মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
‘আমি আদালতকে অনেক সম্মান করি। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস থেকে যদি আদালতে আরো পাঁচবার আসা হয়, আমি আসব। এই মামলায় ন্যায়বিচার নিয়েই আমি এখান থেকে যাব।’—এভাবে ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে এসব মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন ও চার্জগঠন সংক্রান্ত শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তানজিন তিশা আরও বলেন, ‘হয়তো অনেকে মনে করেন, কেন আদালতে আসলাম, বারবার আদালতে আসি। আমি আদালতে বারবার আসব।’
তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জানিয়েছেন, জামিন বর্ধিতকরণের পরবর্তী তারিখ ও চার্জ শুনানির দিন আদালত থেকে বিকেলে জানানো হবে।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তানজিন তিশা। এর আগে, গত ১২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।
জামিন পাওয়ার পর তানজিন তিশা বলেছিলেন, ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে তাকে আদালতে আসতে হয়েছে। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন বলেই আদালতে এসেছেন বলেও জানান। মামলায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে দাবি করে শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও সেদিন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজটির এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। পরে ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) থানার বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ এবং বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে তিনি হাকিমপুর থানা ছেড়ে চলে যান।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (বিপিএম-সেবা) স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ পরিদর্শক মো. জাকির হোসেনকে দিনাজপুর জেলা থেকে লালমনিরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, থানায় সেবা নিতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজনকে মামলা ও পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো হয়েছে। সরকারি গাছ অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। যা অভিযোগ গুলোর তদন্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় দুলালি বেগমসহ কয়েকজন অভিযোগকারীও ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোতে পুলিশি হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের মধ্যেই তাকে দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট জেলায় বদলি করা হলো। তবে বদলির আদেশে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওসি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এরমধ্যে একটি বিভাগীয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও সূত্রগুলো দাবি করেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, হাকিমপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেনকে লালমনিরহাটে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি কারণ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, যানজট নিরসনসহ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের চতুর্থ তলার কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, রাণী ভবানী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছেদ, মধুপুর সরকারি কলেজের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারমিন সুলতানা সুমি এবং ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ হোসেন প্রমুখ।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদকের বিস্তার রোধ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সড়কে যানজট নিরসন এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিসহ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উখিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ১৫ বছরের কিশোর মো. জসিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। এ অভিযানের সময় জামাল হোসেন (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজংপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরকে উদ্ধার করা হয় এবং জামালকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-১৫ এর সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোর মো. জসিম ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দক্ষিণ লেঙ্গুর বিল এলাকায় নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কিশোরের বাবা সৈয়দ আহমদের ব্যবহৃত ইমো নম্বরে ফোন করা হয়। ফোনে জানানো হয় যে জসিমকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তার মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
এ ঘটনার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর কিশোরকে উদ্ধারের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে এসআরবি-১৫, সিপিসি-২ এবং হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।
মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া থানার রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজংপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে অপহৃত জসিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণকারী চক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার জামাল হোসেন টেকনাফ থানার হাতিয়ার ঘোনা এলাকার বশির আহমদের ছেলে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।
পরে গ্রেফতার জামাল হোসেন এবং উদ্ধার হওয়া কিশোর জসিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, শিশুর হেফাজত বা জিম্মা সংক্রান্ত পারিবারিক আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে যদি আপিলের স্পষ্ট সুযোগ থাকে, তাহলে হাইকোর্টে সরাসরি হেবিয়াস করপাস রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এক গর্ভধারিণী মায়ের দায়ের করা হেবিয়াস করপাস রিটের রুল খারিজ করে বিচারকদ্বয় এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই এই রায় দেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২১ পৃষ্ঠার রায়ের মূল অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি কাজী জিনাত হক রায়ের মূল অংশটি লেখেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন ও আইনজীবী প্রিন্স আল মাসুদ। বিবাদী পক্ষে (বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক দম্পতি) ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফৌজিয়া করিম ফিরোজ ও আইনজীবী কাজী মারুফুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ও নূর মোহাম্মদ আজমী। ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. লুৎফর রহমান।
মামলার পটভূমি
প্রকাশিত রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুরের এক পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. জসিম উদ্দিন ও রোজিনা আক্তার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান (বাসমিন আবরাব) ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই সাভারের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয়। পরে শারীরিক জটিলতার কারণে শিশুটিকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রিটকারীর দাবি, সে সময় দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সহিংসতা ও কারফ্যু পরিস্থিতির কারণে অর্থ জোগাড় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সাময়িকভাবে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে হাসপাতালের বকেয়া বিলের জন্য ৮-৯ লাখ টাকা দাবি করা হলে তারা গ্রামে গিয়ে ভিটেমাটি বিক্রির চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও থানায় একটি জিডি করে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে আজিমপুর ছোটমনি নিবাসে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে একতরফা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক দ্বৈত নাগরিক (বাংলাদেশি-যুক্তরাজ্য) পরিবার ঢাকার পারিবারিক আদালত থেকে শিশুটির অভিভাবকত্ব ও জিম্মা লাভ করে। সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরে শিশুটির মা রোজিনা আক্তার হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস রিট দায়ের করেন।
অন্যদিকে বিবাদী পক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পিতা-মাতা শিশুটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে রেখে গিয়ে আর যোগাযোগ করেননি, যা সন্তানকে ‘পরিত্যাগ’ করার শামিল। তাই বাধ্য হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে উদ্ধার ও পরবর্তীতে আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে দত্তক/জিম্মা প্রদান করা হয়।
হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণ
রিট আবেদন ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, পিতা-মাতা সন্তানকে স্বেচ্ছায় ‘পরিত্যাগ’ করেছিলেন নাকি রাজনৈতিক সংঘাত ও আর্থিক অনটনের কারণে সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করেছিলেন-এটি একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়। রিট এখতিয়ারের সংক্ষিপ্ত শুনানিতে এ ধরনের বিতর্কিত বিষয়ের সত্যতা নিরূপণ সম্ভব নয়।
হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ দেন, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের যেকোনো ডিক্রি বা নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিলের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। যেখানে বিশেষায়িত আইন ও আপিল ফোরাম বিদ্যমান, সেখানে সরাসরি হাইকোর্টে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করা অনুচিত।
এই আইনি পর্যালোচনার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন এবং পূর্বের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করেন। তবে রায়ে স্পষ্ট করা হয় যে, গর্ভধারিণী মা তার সন্তানের জিম্মা ও অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য আইনসম্মত বিচারিক ফোরামে আইনগত প্রতিকার চাইতে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ