০৬:২৪ পি.এম
বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘বসন্তের কোকিল’ ও চরম সুবিধাবাদী হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ ওঠা হাফেজ মো. শাহ আলমকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দলে সক্রিয় থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে শাহ আলম নিজেকে বিএনপির ‘দুঃসময়ের নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহ আলম নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে তিনি নিজেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, শাহ আলম পূর্বে চরমোনাই সাংগঠনিক থানা শাখার ৩ নম্বর ওয়ার্ড (শালুকা) *ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)*-এর বরিশাল সদর উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, শাহ আলম ব্যক্তিগত বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মাসুমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
তাদের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম মাসুম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিক রাজনৈতিক মামলা, হামলা ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় নেতাদের দাবি, দলের দুঃসময়ে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন, অথচ বর্তমানে সুযোগসন্ধানীরা বিএনপির পরিচয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মার্চ ২০২৬ দিবাগত রাতে (মামলার বর্ণনা অনুযায়ী ৭ মার্চের প্রথম প্রহরে)। আদালতে দায়ের করা *সি.আর. মামলা নং-৫১৪/২০২৬ (কোতোয়ালি)*-এর অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহ আলমের ভাই কামাল সিকদার ওরফে ‘সুদি কামাল’ এবং তার ভাইপো আয়নাল খানের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাগুড়া এলাকায় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম মাসুমের বাড়িতে হামলা চালায়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় মাসুম বাড়িতে না থাকায় হামলাকারীরা ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্ত্রী লাবণ্য আক্তারের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লাবণ্য আক্তার বাদী হয়ে কামাল সিকদার, আয়নাল খান, মো. শাহ আলম সিকদারসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৮০, ৩৮২, ৪২৭, ৪৪৭, ৪৫২ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
চরমোনাই ইউনিয়নের বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সাম্প্রতিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহ আলমের ভূমিকা দলীয়ভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম মাসুমের বাড়িতে হামলা ও ডাকাতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের দাবি ও মামলার এজাহারভিত্তিক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম বা অন্য আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন