ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈদের আমেজের মাঝেই ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানার সামনে বিক্ষোভ


ঈদের আমেজের মাঝেই ১৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানার সামনে বিক্ষোভ

সাভারে ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেই আল-মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ ১৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। শ্রমিকরা ছুটি শেষে যখন কাজে যোগ দিতে কারখানায় যায়, তখন তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শনিবার (৬ জুন) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার উলাইল বাসস্ট্যান্ডের আল মুসলিম পোশাক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এসব শ্রমিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা বলেন, কাজে যোগ দিতে আসার পর তারা ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের এক মাসের বেতন পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের দাবি, ২৬ ধারার অধীনে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

তারা সতর্ক করেন, যদি কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে না নেয়, তবে তারা আরো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ১৩ বছর ধরে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর বলেন, তাকে হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ তাকে কারখানায় ঢুকতে দেয়নি।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি কি ‘আলাদিনের চেরাগ’? ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী সাইফুল সার্ভেয়ারের জমি ও ভবনে বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি, অর্থের উৎস কোথায়?

একইভাবে ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তারও একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।

এদিকে, দুপুরের পর ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিক সমাবেশ, মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো নোটিশ ছাড়াই ছাঁটাই করে দিয়েছে। সকালে ঈদের ছুটি শেষে তারা কারখানায় কাজে যোগ দিতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের আইডি কার্ড কেড়ে নেয়।

সুইং অপারেটর মাকসুদা আক্তার জানান, তিনি সকালে অফিসে গিয়ে কার্ড পাঞ্চ করতে গিয়ে দেখেন তার পাঞ্চ হচ্ছেনা। কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা টাকা না দিয়েই জোর করে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছে। এই অবস্থায় তাদের চাকরি কোথায় হবে, কিভাবে চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটির আগে তাদের ২০ দিনের বেতন দেওয়া হয়। তবে, কোনো নোটিশ না দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, কারখানায় কাজ নেই। অথচ তাদেরকে অতিরিক্ত শ্রম দিতে হয়। ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে করা হয়নি।

আরও পড়ুন: তরুণরা খেলাধুলায় থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকবে মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হাসান হাসিব

ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার দাবি করেন, যার ব্যাপারে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে অনেক শ্রমিক চাকরি হারানোর পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃখ ও দুর্দশার কথা জানান। একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুসারে কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারলেও, ২১ ধারা অনুসারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।

আল মুসলিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রায়হান জানান, শ্রমিকদের ২০ ধারার ভিত্তিতে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু ২৬ ধারার তিন মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়ে শিল্প পুলিশের সাথে আলোচনা হয়নি এবং তা দেওয়া হবে না। এক মাসের বেতন যারা পাননি, তাদের বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, অতিরিক্ত শ্রমিক হলে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্তদের ছাঁটাই করা উচিত, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে কর্মরত শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে, তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করেছে। এ ছাড়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করে, মালিকপক্ষ তাদের দাবির প্রতি সম্মতি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার ১৪৮ পিস ইয়াবা সহ ৩১ জন গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, আল মুসলিম গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মালিকানাধীন আল মুসলিম গ্রুপের সাভার ও আশুলিয়ার তিনটি কারখানা থেকে একযোগে এসব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লার কারখানা থেকে ১,২৮৬ জন, রেডিও কলোনির কারখানা থেকে ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল মুসলিম অ্যাপারেলস কারখানা থেকে ৫৩ জন শ্রমিক-কর্মকর্তা রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমালোচনার মুখে স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলো ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


সমালোচনার মুখে স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলো ফিফা

বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে স্টেডিয়ামের আচরণবিধিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার ওপর যা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন ফিফা প্রবর্তন করেছিল, এই বিষয়ে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তারা তাদের অবস্থান নমনীয় করেছে। ফলস্বরূপ, এবার শিথিল করা হয়েছে পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি।

তবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতলগুলো স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধই থাকছে। অনুমতি প্রদান করা হয়েছে শুধুমাত্র প্লাস্টিকের নরম সিল করা একবার ব্যবহারযোগ্য বোতলের ক্ষেত্রে। এই বোতলের সর্বোচ্চ ওজন ২০ আউন্স পর্যন্ত হতে পারে এবং এর পানি ধারণক্ষমতা ৫৯০ মিলিলিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তেইমো শিরগি এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন, ‘প্রতি দর্শক স্টেডিয়ামে একটি ২০ আউন্স (৫৬০ মিলিলিটার) ধারণক্ষমতার নরম প্লাস্টিকের, একবার ব্যবহারযোগ্য এবং কারখানায় সিল করা পানির বোতল নিয়ে আসতে পারবেন। তবে শক্ত (হার্ড-সাইডেড) ও পুনরায় বন্ধ করা যায় এমন (রিসিলেবল) পানির পাত্র বা বোতল গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সেগুলো নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।’

ফিফা পূর্বে স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য খালি পানির বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু এই সপ্তাহের শুরুর দিকে টিকিট ক্রয়ের পর প্রত্যেক দর্শকের কাছে ইমেইল প্রেরণ করে জানানো হয় যে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিবেচনায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফিফার এই পদক্ষেপের ফলে তীব্র সমালোচনার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবল সাপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে আবারও দেখা যাচ্ছে যে সমর্থকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বচ্ছন্দ এবং নিরাপদভাবে দর্শকদের জন্য একটি বড় উদ্বেগ। ফিফার মূল মনোযোগ এই বিষয়টি হওয়া উচিত, অতিরিক্ত দামে আরও বেশি বোতলজাত পানি বিক্রির সক্ষমতার দিকে নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্তব্য করেছেন, ‘এটা একেবারেই ভুল। এবং আমি মনে করছি এর পেছনে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি রয়েছে। আপনি বাইরে থেকে প্লাস্টিকের বোতল আনতে পারবেন না, কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর আবার পানির বোতল কিনতে পারবেন? আর এর দামও হবে অনেক বেশি। আমার মতে, টিকিটের দাম ইতিমধ্যে আকাশছোঁয়া, অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সুতরাং টিকিট বিক্রির দামও অতিরিক্ত।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে জাবির উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে জাবির উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে।

এ তথ্য জানানো হয়েছে শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উঠে এসেছে, নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া, তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি, আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


নকলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

শেরপুরের নকলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘মাটি’ নামক একটি সামাজিক সংস্থার উদ্যোগে সচেতনতামূলক র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক আলোচনা সভা, বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিতরণ, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবং ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’ এই শ্লোগানে মাটি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মাহবুব রহমানের নেতৃত্বে মাটি ইকো প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

মাটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্য, মাটি ইকো প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহন করেন। এরপরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। আলোচনায় বক্তারা সুস্থভাবে মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার াুপর আলোকপাত করেন।

সবশেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীসহ মাটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্য, মাটি ইকো প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে উন্নত জাতের পেঁপে, জলপাই ও পেয়ারা চারা এবং দেশীয় জাতের নিম গাছের চারাসহ মোট ১৪০টি চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া স্কুলের আশেপাশে সুবিধাজনক স্থানে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপন করা হয়।

মাটি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মাহবুব রহমান জানান, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো- পরিবেশ দূষণের কারণ চিহ্নিত করা, নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বারোপ, প্রতিরোধের উপায় নিরূপণ করাসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয়তা বাড়াতে কাজ করা।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ বিশ্ব পরিবেশ দিবস (ডব্লিউইডি) পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের ১৪৩ টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা সংগঠন বা সংস্থা দিবসটিকে কেন্দ্র করে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রেখে চলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং দ্রুত বিচারের আহ্বান বিশিষ্টজনদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং দ্রুত বিচারের আহ্বান বিশিষ্টজনদের

দেশে শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’-এর উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার, সরকারের বিভিন্ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ দেশের স্বনামধন্য আইনজীবী, চিকিৎসক, সমাজবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্প্রতি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা যখন তার মেয়ের ওপর হওয়া বর্বরতার বিবরণ দিচ্ছিলেন, তখন হলজুড়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার বুকফাটা আর্তনাদে উপস্থিত অতিথিরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বক্তারা রামিসাসহ অতীতে ঘটে যাওয়া সব শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।

জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে শিশু নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের জাগরণ। সরকার শিশু সুরক্ষায় আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে তারা জানান।

বৈঠকে আলোচকরা বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান, এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ এবং তা প্রতিরোধে করণীয়সমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া একটি খসড়া সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত অতিথিরা এই সুপারিশগুলো দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারণী মহলে পৌঁছে দেয়ার ওপর জোর দেন।

তারা বলেন, এই আলোচনা যেন শুধু এই বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সরকার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (উজ্জ্বল), ওরাকলের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা, প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা আকতার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের মহাসচিব ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, ডা. সাকলায়েন রাসেল এবং প্রবীণ সাংবাদিক মো. মাহতাব উদ্দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%