০৪:০৯ এম
কিডনি ক্যানসার কী? এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা দেওয়া ১০টি ক্যানসারের একটি। যদিও কিডনি ক্যানসার নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক রকম ভুল ধারণা বিদ্যমান রয়েছে। অনেক লোক মনে করেন, সব কিডনি ক্যানসার একরকম হয়, বা এটি সবসময় বংশগত কারণেই হয়ে থাকে, বা এই রোগ হলে পুরো কিডনিই ফেলে দিতে হবে।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তব ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত দুই দশকে কিডনি ক্যানসারের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে একটি উন্নত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালের ইউরো অ্যান্ড ইউরো অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. অমিত বনসাল বলেন, ‘কিডনি ক্যানসারকে একটি একক রোগ হিসেবে না দেখে এর জটিলতা ও ধরনগুলো বোঝা জরুরি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।’
নিচে কিডনি ক্যানসার সম্পর্কে ৭টি প্রচলিত ভুল ধারণা এবং তাদের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
ভুল ধারণা-১: সব কিডনি ক্যানসারই একই রকম।
অসল তথ্য: কিডনি ক্যানসার কোনো একক রোগ নয় এবং এটি বিভিন্ন উপাদানের ওপর ভিত্তি করে একাধিক উপভাগে ভাগ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কিডনি ক্যানসার রেনাল সেল কার্সিনোমা। এর মধ্যে ক্লিয়ার সেল রেনাল সেল কার্সিনোমা প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রয়েছে। ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী আচরণ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়।
ভুল ধারণা-২: কিডনি ক্যানসার সবার উপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে।
অসল তথ্য: কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। সাধারণভাবে ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়ষীদের মধ্যে এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের কিডনি ক্যানসার বেশি শনাক্ত হয়।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?
প্রধান ঝুঁকিসমূহ: ধূমপান, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ এবং কিছু বংশগত জিনগত ত্রুটি এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ভুল ধারণা-৩: কিডনি ক্যানসার মানেই বংশগত হয়।
অসল তথ্য: বেশিরভাগ কিডনি ক্যানসার বংশগত কারণেই ঘটে না। চিকিৎসকদের মতে, সামগ্রিকভাবে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যানসার বংশগত বা জিনগত কারণে হয়। কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই হার আরও কম। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ডিএনএ-র আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এই রোগ ঘটে।
ভুল ধারণা-৪: কিডনি ক্যানসারের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফেলে দেয়া ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে নির্মিত পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়
অসল তথ্য: স্তন ক্যানসার বা প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো কিডনি ক্যানসারের জন্য কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত তখনই স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দেন যখন কারও পরিবারে নির্দিষ্ট কিছু বংশগত সিনড্রোম থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্য রোগের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান করার সময় কিডনির টিউমার ধরা পড়ে।
ভুল ধারণা-৫: কিডনি ক্যানসার হলে পুরো কিডনিই কেটে ফেলতে হয়।
অসল তথ্য: আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি সচেতন এবং সুনির্দিষ্ট। আগে র্যাডিক্যাল নেফ্রেক্টমি নিয়মিত ঘটনা ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসকরা টিউমারের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশটুকু বাদ দেন, যাকে পার্শিয়াল নেফ্রেক্টি বলা হয়। এটি রক্ষা করে বাকি কিডনিকে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে থার্মাল অ্যাবলেশন, ইমিউনোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি খুব হাতের নাগালে রয়েছে।
ভুল ধারণা-৬: কিডনি ক্যানসার এবং সাধারণ কিডনি রোগ একই বিষয়।
আরও পড়ুন: লম্বা ছুটিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে ৩৫টি দেশে
অসল তথ্য: এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যাওয়াকে কিডনি রোগ বলা হয়। অন্যদিকে, কিডনির ভেতর অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির ফলে টিউমার তৈরি হওয়া কিডনি ক্যানসার। তবে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ থাকলে কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
ভুল ধারণা-৭: কিডনি ক্যানসার ছোঁয়াচে।
অসল তথ্য: কিডনি ক্যানসার একটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। আক্রান্ত মানুষের স্পর্শ, তার সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া বা কাছাকাছি থাকার মাধ্যমে এই রোগ কখনোই অন্য কারও শরীরে ছড়াতে পারে না। এটি মূলত শরীরের ভেতরের ডিএনএ-র পরিবর্তনের ফলে ঘটে।
সবশেষে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে কিডনি ক্যানসারের রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের হার আগের চেয়ে অনেক উন্নত। এই রোগ প্রতিরোধে লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকা, স্বাস্থকর জীবনযাপন করা এবং সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন: ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন