০৪:০২ এম
রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধির খবর অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। এর সঙ্গে প্রতিটি হত্যার হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে। প্রত্যেকটি লাশের জবাব দিতে হবে।’
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুরে স্থানীয় আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত তিনজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি এক সভায় বলেন, ‘একটি পক্ষ প্রতিশোধ নিতে এবং মানুষ হত্যার জন্য এলাকায় এসেছিল। তারা এলাকায় উঠার জন্য আসেনি। এদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মুখে চুনকালি দিতে আসা।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা লাঠিসোটা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হউন। যদি বাইরে থেকে কোনো সন্ত্রাসী আসে তাহলে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন এবং পুলিশকে বিনা দেরিতে খবর দেবেন। রায়পুরার চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নে কাউকে অন্যায় প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’
আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ধর্ষণ, চুরি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৯
অন্যদিকে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। গত ১৬ জুন ভোরে তারা স্পিডবোট যোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। সেই সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতার মাধ্যমে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ হিসেবেই নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছিল।
বিরোধের পর সংঘর্ষটি হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক ২০ বছর বয়সী অনিক নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকে আলাল মুন্সির সমর্থক প্রবাসফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার এক দিন পর (১৭ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর (১৮ জুন) সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এভাবে দুই প্রবাসী কাউছার এবং লতিফসহ তিনজন নিহত হয়েছে, একই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ আছেন বুলবুল মিয়া।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ‘হত্যায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলমান আছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত অনিকের মা বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। অন্য দুটি হত্যার ঘটনায় এখনও থানায় মামলা হয়নি।’
আরও পড়ুন: বিরোধী দল কোনো রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছে না: এমপি খোকন তালুকদার
তিনি আরও জানান যে, নিখোঁজ বুলবুলের সন্ধানে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুলিশ তার সন্ধানের জন্য কাজ করছে। এরপর থেকে নিলক্ষা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন