০৯:৪০ পি.এম
মঙ্গলবার মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, জেলেরা ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করতে ক্ষতিকর অনেক জালের ব্যবহার করছে। এসব জাল উৎপাদন বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’-শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, ইলিশ মাছ একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং এটি বাংলাদেশে গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইলিশের সঙ্গে দেশের প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি জড়িত। তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর উৎপাদন বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এটি এই খাতকে কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে। সুতরাং এই খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে ইলিশ সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এখনো কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
প্রতিমন্ত্রীর কথায়, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এছাড়া মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন