ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিতের ঘোষণা এমপি বকুলের


হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিতের ঘোষণা এমপি বকুলের

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধির খবর অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। এর সঙ্গে প্রতিটি হত্যার হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে। প্রত্যেকটি লাশের জবাব দিতে হবে।’

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুরে স্থানীয় আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত তিনজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি এক সভায় বলেন, ‘একটি পক্ষ প্রতিশোধ নিতে এবং মানুষ হত্যার জন্য এলাকায় এসেছিল। তারা এলাকায় উঠার জন্য আসেনি। এদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মুখে চুনকালি দিতে আসা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা লাঠিসোটা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হউন। যদি বাইরে থেকে কোনো সন্ত্রাসী আসে তাহলে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন এবং পুলিশকে বিনা দেরিতে খবর দেবেন। রায়পুরার চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নে কাউকে অন্যায় প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ধর্ষণ, চুরি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৯

অন্যদিকে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। গত ১৬ জুন ভোরে তারা স্পিডবোট যোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। সেই সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতার মাধ্যমে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ হিসেবেই নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছিল।

বিরোধের পর সংঘর্ষটি হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক ২০ বছর বয়সী অনিক নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকে আলাল মুন্সির সমর্থক প্রবাসফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার এক দিন পর (১৭ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর (১৮ জুন) সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এভাবে দুই প্রবাসী কাউছার এবং লতিফসহ তিনজন নিহত হয়েছে, একই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ আছেন বুলবুল মিয়া।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘হত্যায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলমান আছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত অনিকের মা বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। অন্য দুটি হত্যার ঘটনায় এখনও থানায় মামলা হয়নি।’

আরও পড়ুন: বিরোধী দল কোনো রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছে না: এমপি খোকন তালুকদার

তিনি আরও জানান যে, নিখোঁজ বুলবুলের সন্ধানে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ তার সন্ধানের জন্য কাজ করছে। এরপর থেকে নিলক্ষা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিডনি ক্যানসার নিয়ে যেসব ভুল ধারণা এখনই ভাঙা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ এম


কিডনি ক্যানসার নিয়ে যেসব ভুল ধারণা এখনই ভাঙা জরুরি

কিডনি ক্যানসার কী? এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া ১০টি ক্যানসারের একটি। যদিও কিডনি ক্যানসার নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক রকম ভুল ধারণা বিদ্যমান রয়েছে। অনেক লোক মনে করেন, সব কিডনি ক্যানসার একরকম হয়, বা এটি সবসময় বংশগত কারণেই হয়ে থাকে, বা এই রোগ হলে পুরো কিডনিই ফেলে দিতে হবে।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তব ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত দুই দশকে কিডনি ক্যানসারের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে একটি উন্নত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের ইউরো অ্যান্ড ইউরো অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. অমিত বনসাল বলেন, ‘কিডনি ক্যানসারকে একটি একক রোগ হিসেবে না দেখে এর জটিলতা ও ধরনগুলো বোঝা জরুরি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।’

নিচে কিডনি ক্যানসার সম্পর্কে ৭টি প্রচলিত ভুল ধারণা এবং তাদের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো:

ভুল ধারণা-১: সব কিডনি ক্যানসারই একই রকম।

অসল তথ্য: কিডনি ক্যানসার কোনো একক রোগ নয় এবং এটি বিভিন্ন উপাদানের ওপর ভিত্তি করে একাধিক উপভাগে ভাগ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কিডনি ক্যানসার রেনাল সেল কার্সিনোমা। এর মধ্যে ক্লিয়ার সেল রেনাল সেল কার্সিনোমা প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রয়েছে। ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী আচরণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়।

ভুল ধারণা-২: কিডনি ক্যানসার সবার উপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে।

অসল তথ্য: কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। সাধারণভাবে ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়ষীদের মধ্যে এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের কিডনি ক্যানসার বেশি শনাক্ত হয়।

প্রধান ঝুঁকিসমূহ: ধূমপান, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ এবং কিছু বংশগত জিনগত ত্রুটি এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ভুল ধারণা-৩: কিডনি ক্যানসার মানেই বংশগত হয়।

অসল তথ্য: বেশিরভাগ কিডনি ক্যানসার বংশগত কারণেই ঘটে না। চিকিৎসকদের মতে, সামগ্রিকভাবে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যানসার বংশগত বা জিনগত কারণে হয়। কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ডিএনএ-র আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এই রোগ ঘটে।

ভুল ধারণা-৪: কিডনি ক্যানসারের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট রয়েছে।

অসল তথ্য: স্তন ক্যানসার বা প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো কিডনি ক্যানসারের জন্য কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত তখনই স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দেন যখন কারও পরিবারে নির্দিষ্ট কিছু বংশগত সিনড্রোম থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্য রোগের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান করার সময় কিডনির টিউমার ধরা পড়ে।

ভুল ধারণা-৫: কিডনি ক্যানসার হলে পুরো কিডনিই কেটে ফেলতে হয়।

অসল তথ্য: আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি সচেতন এবং সুনির্দিষ্ট। আগে র‌্যাডিক্যাল নেফ্রেক্টমি নিয়মিত ঘটনা ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসকরা টিউমারের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশটুকু বাদ দেন, যাকে পার্শিয়াল নেফ্রেক্টি বলা হয়। এটি রক্ষা করে বাকি কিডনিকে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে থার্মাল অ্যাবলেশন, ইমিউনোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি খুব হাতের নাগালে রয়েছে।

ভুল ধারণা-৬: কিডনি ক্যানসার এবং সাধারণ কিডনি রোগ একই বিষয়।

অসল তথ্য: এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যাওয়াকে কিডনি রোগ বলা হয়। অন্যদিকে, কিডনির ভেতর অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির ফলে টিউমার তৈরি হওয়া কিডনি ক্যানসার। তবে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ থাকলে কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

ভুল ধারণা-৭: কিডনি ক্যানসার ছোঁয়াচে।

অসল তথ্য: কিডনি ক্যানসার একটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। আক্রান্ত মানুষের স্পর্শ, তার সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া বা কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে এই রোগ কখনোই অন্য কারও শরীরে ছড়াতে পারে না। এটি মূলত শরীরের ভেতরের ডিএনএ-র পরিবর্তনের ফলে ঘটে।

সবশেষে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে কিডনি ক্যানসারের রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের হার আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এই রোগ প্রতিরোধে লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকা, স্বাস্থকর জীবনযাপন করা এবং সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ এম


ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ ইরানের

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোকে লক্ষ্য করে এই অভিযোগ করেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, "যখন ইরানের শহরগুলো বর্বরভাবে বোমা হামলার শিকার হয়েছিল এবং নিরীহ ইরানিরা নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল, তখন আপনি নীরব ছিলেন। এমনকি আপনি এতে জড়িতও ছিলেন।"

বাঘাই এই মন্তব্যটি করেন বারোর একটি ভিডিও বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতে, যেখানে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে ইরানের জনগণ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে এবং তারা দমন-পীড়ন ও বোমা হামলার মাঝে পড়ে আছে।

ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, "আর এখন, যখন এটি আপনার শাসনের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগে, তখন আপনার বাছাই করা বিবেক হঠাৎ জেগে ওঠে এবং আপনি পুরো বিশ্বকে মানবাধিকারের শিক্ষা দিতে চান।"

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘এখনও অনেকটা সময় আছে’ রাহুলকে পাঠানো শেষ বার্তায় যা লিখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ এম


‘এখনও অনেকটা সময় আছে’ রাহুলকে পাঠানো শেষ বার্তায় যা লিখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা

রাহুলের শেষ ছবির জন্য আমি এখনও প্রস্তুত নই, আমি এখনও মেনে নিতে পারি নাই যে সে চলে গেছে। রাহুলের মৃত্যু সংবাদ যখন তার মা এবং সন্তানকে জানানো হয়েছিল, তখন থেকেই আমি স্তব্ধ হয়ে আছি: প্রিয়াঙ্কা।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় দেড় মাস কেটে গিয়েছে। এনিয়ে তার ছেলে সহজের সঙ্গে বেঁচে আছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। কাজের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’। ছবির প্রচারে সাদা শাড়িতে হাজির হয়েছেন তিনি। হাতে এক কাপ কফি নিয়ে শুরু হলো আড্ডা। কাজ, পরিবার, জীবন — সব নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধি সঙ্গে বসে মন খুললেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রশ্ন: সহজকে নিয়ে গরমের ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল, গিয়েছিলেন?

প্রিয়াঙ্কা সরকার: না, যাওয়া হয়নি। কাজের চাপ ছিল। এই মুহূর্তে কলকাতা শহর ছাড়াও অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে ওই প্রতিশ্রুতির ট্রিপটা এখনো বাকি। সহজ খুবই সচেতন, ও এই পরিস্থিতি বেশ ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। সহজ আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন: আপনি এবং সহজ এখন কেমন আছেন?

প্রিয়াঙ্কা: আমি ঠিক আছি। নিজেকে কাজের মধ্যে রেখেছি। আশেপাশে দারুণ কিছু মানুষ রয়েছে। আর আমার সহজও নিজের মতো করে গরমের ছুটি কাটাচ্ছে। ও গান নিয়ে ব্যস্ত, কম্পিউটার, গেমস — এসব নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। বন্ধুরাও রয়েছে তার সঙ্গে। যতটা সম্ভব আমি সময় দিচ্ছি। বাড়ির সদস্যরাও সময় করে দেখছে ওর সঙ্গে। রাহুলের মায়ের কথাও জানানো দরকার, তিনি খুব ভাল আছেন, এমনটা আমি বলার অধিকারও রাখি না। আমরা নিজেদের মতো চেষ্টা করছি কঠিন সত্যটা মেনে নিতে। সময়ের সঙ্গে সব সহজ হয় না। আসলে নিজেকে বোঝাতে হয়, সেটাই করছি।

ছেলে সহজের সঙ্গে ছুটির মেজাজে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ছবিটি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: রাহুলের পরিবারকেও আপনি কীভাবে সামলাচ্ছেন?

প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ, যতটা সম্ভব সময় কাটানোর চেষ্টা করছি। সহজও পাশে থাকে। দাদা বেশ কিছু দিন ছিল। মা তাঁর সঙ্গে বিদেশে থাকবেন। দাদার দুই ছেলেমেয়ের সঙ্গেও দেখা হবে। এখন আমরা বেশিরভাগ সময় রাহুলকে ব্যস্ত রেখেছি। কিছু কিছু সময় আসবে যখন কলকাতা শহরটা সহ্য করার মতো থাকবে না, সেই সময়ে বাইরে থাকলে ভালো থাকবে। আবার আমি চাইব, সহজ তার বিশেষ দিনগুলোতে ঠাম্মিকে পাশে পায়। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: সকলকে সামলে নিজেদের কাছে ফেরার পর কি প্রিয়াঙ্কা ভেঙে পড়েন?

প্রিয়াঙ্কা: আসলে আমি অনেকটা সময় চুপ ছিলাম। কিন্তু আসলে আমি ভেঙে পড়েছি। যখন রাহুলের মৃত্যু সংবাদটি তার মাকে জানানো হলো, আর তার কিছুসময় পরে ছেলেকে জানানো হলো, তার পর মনে হয়... না, মানে ঠিক আনার ভাষায় বোঝাতে পারব না। আসলে এর কোনও ক্লোজার হয় না। আমাকে শক্ত থাকতে হয়েছে। এটাই আমার বড় হয়ে ওঠার একটি পজিটিভ থাকার ট্রেনিং। আর তার মূল অংশ ছিল রাহুল । ও আমার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল।

প্রশ্ন: ছবির চরিত্র বাছার ক্ষেত্রেও তো রাহুল আপনাকে সাহায্য করতেন?

প্রিয়াঙ্কা: রাহুল সব ক্ষেত্রেই আমাকে সহযোগিতা করেছে। এখনও ওর দেওয়া কিছু সিরিজ আর ছবি আমার ফোনে আছে, যেগুলো আমি দেখিনি। এখনও দেখতে পারিনি আমি। আসলে ঘটনার আকস্মিকতায় আমি এখনও কিছুটা মেনে নিতে পারিনি। ধীরে ধীরে মেনে নিতে হবে।

‘রাহুলের শেষ অভিনীত ছবি দেখতে এখনও প্রস্তুত নই’ ছবিটি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: রাহুল অরুণোদয়ের শেষ ছবি ‘ছবিওয়ালা’ আপনি দেখেছেন?

প্রিয়াঙ্কা: আমি দেখব নিশ্চয়ই, তবে এখনও প্রস্তুত নই, একটু সময় লাগবে দেখতে। এখানে আরও কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো আটকে রয়েছে। আমি চাই, রাহুলের অসমাপ্ত কাজগুলো দর্শকদের সামনে আসুক। রাহুল দারুণ অভিনেতা ছিলেন, তাঁর প্রতি সেই শ্রদ্ধাটা যেন বজায় থাকে।

প্রশ্ন: রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?

প্রিয়াঙ্কা: এই মুহূর্তে আপডেট দেওয়ার মতো খবর আমার কাছে নেই। যেগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ এর একটা আইনি দিক রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী। এই ছাড়া আমাদের কাছে আর কোন অপশন নেই। শুরুর দিন থেকে আমি প্রত্যেককে পাশে পেয়েছি। এটা শুধুমাত্র আমাদের পরিবারের দাবি নয়। ইন্ডাস্ট্রির সকলেই উত্তর চান কিভাবে এই ঘটনা ঘটল।

‘তারকাটা’ ছবির প্রচারে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার ছবিটি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: ‘তারকাটা’ ছবির চরিত্রটি কতটা উপভোগ করেছেন?

প্রিয়াঙ্কা: যে সময়টার শেষ মুহূর্তের কাজে ফিরেছি, আমার বন্ধুদের না থাকলে এটি সম্ভব হত না। 'তারকাটা' একটি মজার কাজ। ডার্ক হিউমার রয়েছে, যা আমি খুবই ভালবাসি। এত রিয়েল অ্যাকশন আগে দেখা যায়নি কোনও বাংলা ওটিটিতে। সব মিলিয়ে খুবই অন্যরকম একটি কাজ দর্শকদের আনন্দ দেবে।

প্রশ্ন: আপনি নাকি বলেছিলেন, ‘তারকাটা’ নামের একটি ছবি হলে আমি নেই, হতেই পারে না?

প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম। বলেছিলাম যে এই প্রজেক্টে আমার থাকার ভাগ্যে লেখা আছে। কে সতেরো বছর বয়সে বাড়ি থেকে চলে আসে একটি সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে? কারণ, আমার কাছে আমি খুব স্বচ্ছ। আমি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটা সঠিক মনে হতে পারে, আবার ভুলও মনে হতে পারে। আমি তারকাটা থাকতে চাই। পৃথিবী যাই বলুক, আমি আমার সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিই। কারণ, আমাকে বিভিন্ন সময়ে নানা মানুষ তারকাটা বলেছেন। আমি তা প্রশংসা হিসেবেই নিয়েছি। এবং সহজও তারকাটা হোক, সেটাই আমি চাই। ও সাহস রাখুক, যা করতে চায় করুক এবং নিজের কাছে সৎ থাকুক।

প্রশ্ন: নিজের সিদ্ধান্ত নিলে আক্ষেপ কম হয়?

প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ, অবশ্যই। জীবনের যে কোনও সিদ্ধান্তের দায় আমার। ভুল সিদ্ধান্তেরও দায় আমার। কাউকে দোষ দেওয়ার নেই। কোনও আক্ষেপ নেই। যা কিছু হয়েছে তা জীবনে ভাল ছিল। কখনও কখনও জীবনের সেরা সময় এসেছে, কখনও আবার শিক্ষা পেয়েছি। জীবনের প্রতি এই পন্থা রাখা জরুরি।

প্রশ্ন: প্রযোজক এবং অভিনেতা বিক্রমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

প্রিয়াঙ্কা: আমি বহু বছর ধরে বিক্রমকে চিনি, ওঁর কাজ দেখি। যে ভাবে এঁর সফর এগিয়ে চলছে তা দারুণ। প্রযোজক হিসাবে নতুন কিছু করার ঝুঁকি নিয়েছে, সেটি প্রশংসার দাবি রাখে। যে ভাবে অভিনেতা হিসাবে কাজ বাছাই করে সেটাও শেখার জন্য। এমনিতে বিক্রম খুব পরিশ্রমী এবং যত্ন সহকারে কাজ করে। সহ-অভিনেতা হিসেবে এই ধরনের দেখলে সত্যিই নিজের কাজের উন্নতি হয়।

‘যাঁরা পাশে ছিলেন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ’ ছবিটি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: টলিউডেও পরিবর্তন এসেছে, কীভাবে দেখছেন?

প্রিয়াঙ্কা: অনেক কিছুই দর্শকের সামনে রয়েছে। যদি ইন্ডাস্ট্রিকে একটি পরিবার বলি, তবে এটা মনে রাখা উচিত, কোন পরিবারই নির্লেজ্জ থাকে? সমস্যা তো আসতেই পারে। এক লক্ষ মানুষ একসঙ্গে কাজ করা মানে সমস্যা থাকবেই। সেগুলো অনেক বেশি দর্শকের সামনে চলে এসেছে। এটা কোথাও গিয়ে শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা কমায়। আমি শুধু এটুকুই বলবো যে, শুরুর দিন থেকে সকলকে যে ভাবে পাশে পেয়েছি, তাতে কোনও রাজনৈতিক রং ছিল না। অগ্রজ, অনুজ এবং পরিচালক, অভিনেতার মধ্যে কোনও ভেদাভেদ ছিল না। সবাই একসঙ্গে রাহুলকে লেখক, বন্ধু এবং ছোট ভাই হিসাবে ভালোবেসে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা একই সুরে কথা বলেছেন, রং বা বর্ণের ভেদাভেদ ছিল না। যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: নতুন সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

প্রিয়াঙ্কা: আমি অত্যন্ত আশাবাদী। সকলের মতোই বিশ্বাস করি, ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ হবে। আমি চাই, আরও সংখ্যায় কাজ হোক। যেন আমরা সবাই কাজ করার সুযোগ পাই।

প্রশ্ন: ‘সহজ কথা’-র ভবিষ্যৎ কী?

প্রিয়াঙ্কা: এটি আসলে খুব কঠিন বিষয়। অনেকেই সহজকে এবং আমাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে বলছেন। সহজের উপর এধরনের চাপ দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, সে তো মাত্র ১২ বছরের একটি শিশু। আমি মনে করি, রাহুলের এত বছরের গড়ে তোলা, ওর কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, শিক্ষা, পড়াশোনা এসবের জন্যই এটি সম্ভব হয়েছে। রাহুল মানুষকে বিশেষ অনুভব করতে সক্ষম ছিল। আমি তা পারব না। আমি চাই, এটি চলুক। কিন্তু কিভাবে, সেটি এখনো ভাবতে পারিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি স্কটল্যান্ড-মরক্কো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ এম


ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি স্কটল্যান্ড-মরক্কো

 

আজ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে স্কটল্যান্ড এবং মরক্কো মুখোমুখি হয়েছে—এই একটি ম্যাচ যা দুই দলের নকআউট পর্বের জন্য ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে।

প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, শক্তিশালী মরক্কো ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

শুক্রবারের ম্যাচটি স্কটল্যান্ডের জন্য খুবই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তারা জয়লাভ করে, তাহলে প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে, যদিও প্রথম ম্যাচে জন ম্যাকগিনের গোলে জয় পায়, তাদের পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তোষজনক ছিল না। তবে মরক্কোর বিপক্ষে অতীতের ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ৩-০ গোলে হারের স্মৃতি তারা এবার মুছে ফেলতে চায়।

অন্যদিকে, মরক্কো নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে আক্রমণাত্মক ফুটবলে মনোযোগ দিচ্ছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ইসমায়েল সাইবারির গোল এবং দলের লড়াকু মানসিকতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যদিও জয় পেলে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত হবে না, কিন্তু ৪ পয়েন্ট নিয়ে মরক্কো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

স্কটল্যান্ড শিবিরে স্কট ম্যাককেনার ইনজুরি শঙ্কা থাকলেও কোচ স্টিভ ক্লার্ক সম্ভবত আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই রাখবেন। তাদের আক্রমণে থাকবেন চে অ্যাডামস এবং লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড। আর মাঝমাঠে ভরসা স্কট ম্যাকটোমিনে এবং জন ম্যাকগিন।

মরক্কো দলের বড় কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিতে যাওয়া ইসমায়েল সাইবারি। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নুসায়র মাজরাউই শুরুর একাদশে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%