০৭:৫১ পি.এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের আকস্মিক বিক্ষোভ চলাকালীন, যখন পুলিশ রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিরোধী দলনেতা দাবি করেন যে তিনি পুলিশ থেকে একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা পেয়েছেন। রাহুল জানান, আটকের সময় পুলিশ কর্মীরা তার কানে ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘এই সরকারকে হটান’।
বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় কীভাবে ‘কারচুপি’ হচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাহুল এই ঘটনার কথা তুলে ধরেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের বাইরে নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন, যা নিরাপত্তাকর্মীদেরও অপ্রস্তুত করে দেয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও রাহুল সেখান থেকে সরতে রাজি না হওয়ায়, দিল্লি পুলিশ এলাকাটি খালি করতে তৎপর হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নাটকীয় কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে পুলিশ হাত ও পা ধরে জোর করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাহুলের দাবি, এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পুলিশ কর্মীরা মোদি সরকারের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: তালেবান: পাকিস্তান ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে
তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তারা আমার কানে ফিসফিস করে বলছিল, এই সরকারকে হটান। আমি রাজস্থান থেকে এসেছি। আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা তো শুধু উর্দি পরে আছি।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, তাদের (পুলিশের) ওপর নির্দেশ আছে, তাই তারা সেটা পালন করছে। এমনকি পুলিশও বর্তমান পরিস্থিতিতে খুশি নয়। তারা জানে যে এখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তারা এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের সন্তানদের দেখতে পায়।
উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে আটক থাকা এই কংগ্রেস সাংসদকে মঙ্গলবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাহুল তার বিরুদ্ধে পুলিশের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর স্বার্থের কাছে একটি ‘সামান্য মূল্য’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মূল লক্ষ্য হলো ‘শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইচ্ছা প্রকাশ করা’।
জাপানি মার্শাল আর্ট আইকিডোতে ব্ল্যাক বেল্ট অধিকারী রাহুল বলেন, আমার এসব ঘুষি-টুষি খাওয়ার অভ্যাস আছে। এটা কোনো ব্যাপার না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে এটাই আমার কাজ। যেখানে কষ্ট আছে, সেখানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা আমার দায়িত্ব। এগুলো খুবই সামান্য মূল্য। তাই দু-একটা ঘুষি খাওয়া, এটা কোনো ব্যাপার না। আমি এমন আরও অনেক আঘাত সানন্দে নিতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: সৌদিতে আটকে পড়া ৪০ ওমরাহ পালনকারী দেশে ফিরলেন
বুধবার সংসদে বিরোধীদের সর্বাঙ্গীণ কালো পোশাক পরিধানের সঙ্গে মিল রেখে, প্রতিবাদস্বরূপ একটি কালো আর্মব্যান্ড পরে রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তার আক্রমণের পরিধি আরও বিস্তৃত করেন। গত ২০ জুলাই সংসদের দিকে পদযাত্রা করা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মম দমন-পীড়নের মধ্যেই তার এই প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ ছিল না। রাহুলের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল এনডিএ শাসনামলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, যা তার মতে সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল দাবি করেন, গত এক দশকে ‘১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস’ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, অথচ ‘কারও শাস্তি হয়নি’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মানে প্রতি মাসে একটি করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, যা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকার পুরো শিক্ষা বাজেটে যা ব্যয় করে, পরিবারগুলো একটি মাত্র পরীক্ষার পেছনে তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে।
নিজের বক্তব্যের শেষে বিরোধী দলনেতা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আক্রমণ করে তাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। প্রধান একজন দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য মানুষ। তাকে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর আটক সাথী আক্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন