শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫১ পি.এম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রীর ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত বক্তব্যকে সমাজবিরোধী ও বিজ্ঞানবহির্ভূত বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এই দাবি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই একটি অংশ। তবে যারা বিকৃত মানসিকতা লালন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকৃতি সাধন করে, তাদের কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার কোনো অবস্থাতেই এক বিষয় নয়; ট্রান্সজেন্ডারিজম একটি মারাত্মক বিকৃতি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রান্সজেন্ডারের ধারণা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানবহির্ভূত, খামখেয়ালি ও মানবসভ্যতার বিকাশবিরোধী। এর ফলে সমাজের মৌলিক পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। ইসলামসহ পৃথিবীর সব ধর্ম এবং প্রাচ্য সমাজ সর্বদা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি পশ্চিমা সমাজেও এখন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ও প্রত্যাখ্যাত এই ধারণাকে উৎসাহিত করে শিক্ষামন্ত্রী মূলত সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যার কঠোর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, সর্বমহলের প্রবল প্রতিবাদের মুখে মন্ত্রী ভুলবশত তৃতীয় লিঙ্গ বলতে গিয়ে ট্রান্সজেন্ডার বলেছেন বলে যে অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয় বা চতুর্থ লিঙ্গের ছদ্মাবরণে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিধ্বংসী চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্ব থাকা কোনো বিবেচনাতেই নিরাপদ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাতটি শর্ত মেনে না নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হবে না, এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই কথা জানান।
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে হলে ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে।
এক্স পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বারবার এবং স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, চাপ প্রয়োগ ও প্রলোভন দেখানোর কৌশলে ইরানকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। আলোচনায় অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নেওয়া হবে। সূত্র: মেহের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট সংকট এখন পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যদিও অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে, এমন বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এবং আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে দেখা যায়, সাজেকের বর্তমান সংকট কেবল একটি অবরোধ কর্মসূচির কারণে নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা এবং চাঁদা আদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ।
পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধের ফলে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। যদিও পরবর্তীতে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে এনে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে।
অবরোধের নেপথ্যে অস্ত্রধারী গ্রুপের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, সাজেকের মাচালং এলাকায় গত ৩১ আগস্ট থেকে অস্ত্রধারী জেএসএস সন্তু গ্রুপ অবস্থান করছে। তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ এবং চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অবস্থান করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাড়াপ্রধানদের মারধর, হুমকি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক শ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। এসব পরিবারকে নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনা এবং সাজেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আন্দোলন শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, অভিযুক্ত অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির আহ্বান নিয়ে আন্তর্জাতিক মাজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পরিচয় আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের অংশ।" তিনি বলেন, ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে, জন্মগ্রহণকারী নারী-পুরুষের লিঙ্গপরিচয় পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রোপচার ও হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে শারীরিক পরিবর্তন সাধন নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রসার ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।"
বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী আরও বলেন, ইসলাম প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা দেয়। তবে, মানবিকতার নামে শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি শিক্ষাব্যবস্থাকে এ ধরনের প্রচার-প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে নতুন প্রজন্মের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে সরকার সমাজের এতিম ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, "এতিমদের দায়িত্ব সরকারের।" সরকারের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতিম ও দুস্থদের কল্যাণে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে ১ লাখ এতিম ও দুস্থ শিশুকে সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, অনাথ ও এতিমদের জন্য সরকারি কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি ধনী ও বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, "কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রসারে মাদ্রাসাশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার জুমার আগে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আল জামেয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক মাওলানা মো. খোবাইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মেরাজুল হক, মুফতি আরশাদ রহমানি, পাকিস্তানের আল্লামা ফয়সাল নদীম, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আল মোবারক, মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী কুয়াকাটা, মুফতি শিহাব উদ্দীন নাটোরী, চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, শিল্পপতি আহমেদুল হক, মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুস সালাম, শিল্পপতি ফেরদৌস ওহিদ বাপ্পী, শিল্পপতি সামশুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, বিভাগীয় সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আলম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে।
দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জুমার নামাজের পর দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ