ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মানিক পশারীর দাফনে বাধা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন: নাগরিক সমাজের উদ্বেগ


মানিক পশারীর দাফনে বাধা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন: নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর পর একজন ব্যক্তির দাফনের অধিকার মৌলিক মানবাধিকার। এ অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাষ্ট্রও লঙ্ঘন করতে পারে না। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তারা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত আছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার পর মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খনন করেন। মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাগরিকেরা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা যাচাই করার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রের। কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায় ঘিরে এমন ঘটনা রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীত ভূমিকার কারণে কোনো ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত ব্যক্তির মর্যাদাপূর্ণ সৎকার সব ধর্মেরই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন: ঘোষণার আট বছরেও সুন্দরবনে দস্যুতা অব্যাহত, আতঙ্কে বনজীবীরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের প্রচারণায় সমাবেশ বাতিলের পর দুটি সমাবেশ পুনর্বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


ট্রাম্পের প্রচারণায় সমাবেশ বাতিলের পর দুটি সমাবেশ পুনর্বহাল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রার্থী হিসেবে থাকছেন না। এমনকি রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হেরে গেলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির উপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ট্রাম্প সচেতন আছেন যে, যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে বাকি দুই বছর তিনি নিজের ইচ্ছামত দেশ চালাতে পারবেন না। তাই রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতানোর জন্য তিনি প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন।

তবে, তার প্রচারণা দলের পক্ষ থেকে টানা ক্লান্তিকর সমাবেশ থেকে ট্রাম্পকে মুক্তি দিতে দুটি নির্ধারিত সমাবেশ বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু বাতিলের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নেতিবাচক প্রচারণায় বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প আবারও ওই সমাবেশ দুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চলতি মাসে নিজের ২৫তম মধ্যবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার সাউথ ক্যারোলাইনায় যাওয়ার সময়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে কানসাসের সমাবেশে ট্রাম্প সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে টেলিফোনে তার সমাপনী বক্তব্য দেবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর, আইওয়াতে নির্ধারিত আরেকটি সমাবেশও একইভাবে বাতিল করা হয়। এটি ছিল নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রেসিডেন্টের কৌশলের একটি নাটকীয় পরিবর্তন। কারণ এত দিন তিনি রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতে একের পর এক ক্লান্তিকর সমাবেশ করে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উদ্দীপনা বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন।

সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে ফিরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি মনে করেন না যে তার কানসাসে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল খুব ভালো করছেন।

এই সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক কর্মী স্বস্তি অনুভব করেন। ট্রাম্প সশরীরে না গিয়ে টেলি-র‌্যালি (টেলিফোনে সমাবেশ) করবেন শুনে তারা খুশি হন। কারণ সাধারণত টেলি-র‌্যালি আগে থেকে লিখে রাখা বক্তব্য অনুযায়ী চলে। ফলে ট্রাম্পের উল্টাপাল্টা কথা বলার আশঙ্কা কিছুটা কমে যাবে। দুটি নির্ধারিত সমাবেশ বাতিলের বিষয়ে একজন শীর্ষ রিপাবলিকান কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি কোথাও তেমন বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারছিলেন না।’

কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিকল্পনা আবার বদলে যায়। কানসাস এবং আইওয়ার সমাবেশ দুটি আবারও বহাল করা হয় এবং দুটিই এখন রোববারের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের যে তুমুল নির্বাচনী প্রচারণার গতি আকস্মিকভাবে শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা এখন আবার পুরোদমে বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার বিকেলে হোয়াইট হাউজে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, আইওয়া এবং কানসাসের বন্ধুরা তাকে ফোন করে সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এমন কয়েকটি আসন রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেছেন আপনি যদি সশরীরে যান, তবে তা টেলি-র‌্যালির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হবে। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম এবং বলেছিলাম, একটি টেলি-র‌্যালি করলে কেমন হয়? কিন্তু তারা আমাকে অনুরোধ করেছেন। তাই আমি রোববার দুটি সমাবেশই করতে যাচ্ছি।’ এছাড়া শনিবার বিকেলের কলেজ ফুটবল ম্যাচগুলোর কারণে তিনি তার অনুষ্ঠানগুলো রোববারে স্থানান্তরিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে ভার্চুয়াল ইভেন্টগুলোতে যুক্ত হওয়ার জন্য আরও বেশি সময় দিতেই কেবল সময়সূচিতে এই রদবদল করা হয়েছিল। তবে, এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সিএনএন-এর কাছে ভিন্ন কারণ বর্ণনা করেছেন। দুটি সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে সায় দেওয়ার পর, এ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে ট্রাম্প বেশ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন বলে সূত্রগুলো জানায়। সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে ফিরে সমাবেশ বাতিলের কারণ জানতে চাওয়া একজন সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ার সময়ই তার এই বিরক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রচারণা চালাতে চালাতে তিনি ক্লান্ত বা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ’আপনি দুই সপ্তাহ ধরে আমার পেছনে ঘুরছেন। আমি একদম নিখুঁত আছি।’ যে সাংবাদিক প্রশ্নটি করেছিলেন, তাকে দেখতে ’একেবারে বিধ্বস্ত’ লাগছিল বলে ট্রাম্প কটাক্ষ করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রেসিডেন্ট বাতিল হওয়া সমাবেশগুলো পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন। এর ফলে যে কর্মীরা মাত্রই ক্যালেন্ডার থেকে অনুষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়ার কাজ শেষ করেছিলেন, তাদের তড়িঘড়ি করে সেগুলো আবার যুক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হয়। এই পরিবর্তন নিশ্চিত করে দেওয়া একটি বিবৃতিতে লেখা হয়, ’সমাবেশ আবার ফিরে এসেছে!’

এই ঘটনাটি কেবল এটাই প্রমাণ করে যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভাগ্য কতটা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির ওপর নির্ভর করছে— তা সে তার পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়াই হোক কিংবা তার নিজস্ব ধাঁচের বড় বড় সমাবেশগুলোই হোক, যা প্রায়শই মূল রাজনৈতিক ইস্যু এবং প্রার্থীদের প্রচারণার মূল বক্তব্য থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি কিছু রিপাবলিকান প্রার্থীকেও এই পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার কানসাসের সমাবেশ বাতিলের খবর আসার পর সিনেটর মার্শাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি জনমত জরিপে আমি এত ভালো করছি যে, সম্ভবত এর চেয়ে ভালো কোনো জায়গায় সময় দেওয়ার সুযোগ তার রয়েছে।’

তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জোর দিয়ে বলছেন যে, প্রচারণার মাঠে প্রেসিডেন্টের চাহিদা এখনও ব্যাপক। এক উপদেষ্টা সিএনএন-কে জানান, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের এই শেষ মুহূর্তের দৌড়ে ট্রাম্প যেন তাদের অঙ্গরাজ্যগুলো সফর করেন, সেই অনুরোধ জানিয়ে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী শিবির থেকে তার রাজনৈতিক দলের কাছে প্রতিনিয়ত ফোন আসছে।

ট্রাম্পের কর্মকর্তারা মূলত এই যুক্তিই দিয়েছিলেন যে এটিই ছিল এই সপ্তাহান্তের অনুষ্ঠানগুলো বাতিলের আসল কারণ: সশরীরে উপস্থিত থাকার অনুষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীদের জন্য টেলি-র‌্যালি করে নিজের সময়টার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে ট্রাম্পের প্রচারণা দল ঘোষণা করে, ’ভোটারদের উজ্জীবিত করতে, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে এবং বিজয় নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ১৯টি অঙ্গরাজ্যে ভার্চুয়াল ইভেন্টে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন।

ভার্চুয়াল ইভেন্টে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি রিপাবলিকানদের কিছু অংশের কাছে বেশ ইতিবাচক ছিল। সশরীরে উপস্থিত থাকার অনুষ্ঠানগুলো বাতিল থাকার ওই ২১ ঘণ্টার মধ্যে, নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান কর্মী নীরবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন যে ট্রাম্পের এই প্রচারণার বহর আর তাদের রাজ্যে আসছে না। অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, টেলি-র‌্যালির সময় ট্রাম্পের সেইসব অস্পষ্ট বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, যা এখন তার বড় বড় সমাবেশগুলোর একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে। যেমন—তিনি যে বুদ্ধিমত্তা বা কগনিটিভ পরীক্ষায় পাস করেছেন সেই দাবি, হোয়াইট হাউজের বলরুমের গল্প, কিংবা বিভিন্ন রিপাবলিকান পুরুষের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য।

একজন রিপাবলিকান কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের এই চূড়ান্ত ব্যস্ততার সময়ে ট্রাম্পের সমাবেশগুলো অতিরিক্ত সময় নষ্ট করছিল। অথচ এই সময়ে রিপাবলিকান কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া, জনসংযোগ করা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনার অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে পারতেন।

ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন এমন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রচারণার শেষ সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প মাঝেমধ্যে তার সহযোগীদের আরও বেশি সফরের সূচি তৈরি করতে চাপ দিয়েছেন। গভীর রক্ষণশীল জেলাগুলোতে তাকে দেখতে আসা ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখে তিনি উজ্জীবিত বোধ করছিলেন এবং বন্ধুবান্ধব ও উপদেষ্টাদের কথায় উৎসাহিত হচ্ছিলেন, যারা তাকে বলছিলেন যে তার উপস্থিতি রিপাবলিকানদের উদ্দীপনা সরাসরি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে ওই সূত্রগুলো আরও জানায়, মাসব্যাপী এই ঝোড়ো প্রচারণার অন্যান্য সময়ে তিনি আবার এই সফরের ক্লান্তিকর ও অবিরাম প্রকৃতি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন, যার কারণে তাকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শহরে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় কলেজ এরিনা বা সিভিক সেন্টারগুলোতে সমাবেশ করতে হচ্ছে, যেগুলো তার নিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়কার কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামগুলোর তুলনায় একেবারেই ছোট বা অনুন্নত মনে হয়। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এবং ইদানীং জনসমক্ষে ক্রমবর্ধমানভাবে এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যে, নিজের নির্বাচন না হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাকে কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট মেইন অঙ্গরাজ্য ছাড়া সিনেট নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই সফর করেছেন—অনেক রাজ্যে একাধিকবারও গেছেন। মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে সপ্তাহান্তের এই সফরগুলো বাতিল করার হোয়াইট হাউজের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও দলের অনুগতদের মধ্যে এটি নিয়ে খুব কমই অভিযোগ ছিল।

রবিবার অনুষ্ঠানগুলোসহ হিসাব করলে, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে ট্রাম্প মোট ২৮টি সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে এই সময়সূচিটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং এর ফলে তার কণ্ঠস্বরের ওপর বেশ ধকল গেছে।

চলতি মাসে কেনটাকির এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমার এটি করার কোনো দরকার নেই। কিন্তু আমাকে করতে হচ্ছে, কারণ (ডেমোক্র্যাটরা) যদি এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে যায়, তবে হঠাৎ করেই আপনারা এক বিপর্যয় দেখতে পাবেন এবং আমরা যেসব আবর্জনা বা আজেবাজে বিষয় নিয়ে কথা বলি, তার সব ফিরে আসবে। ঠিক এই কারণেই আমি এখানে আপনাদের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেটে যাচ্ছি।’ সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ১৩ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ১৩ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে এক শিল্প পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

শনিবার সকাল থেকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশুলিয়ার কাঠগড়া অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী অন্তত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, "এখন পর্যন্ত ১৩টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।"

তিনি আরও বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের রংপুর আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


হাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের রংপুর আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো এবং ভবিষ্যতের দক্ষ রসায়নবিদ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর রংপুর আঞ্চলিক পর্ব (প্রিলিমিনারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই পর্বে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৬৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. বলরাম রায় এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ড. ফাতিহা ফারহানা।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের মেডেল, সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে।

অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বলরাম রায় মন্তব্য করেন, "এই খুদে রসায়নবিদদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে পারলে আমাদের দেশের রসায়নচর্চা সুদূরপ্রসারী হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত রসায়নপ্রেমীদের খুঁজে বের করা সম্ভব।"

আয়োজক সূত্রে আরও জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগ বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সহযোগিতায় ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের সার্বিক আয়োজন করছে। এবারের প্রিলিমিনারি পর্ব দেশের মোট ১৪টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে।

সারা দেশ থেকে নির্বাচিত সেরা ২০০ শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা চার শিক্ষার্থী আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।

আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রসায়নের ব্যবহারিক ও সৃজনশীল জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলীর ওপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


কর্ণফুলীর ওপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

দেশের প্রথম চার লেনের ‘ক্যাবল-স্টেইড’ সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর। সেতুর মূল কাঠামো উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে টানা ইস্পাতের তারের মাধ্যমে ধরে রাখা হবে। আধুনিক এই সেতুটি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর রাঙামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৩২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি চালু হলে চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার মানুষের প্রায় চার দশকের ভোগান্তি কমে যাবে।

সওজ সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে কর্ণফুলী নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয় রাঙামাটির সঙ্গে রাজস্থলী ও বান্দরবান জেলার যোগাযোগ সহজ করার জন্য। ৩৭ বছর পরও কেবল একটি ফেরির মাধ্যমে দুই পাড়ের শত শত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি ব্যবস্থার কারণে পন্টুনের সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা যাত্রী ও চালকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৫৩২ মিটার হবে, যা স্টিল ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নির্মিত হবে। এর সঙ্গে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ হাজার ২৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এলিভেটেড সড়ক থাকবে। চার লেনের এই সেতুতে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ যুক্ত করা হবে, যা সেতুর অবস্থা ও স্থায়িত্ব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে। স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজাও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাবল-স্টেইড সেতুতে সেতুর সড়কপথের ভার মূল টাওয়ার বা পিলারের সঙ্গে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে বহন করা হয়। শক্তিশালী স্টিলের তারের সাহায্যে সেতুর ডেক বা চলাচলের পথ টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। টাওয়ার, তার ও ডেক একসঙ্গে সেতুর ভার বহন করে, ফলে নদীর মাঝখানে পিলার নির্মাণের প্রয়োজন হয় না। এতে বড় পরিসরের স্প্যান তৈরি করা সম্ভব হয় এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হয় না।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, সেতুটি রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৭ দশমিক ৫২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিপিপি পুনর্গঠন করে আবার পাঠাতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ফেরিতে একবারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বা বাস এবং ১৫ থেকে ২০টি ছোট ও হালকা যানবাহন পারাপার করা সম্ভব। নদী পার হতে আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বাড়লে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দিলে কিংবা নদীতে পানি কমে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়, যা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি এটি পর্যটন ও বাণিজ্যে গতি আনবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

চন্দ্রঘোনার ব্যবসায়ী ফরিদ আহমদ বলেন, চন্দ্রঘোনা ফেরি দিয়ে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়। তবে ফেরির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ছোট ছোট সাম্পানে নদী পার হন।

তিনি বলেন, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজার যাওয়ার এই পথটি বেশ জনপ্রিয়।

কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা থোয়াই অং মারমা বলেন, ‘ফেরি অচল থাকলে আমরাও থেমে থাকি। দুই-তিন মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন জরুরি রোগীরা। রাত-বিরাতে অ্যাম্বুলেন্সকেও ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেতু থাকলে কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া যেত।’

রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী তনয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফেরির ঝামেলায় পাহাড়ি এলাকার কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না। অনেক সময় ফেরি বিকল হয়ে মাঝনদীতে আটকে পড়ে। এই সেতু হলে বান্দরবান ও রাঙামাটির সঙ্গে আমাদের ব্যবসার চেহারাটাই বদলে যাবে।

ট্রাকচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ইট আনা-নেওয়ার কাজে তাকে এই ফেরি পার হতে হয়। কখনো এক ঘণ্টায় নদী পার হওয়া যায়, আবার কখনো দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়। সেতুটি হলে সময়ের অপচয় ও জীবনের ঝুঁকি—দুটিই কমবে।

সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, সেতুটি শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘দুই পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশে এই সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, চন্দ্রঘোনায় সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং দুই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য বান্দরবান, রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা, রাইখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%