ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিবাহবিচ্ছেদের ফলে ৩ বছরের কন্যাশিশুকে সড়কে ফেলে গেলেন মা-বাবা, উদ্ধার করেন স্থানীয়রা


বিবাহবিচ্ছেদের ফলে ৩ বছরের কন্যাশিশুকে সড়কে ফেলে গেলেন মা-বাবা, উদ্ধার করেন স্থানীয়রা

মাদারীপুর শহরের লেকপাড় (চৌরাস্তা) এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদ-পরবর্তী পারিবারিক বিরোধের ফলস্বরূপ তিন বছরের একটি কন্যাশিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনার পর শিশুটিকে নিয়ে তার মা মাদারীপুর লেকপাড় এলাকায় সন্তানের বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বাবার কাছে রেখে যাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রথমে মা শিশুটিকে জোরপূর্বক বাবার কাছে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারপর শিশুটির বাবা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এর ফলে অবুঝ শিশুটি দীর্ঘ সময়ের জন্য সড়কের পাশে একা পড়ে থাকে।

রোববার (২৮ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিশুটির কান্না শুনে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শিশুটির নাম জানতে চাইলে সে ভয় ও আতঙ্কের কারণে নিজের নাম স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, "এখন পর্যন্ত শিশুটিকে আমাদের কাছে আনা হয়নি। বিষয়টি আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ঘটনাটি এলাকার মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো অবস্থাতেই একটি নিরীহ শিশু বাবা-মায়ের বিরোধের বলি হতে পারে না। সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা বাবামায়ের উভয়ের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।

আইনজ্ঞদের অভিমত অনুসারে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা এবং যথাযথ লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মা উভয়ের ওপর বর্তায়। কোনও শিশুকে পরিত্যাগ করা বা অবহেলার মধ্যে ফেলতে শিশু আইন, ২০১৩-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন: চাটখিলে সাংবাদিক এস কে সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক অস্থিরতা, দাম্পত্য কলহ, আর্থিক সংকট, মানসিক অপরিপক্বতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবের কারণে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু, যা তাদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, এ ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা, ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তাদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদ যদি অনিবার্য হয়ে থাকে, তবে তার নিষ্ঠুর প্রভাব যেন কোনোভাবে নিরীহ সন্তানের জীবনে না পড়ে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ ধরনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ভৈরব রেলস্টেশনে ৩ ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্ট, ভিসা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব : খন্দকার মোশাররফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব : খন্দকার মোশাররফ

 সরকারি দলের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষ অতীতে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। তাই বর্তমান সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার যে বাজেট পেশ করেছে, তা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব।

দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে সংসদে ফিরে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের লুটেরারা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার পর, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য বাজেট পেশ করেছেন।

জাতীয় সংসদে আজ প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সংসদকে জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্ট্রোক করার পর, দেশবাসী ও সহকর্মীদের দোয়ায় আল্লাহ তাআলা তাকে যেন নতুন জীবন দান করেছেন। বেঁচে থাকা অবস্থায় এ দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন দেখতে পেরে এবং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পঞ্চমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ সংসদে আসার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

সংসদে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষক থাকা অবস্থায় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে রাজনীতিতে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। জিয়াউর রহমান তাকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সংগঠিত করার যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন, তা তিনি সফলভাবে পালন করেছিলেন। জিয়ার শাহাদাত বরণের পর যখন অনেকে বলেছিল বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত সাহসের সাথে দলের পতাকা তুলে ধরেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দেন। বেগম খালেদা জিয়ার অধীনে তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সৌভাগ্য হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে দেশের সংকটময় মুহূর্তে বিদেশের মাটিতে থেকেও দলের হাল ধরা এবং দেশে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ড. মোশাররফ বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাসের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বৈপ্লবিক ও অত্যন্ত সফল উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরের সফলতার অংশ হিসেবে, ইতোমধ্যে চীনের ১১টি বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং দেশের অনেক অসম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থব্যবস্থাকে যেভাবে লুটপাট করে একটা কঠিন অবস্থায় দাঁড় করানো হয়েছিল এবং বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

ড. মোশাররফ তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার জনগণের দীর্ঘদিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সংসদের সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কুমিল্লাকে ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ ঘোষণা করার সরকারি আশ্বাসকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি, কুমিল্লার পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী বিমানবন্দরটি দ্রুত মেরামত করে পুনরায় পুরোদমে চালু করা এবং ঢাকা ও কুমিল্লার মধ্যে নতুন রেলওয়ে কর্ডলাইন নির্মাণের প্রকল্প দ্রুত শেষ করার জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, এই রেললাইনটি সম্পন্ন হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের যাতায়াতের সময় ও খরচ অনেক কমে যাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও তিনি দাউদকান্দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহারাষ্ট্রের একটি রিসোর্টের পুলে ঝাঁপ দিয়ে পর্যটকের ‘মর্মান্তিক’ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্কতালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


মহারাষ্ট্রের একটি রিসোর্টের পুলে ঝাঁপ দিয়ে পর্যটকের ‘মর্মান্তিক’ মৃত্যু

মহারাষ্ট্রের সিন্ধুদুর্গ জেলার একটি রিসোর্টে ঘটে যাওয়া অন্তর্দৃষ্টিতে অগভীর সুইমিং পুলে ঝাঁপ দেয়ার পর ২৫ বছর বয়সী এক পর্যটকের মৃত্যু ঘটেছে। ওই পর্যটক পুলে মাথা সামনে দিয়ে ঝাঁপ দেন এবং যার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম শ্রিনিক মিলিন্দ তাকালে, তিনি কোলহাপুর জেলার বাসিন্দা। ২০ জুন মালভানের ভায়ারি এলাকার একটি রিসোর্টে তিনি নয়জন বন্ধুর সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনাটির কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেখা যায় যে, দলটি সুইমিং পুলের পাশে আনন্দ করে নাচ করছে। কয়েক সেকেন্ড পরেই, তাকালে প্রায় আট থেকে দশ ফুট উঁচুতে উঠে শিশুদের জন্য নির্ধারিত সুইমিং পুলের অগভীর অংশে মাথা সামনে দিয়ে ঝাঁপ দেন।

পুলটি মাত্র চার ফুটের মতো গভীর ছিল। ঝাঁপ দেয়ার প্রচণ্ড ধাক্কায় তাকালের মাথা পুলের তলায় আঘাত করে, যার ফলস্বরূপ তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত মালভান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ একটি আকস্মিক মৃত্যু প্রতিবেদন (এডিআর) নথিভুক্ত করেছে এবং ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর গণেশ মানের তত্ত্বাবধানে তদন্তটি এখন চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতীতের অর্থনৈতিক লুটপাট কাটিয়ে জনকল্যাণভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


অতীতের অর্থনৈতিক লুটপাট কাটিয়ে জনকল্যাণভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি জনকল্যাণমুখী, সংস্কারভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারি, গাজা, ইউক্রেন, সিরিয়া ও সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক সংকটের পাশাপাশি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার মাত্র কয়েক মাসের প্রস্তুতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ায়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের সময় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাবের সুযোগে দেশে লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি, ক্রনি ক্যাপিটালিজম এবং বিতর্কিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল, অতিমূল্যায়িত মেগা প্রকল্প, রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, কর অব্যাহতির অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক অপচয় হয়েছে।

তিনি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। গত ১৫ বছরে মোট প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। একই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দিয়ে একাধিক পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ সম্ভব ছিল।

তিনি আরও বলেন, আইনের মাধ্যমে বিতর্কিত প্রকল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ক্যাপাসিটি চার্জ ও কুইক রেন্টালের মতো বিষয়কে বৈধতা দেওয়া ছিল দুর্নীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট একটি ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট। পুরোনো অর্থনৈতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে মানবকল্যাণ, উৎপাদনশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো নতুন কর আরোপ করা হয়নি। ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

পাঁচ ভিত্তির ওপর উন্নয়ন পরিকল্পনা:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পাঁচটি মূল ভিত্তির ওপর প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ।

প্রস্তাবিত বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে, সামাজিক সুরক্ষা বাড়াবে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিগত সরকারের ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের রোডম্যাপ এই বাজেট : মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


বিগত সরকারের ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের রোডম্যাপ এই বাজেট : মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের 'ফ্যাসিবাদী শাসনে' দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং দেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক ও দূরদর্শী বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, বাজেটকে অনেকেই উচ্চাভিলাষী বললেও বিএনপি অতীতেও সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশকে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি তিনটি মূল স্তম্ভ- রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং পাঁচ বছরে উদ্ভাবন নির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সংকটকে সুযোগে পরিণত করতে জানে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়েই সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমান বাজেটও সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

সরকারের বৈদেশিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

বাজেটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%