০৭:২৫ পি.এম
নাটোরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যুতে অসন্তুষ্ট স্বজন ও জনতা হামলা চালিয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহাবুজ্জামানকে আক্রমণ করে। হামলার সময় হাসপাতালে অবস্থিত গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত সন্তানটি জন্ম দিয়েছেন রুমা খাতুন। অন্যদিকে, শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা জীবিত শিশুর জন্ম দিয়েছেন।
নবজাতকের মৃত্যুর কারণে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আক্রমণের শিকার হন ডা. শাহাবুজ্জামান। পরে পুলিশ এসে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতারা হাসপাতালের গ্লাস ভাঙচুর করে।
সদর উপজেলার আগদিঘা গ্রামের রিকশা চালক বাবু হোসেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমা খাতুনকে নিয়ে শনিবার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। রোববার প্রসূতির পুনরায় ব্যথা শুরু হলে সকালে আবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রুমা খাতুন ছেলে সন্তান জন্ম দেন।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
নবজাতকের জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু অক্সিজেন ছাড়াই শিশুটিকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন পরিবার।
নবজাতকের বাবা বাবু হোসেন জানান, অক্সিজেন ছাড়াই তার সন্তানকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। নবজাতকের মা রুমা খাতুন জানায়, সকাল ৯টার দিকে তারা হাসপাতালে এসেছিলেন কিন্তু ডাক্তাররা হাসপাতালে ছিলেন না। ১০টার পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। তার সন্তান সেসময় শ্বাস নিচ্ছিল।
নাটোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহাবুজ্জামান বলেন, নবজাতক পেটের ভিতরে উল্টো অবস্থায় থাকায় মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান জানান, এই ঘটনায় নবজাতকের বাবা বাবু হোসেন নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন