ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর


ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

মঙ্গলবার মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।  তিনি ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, জেলেরা ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করতে ক্ষতিকর অনেক জালের ব্যবহার করছে। এসব জাল উৎপাদন বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’-শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, ইলিশ মাছ একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং এটি বাংলাদেশে গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইলিশের সঙ্গে দেশের প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি জড়িত।  তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর উৎপাদন বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এটি এই খাতকে কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে।  সুতরাং এই খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি।  প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।  কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে ইলিশ সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এখনো কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

প্রতিমন্ত্রীর কথায়, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।  এছাড়া মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন।  মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান।  বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬০ বছর পর শৈশবের বিদ্যাপীঠে ফিরে আবেগে আপ্লুত মেজর জেনারেল মাহবুব হায়দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


৬০ বছর পর শৈশবের বিদ্যাপীঠে ফিরে আবেগে আপ্লুত মেজর জেনারেল মাহবুব হায়দার

 ১৬ জুন, ২০২৬, দীর্ঘ ৬০ বছর পরে শৈশবের স্মৃতি মিশ্রিত বিদ্যাপীঠে ফিরে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি মেজর জেনারেল মাহবুব হায়দার খান।

জীবনের বিভিন্ন সাফল্য ও অর্জনের পেছনে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবদান রয়েছে, সেই প্রিয় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ফিরে তিনি যেন একটি নতুন স্মৃতির মূর্তিকার মতো দাঁড়িয়ে গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হেলিকপ্টরযোগে তিনি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অম্বিকাচরনলাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন।

এসময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন নেপালের আর্মির মেজর জেনারেল এবং বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ কাজী আহমেদ হোসাইন ও তার ছেলে মানসিব খান। বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে, খেলার মাঠে ও পুরোনো স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। এই সময় তিনি তাঁর ছাত্রজীবনের বহু স্মৃতি আমাদের সামনে তুলে ধরেন।

এক আবেগঘন বক্তব্যে মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার শিক্ষার ভিত্তি নয়, এটি আমার চরিত্র গঠন ও জীবনবোধের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। ৬০ বছর পর এখানে ফিরে আসতে পেরে মনে হচ্ছে যেন আমি আবার আমার শৈশবে ফিরে গেছি।” তিনি বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হন। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিষ্ঠানের একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে মেজর জেনারেল মাহবুব হায়দার খানের এই সফর বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য বড়ই অনুপ্রেরণার উৎস হতে চলেছে।

প্রিয় বিদ্যাপীঠের আঙিনায় দাঁড়িয়ে অতীতের স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের বাস্তবতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটান মেজর জেনারেল মাহবুব হায়দার খান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং শিক্ষাদীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সে বিষয়ে চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। আর তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।’

আজ বিকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল সেটি অন্তত এখন নেই, এই মুহূর্তে নেই। যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটা সংবাদপত্রকে রেখে সব বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে রেস্ট্রিকশন তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে, এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।’

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

গণমাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে। অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। অর্থাৎ দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনারা সহযোগিতা করলে আমার কাজ সহজ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কম-বেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তান এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, বছরের নির্ধারিত কিছু দিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখানে একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে খুশি দেখেছেন আমার মনে হয় একই জিনিস মনে হয় আমিও দেখেছি। কিন্তু তার পরেও অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অনুভব করছি। কারণ, এখানে প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। 그래서 অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি অফিস থেকে যখন বাসায় যাচ্ছি, তখন আমার সাথে গাড়িতে যারা ছিল, তখন আমি তাদের বলছিলাম আব্বা একসময় কথা উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন যে দিনটা যদি ২৪ ঘন্টা মানে ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘আব্বার মতো আমি ওই দিন বলছিলাম যে, দিনটা মানে কখন অফিসে ঢুকছি এবং কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয় আসলে দিন ২৪ ঘন্টা না হয়ে যদি ৪৮ ঘন্টা হতো তাহলে একটু ভালো হতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার জন্য এখনো এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে আমার পিঠের হাড্ডিটা এখনো বাকাভাবে একটু লেগে আছে। যেহেতু প্রায় অনেকদিন এটা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি সেজন্য হয়ত একটু বাকাভাবে রয়ে গিয়েছে। চার সপ্তাহর মধ্যে তিন দিনে হাড্ডি জোড়া লেগে যাবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাট আমি এখন যদি যারা এর জন্য দায়ী, আমি যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতারাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে বলছি, দয়া করে আমার নেতাকর্মীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলারোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’ কর্মসূচি, চারা রোপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


কলারোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’ কর্মসূচি, চারা রোপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

১৬ জুন, ২০২৬,এই গাছটি আমার’, ‘আমার গাছ আমার প্রাণ’-এই অনন্য স্লোগানকে বুকে ধারণ করে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ১৭ জুন, ২০২৬ (বুধবার) বিদ্যালয়ের একদল ক্ষুদে প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের চারাগাছ রোপণ করবে। পরিবেশ রক্ষায় বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও যে সমান দায়বদ্ধতা রয়েছে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন যেন সেই বার্তাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু গাছ লাগানোই নয়, বরং গাছ রোপণের পর প্রতিটি চারাগাছের সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।

এ লক্ষ্যে, প্রতিটি গাছের মালিকানা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি, রোল নম্বর এবং রোপণ করা গাছের জাত ও তারিখ সংবলিত সুদৃশ্য পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ড ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন শ্রেণির প্রথম রোলধারী শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফলজ ও ঔষধি চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করবে। এদের মধ্যে নাম রয়েছে-মোছাঃ মারিয়াম তাবাসসুম (শ্রেণি: তৃতীয়, রোল: ০১)-আম গাছ (হিমসাগর), রাইসা সুলতানা (শ্রেণি: প্রথম, রোল: ০১)-লিচু গাছ, রাইসা আহম্মেদ (শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১)-কাঁঠাল গাছ, আমিনা সিদ্দীকা (শ্রেণি: চতুর্থ, রোল: ০১)-গাব গাছ, সাবিহা ইসলাম (শ্রেণি: পঞ্চম, রোল: ০১)-কামরাঙা গাছ। গাছ ও প্রকৃতির প্রতি কোমলমতি শিশুদের এই আগ্রহ এবং নিষ্ঠা ইতিমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এটি কেবল এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দূরদর্শী করে তোলার একটি চমৎকার দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। আগামীকালকের এই চারা রোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ব্যতিক্রমী এবং দূরদর্শী এই কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনায় আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও শুভকামনা প্রত্যাশা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় সরকার ব্লকচেইনভিত্তিক ফিচার চালু করবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় সরকার ব্লকচেইনভিত্তিক ফিচার চালু করবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ জাতীয় সংসদে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যারের একটি নতুন সংস্করণ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই সংস্করণে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা এবং ব্লকচেইনভিত্তিক রেকর্ড ট্র্যাকিংসহ উন্নত ডিজিটাল ফিচার থাকবে।

এ সম্পর্কিত তথ্য তিনি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর (নারী আসন-১১) পাঠানো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, উত্তরাধিকার সনদসহ স্থানীয় সরকার সেবাগুলোতে হয়রানি এবং দালাল চক্রের ভূমিকা দূরীকরণ বিষয়ক একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে আজ জানিয়েছেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন-২ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সিস্টেমে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো তথ্যের পরিবর্তন হলে তার লগ শনাক্ত করা যাবে। ফলে কোন পর্যায়ে তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।’

এলজিআরডি মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সরকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজ করতে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে সারা দেশে নিবন্ধনকারীদের এবং সহকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%