০৫:২৯ পি.এম
বিএনপি–সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), মেডিকেল টেকনोलজিস্ট, নার্স ও ছাত্রদলের নেতাদের তোপের মুখে ডা. মামুনুর রশীদ, যিনি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের, নিজ কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বুধবার (৩ জুন) যখন তিনি তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তোপের মুখে পড়েন। তাকে 'পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যা দিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ড্যাব, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ পরিচালকের ক্যার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল যে, ডা. মামুনুর রশীদ পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল। তারা অভিযোগ করেন যে, তথ্য গোপন করে তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন। তারা জানান, তার নেতৃত্বে হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও নার্সরা কাজ করবে না। বিক্ষোভকারীরা তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যও বলেন।
আরও পড়ুন: মাদক ও বেকারমুক্ত বান্দরবান গড়ার আহ্বান সাচিং প্রু জেরীর
ডা. মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমের কাছে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এ ঘটনা ঘটাকালীন কথা বলেন। তিনি স্বাচিপের সঙ্গে অতীতের সম্পৃক্ততার কথা সত্ত্বেও বলেন যে, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে তাকে যুক্ত হতে হয়েছিল। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবন বিএনপিপন্থি ছিল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মন্ত্রণালয়ে যাবেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে গ্রহণ করবেন। পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ডা. মামুনুর রশীদ তার কার্যালয় ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল যে, মামুনুর রশিদ ‘ফ্যাসিবাদ’ তথা আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন এবং তথ্য গোপন করে এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তারা দাবি করেন, তার নিয়োগ বাতিল করে পরিচালকের পদে এমন কাউকে নিয়োগ দিতে হবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিলেন এবং এই পদের জন্য যোগ্য।
ডা. মামুনুর রশীদ তার কার্যালয় ত্যাগ করার পর বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সামনের নামফলক (নেমপ্লেট) খুলে ফেলেছেন। তারা চূড়ান্ত কোনো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়টি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ ও আনসার বাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়ায়, বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ঘটেনি।
আরও পড়ুন: সরকার আরো ১ লাখ এতিম-দুস্থ শিশুকে সহায়তা দেবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
এর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর, তিনি গত ২০ মে যোগদান করতে এসে কলেজ শাখার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে যোগদান না করেই দ্রুত চলে যান। এরপর একদিন পর ২১ মে তিনি যোগদান করেছিলেন। যোগদানের অল্প কয়েকদিনের মাথায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে তোপের মুখে তাকে কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন