। মামলায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে দাবি করে শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও সেদিন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজটির এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। পরে ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) থানার বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ এবং বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে তিনি হাকিমপুর থানা ছেড়ে চলে যান।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ পরিদর্শক মো. জাকির হোসেনকে দিনাজপুর জেলা থেকে লালমনিরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, থানায় সেবা নিতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজনকে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হয়েছে। সরকারি গাছ অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। যা অভিযোগ গুলোর তদন্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় দুলালি বেগমসহ কয়েকজন অভিযোগকারীও ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোতে পুলিশি হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট জেলায় বদলি করা হলো। তবে বদলির আদেশে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এরমধ্যে একটি বিভাগীয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও সূত্রগুলো দাবি করেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেনকে লালমনিরহাটে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি কারণ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ