১২:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ : হিজবুল্লাহ শুক্রবার দাবি করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরের দিকে সামরিক অগ্রযাত্রা চালানো ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। খবর অনুযায়ী, ইসরাইল এখনও লেবাননে হামলা পরিচালনা করে চলেছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি বাহিনী যখন মাজদাল জৌন এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাদের যোদ্ধারা সেখানে রকেট হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, এই এলাকা ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের পশ্চিম দিকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হিজবুল্লাহ দাবি করে, হামলার ফলশ্রুতিতে ইসরাইলি সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়েছে।
পরে শুক্রবার ওই এলাকায় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ওই সংগঠন জানায়। এ সংঘর্ষে হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং রকেটের ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর আরও হামলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন হিজবুল্লাহ।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এই বিষয়ে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিমান হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ইসরাইলের নজরদারির আওতার বাইরে থাকা এলাকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায় যে, নাবাতিয়েহ শহরের দক্ষিণে আলি তাহের পাহাড়ের আশপাশে ব্যাপক বিস্ফোরণ এবং গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে।
লেবাননে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের বিশেষ প্রতিনিধির উদ্যোগে একটি ত্রাণবাহী যানবাহন দক্ষিণাঞ্চলের খ্রিস্টান গ্রামগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এই এলাকা বর্তমানে সংঘাতের মাঝেও অবস্থান করছে। কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী সেই ত্রাণবাহী যানবাহনকে থামিয়ে দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। শুক্রবার এএফপিকে ত্রাণবহরের এক সদস্য এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করার পর লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের এক বৃহৎ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এরপরে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। ইসরাইলি হামলার কারণে লেবাননে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখলে নিয়েছে ইসরাইল।
এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নতুন আলোচনা হলেও সহিংসতা থামার লক্ষণ নেই। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরাইলের মধ্যে আলোচনা শেষে একটি শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও, তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
হিজবুল্লাহ ওই শর্তযুক্ত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এতে পরিষ্কারভাবে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা বা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সমাধানের জন্য যেকোনো সমঝোতা চুক্তিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন