০৬:৩২ পি.এম
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, মৃত্যুর পর একজন ব্যক্তির দাফনের অধিকার মৌলিক মানবাধিকার। এ অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাষ্ট্রও লঙ্ঘন করতে পারে না। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তারা। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত আছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।
আরও পড়ুন: বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার পর মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খনন করেন। মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাগরিকেরা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা যাচাই করার এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রের। কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায় ঘিরে এমন ঘটনা রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান বা অতীত ভূমিকার কারণে কোনো ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত ব্যক্তির মর্যাদাপূর্ণ সৎকার সব ধর্মেরই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন: ঘোষণার আট বছরেও সুন্দরবনে দস্যুতা অব্যাহত, আতঙ্কে বনজীবীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন