০৬:২৩ পি.এম
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানি খালে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। শনিবারের এই পরিস্থিতি কালের কণ্ঠের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবেই সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে পায়রা সমুদ্র বন্দরের কর্তৃপক্ষ ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। এর ফলে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় শত শত মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সাগরে জেলেরা মাছ শিকার প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। এই অবস্থায় জেলে এবং ট্রলার মালিকরা আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছেন।
শনিবার স্থানীয়ভাবে ঘুরে দেখা যায়, পাথরঘাটার বিএফডিসি (নতুন বাজার) খাল, পদ্মার খাল, বাদুরতলা, জিনতলা, কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে শত শত মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। শুধু পাথরঘাটা নয়, দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ট্রলারগুলোও ইতিমধ্যেই এসব জলাশয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে।
জেলেদের কাছে জানতে বাতিল হয়, গত ১১ জুন সাগরে মাছ ধরার জন্য ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এরপর থেকেই ইলিশ ও অন্যান্য মাছ আহরণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মধ্যে পড়েছে। পরে ধারদেনা করে আবার সাগরে গেলেও বৈরী আবহাওয়া তাদের দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য করেছে। তাদের অভিযোগ, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে এক থেকে চার লাখ টাকা ব্যয় হলেও এবার সেই অর্থের সিংহভাগেরই প্রত্যাবর্তন হয়নি।
পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রলার এফবি মাহাদীর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, ‘সাগরে মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। তবে দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ নিয়ে আবারো ট্রলার সাগরে পাঠালেও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। বর্তমানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: চাটখিলে সাংবাদিক এস কে সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ
চট্টগ্রামের ট্রলার এফবি মাসুম ৩- এর মাঝি সোনা মিয়া বলেন, ‘সাগর এতটাই উত্তাল যে, সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাথরঘাটায় এসে ট্রলার নোঙর করেছি।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্খিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা লোকসানে ছিলেন। তার মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন বলে আশা করছি।’
পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদেরকে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে। যখন আবহাওয়া অনুকূলে আসবে তখন তারা আবার সাগরে যেতে পারবেন।’
আরও পড়ুন: ভৈরব রেলস্টেশনে ৩ ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্ট, ভিসা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন