মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০১:৪৪ পি.এম
নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলায় চোরাচালান ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের তত্ত্বাবধানে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১০০টি কম্বল উদ্ধার করা হয়। এসব কম্বলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশ।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ১২টি ষাঁড় বাছুর জব্দ করা হয়। এসব গবাদিপশুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ আইনের ৩৪(৬) ধারায় আরও দুজনকে আটক করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। জনস্বার্থে ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের এ অভিযানে মোট ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. নুরুজ্জামান (২৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার যাত্রাবাড়ী বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। আটক নুরুজ্জামান উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে তাঁর কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের নির্দেশক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি (সাধারণ ও কারিগরি) পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৫ শিক্ষার্থী। এ বছর কলেজটি থেকে মোট ২৪২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে কলেজটির শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাধারণ ও কারিগরি শাখার শিক্ষার্থীরা এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
কলেজের পরিষদের সম্পাদক ও প্রভাষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের এ ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে এ ফলাফল অর্জিত হয়েছে। আগামীতে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আরও বাড়াতে পাঠদানের মানোন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে আগামী দিনের জন্য আরও মনোযোগ ও পরিশ্রমের সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাই।
কলেজ কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামীতে ফলাফলে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়।
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি।
এ ছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী মডেল কলেজের ১৫ জন, রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজের ১০ জন, একই উপজেলার সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ জন, নাগেশ্বরী উপজেলার কুটি পেয়ারা ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ জন এবং চিলাখানা মডেল কলেজের ৪ জন পরীক্ষার্থী সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, উলিপুর উপজেলার হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন, চিলমারী উপজেলার দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন এবং রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি।
এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার সামগ্রিক ফলাফলও হতাশাজনক। জেলায় মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৬ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৩ জন। সে হিসাবে জেলায় পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ, অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো খারাপ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ নিয়ে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সব ধরনের অপরাধ দমনে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ মোট ১৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখ দিনগত রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চার (০৪) টি থানা এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সার্বিক সাফল্য ও গ্রেপ্তারের বিবরণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার: নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০৩ জন সক্রিয় মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার: আদালতের পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) ০৮ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার: বিভিন্ন থানায় দায়ের করা নিয়মিত মামলার অভিযুক্ত ০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে গ্রেপ্তার: বিএমপি অধ্যাদেশের আওতায় ০৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিএমপি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদকের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন বরিশাল মহানগরীকে মাদকমুক্ত করতে সাধারণ জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। আপনার আশপাশে মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
হটলাইন / তথ্য কেন্দ্র: ০১৩২০-০৬৪০০০, ০১৩২০-০৬৪০৪৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ