ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দাপট দেখালো সেনেগাল!


ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দাপট দেখালো সেনেগাল!

কাগজে-কলমে তারা বিশ্বসেরা, মাঠের একেকজন ফুটবলার যেন একেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তবে নিউ জার্সির মাঠে প্রথমার্ধে সেই নক্ষত্রদের আলো ফুটবলবিশ্ব দেখতে পায়নি। কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা উসমান দেম্বেলের মতো প্রতিভাভরা ফ্রান্স দল সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধ জুড়ে চরম হতাশায় ভুগলো। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক থাকলেও দল হিসেবে তারকাদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি সূচক ছিল। সব খেলোয়াড় যেন যার যার মতো খেলছিলেন, একই সুরে মিলাতে পারছিলেন না।

ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট শেষে ফ্রান্স ও সেনেগালের মধ্যকার লড়াইটি গোলশূন্য সমতায় থাকলেও মাঠের অবস্থা বলছে ভিন্ন কথা। ফরাসিদের স্তব্ধ করে দিয়ে, বরং প্রথমার্ধে সেনেগাল অনেক বেশি উজ্জ্বল ছিলেন। একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে তারা লিড পেয়ে যেতে পারতেন; কিন্তু নিকোলাস জ্যাকসনের দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে দুর্ভাগ্যবশত গোল পায়নি সেনেগাল।

পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে গোল করা তো দূরের কথা, ফ্রান্সের কোনো ফুটবলার সেনেগালের গোলপোস্ট বরাবর একটি শটও নিতে পারেননি। ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং পোস্টের বাধায় সেনেগাল গোল না পাওয়ায় অন্তত গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেছে ফরাসিরা।

আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এখন দেখার বিষয় হল, first half এর এই ছন্নছাড়া ভাব ও হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের দল নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন কি না। নাকি ফরাসি দুর্গ ভেঙে সেনেগাল জয়ের আনন্দে মাতবে? জবাব মিলবে ম্যাচের বাকি ৪৫ মিনিটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত লুকা জিদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২১ এম


আর্জেন্টিনার কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত লুকা জিদান

ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন ছিল ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই। ওই দিন ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ফ্রান্স প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনালে অসাধারণ অবদান ও জোড়া গোল করে জিনেদিন জিদান ফরাসিদের কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। বিপরীতে, সেই বছরের ১৩ মে তার দ্বিতীয় পুত্র সন্তান লুকা জন্মগ্রহণ করেন। বুধবার (১৭ জুন) সেই লুকার অভিষেক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আলজেরিয়ার জার্সিতে। বর্তমানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে তার গুরুদায়িত্ব থাকবে জাল অক্ষত রাখার।

লুকা জিদান, ফ্রান্সের এক্স-অঁ-প্রোভঁস শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ফরাসি যুবদলের হয়ে খেলেছেন। তিনি ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন। তার বাবা জিনেদিন জিদান ফরাসি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তি হলেও, নিজ শিকড়ের টানকে লুকা অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সুতরাং, গত সেপ্টেম্বর মাসে গ্রানাডার এই গোলরক্ষক আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।

লুকার দাদা-দাদি, ইসমাইল ও মালিকা, ১৯৬২ সালে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে আসেন। এই পারিবারিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক লুকার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১০১ জন খেলোয়াড়ের একজন, যারা ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেও অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

লুকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি যখন আলজেরিয়ার কথা ভাবি, তখন আমার দাদার কথা মনে পড়ে। ছোটবেলা থেকে আমরা আলজেরীয় সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়েছি, আর এই ভালোবাসা আমাদের মধ্যে গড়ে তুলেছেন আমার দাদা-দাদি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে জাতীয় সংগীত শুনলে আমি অবিশ্বাস্য আবেগ অনুভব করি।’

জিনেদিন জিদানের মতো, যিনি কখনো নিজের আলজেরীয় শিকড়কে লুকাননি, লুকাও সবসময় নিজের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত ছিলেন। এটি তাকে আলজেরিয়ার হয়ে খেলায় সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।

কেবল আবেগই নয়, বাস্তবতাও ছিল একটি কারণ। উগো লরিসের যুগ শেষ হওয়ার পর মাইক মেনিয়ঁ ফ্রান্সের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই ফরাসি জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা লুকার জন্য অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আলজেরিয়ার ডাক তার জন্য একটি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

লুকা জিদান ফুটবলের হাতেখড়ি নিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে। ২০১৮ সালের ১৯ মে বাবা জিদানের অধীনে রিয়ালের প্রথম দলে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র ম্যাচে অভিষেক ঘটে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না হওয়ায় এবং থিবো কোর্তোয়া ও কেইলর নাভাসের মতো বিশ্বমানের গোলরক্ষকদের ছায়ায় পড়ে যাওয়ায় তিনি নতুন পথ খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরে রায়ো ভায়োকানো, রেসিং সান্তান্দার এবং এসডি এইবারের হয়ে খেলেছেন। অবশেষে তিনি গ্রানাডায় পৌঁছান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে ৪৫ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৫টি ক্লিন শিট রেখেছেন এবং ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।

তবে এবারের বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল। এপ্রিল মাসে আলমেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফরোয়ার্ড অস্কার নাসেইয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে তার চোয়াল ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত লাগে। সৌভাগ্যক্রমে সুস্থ হয়ে ফিরলেও, আক্রান্ত অংশকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষভাবে তৈরি মুখোশ পরে মাঠে নেমে তিনি খেলবেন।

কিন্তু কেন বিশ্বের অন্যতম সেরা, দক্ষ ও নান্দনিক ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে হয়ে লুকা গোলরক্ষক হলেন? এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বড় ভাই এনজো। লুকা বলেছেন, ‘ছোটবেলায় আমি ভাইয়ের সঙ্গে ফুটবল খেলতাম। আমি আকারে ছোট ছিলাম বলে সে সবসময় আমাকে গোলপোস্টে দাঁড় করিয়ে দিত। সে বলত আমি নাকি বেশ ভালো গোলরক্ষক, যদিও এখনো জানি না সে সত্যি বলেছিল নাকি মজা করেছিল।’

নিজের আলাদা পরিচয় গড়ার ইচ্ছাও তাকে এই পথে এনেছে। লুকা ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি গোলরক্ষক হিসেবেই থেকে গেছি কারণ আমার ব্যক্তিত্ব আলাদা। আমি বাবার সঙ্গে তুলনা পছন্দ করি না, আর গোলরক্ষক হলে তাঁর সঙ্গে তুলনা করা কঠিন।’

২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার মাঠের বাইরেও নিজের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা তার বিখ্যাত পদবির ভার থেকে আলাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সক্রিয় এবং নিজের ফ্যাশন-সচেতনতা ও ব্যক্তিগত স্টাইল নিয়মিত তুলে ধরেন।

‘ওল্ড মানি’ ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার ক্লাসিক, বহুমুখী ও মার্জিত পোশাক তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলে। লিনেন শার্ট, টেক্সচারযুক্ত পোলো শার্ট, ঢিলেঢালা পোশাক এবং সূক্ষ্ম অনুষঙ্গগুলো তার স্টাইলের নিয়মিত অংশ। লুকা বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, আমি আমার বাবাকে শ্রদ্ধা করি এবং এই পদবি বহন করতে গর্ববোধ করি। কিন্তু ফুটবলে আমি চাই মানুষ আমাকে লুকা হিসেবে চিনুক, বাবার সঙ্গে তুলনা করে নয়।’

সকালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে লুকা ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সেখান থেকেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র উত্তরাধিকার রচনার গল্প শুরু করতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’,  উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’,  উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক সই করা নিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন, পাশাপাশি তিনি নিজ দলেরই প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতাদের বিরাগভাজন হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির মতো দুর্বল হয়, তবে এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

কট্টরপন্থীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো চুক্তির শর্তাবলীর অস্বচ্ছতা। চুক্তির মূল শর্ত বা এমওইউর বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশ করা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনসহ অনেকেই একে অস্বচ্ছ ও রহস্যময় বলে অভিহিত করেছেন। সমালোচকদের বড় একটি অংশ আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প নিজেই যে পরমাণু চুক্তি একদিন বাতিল করেছিলেন, এবার তারই একটি দুর্বল সংস্করণ জোড়াতালি দিয়ে ফিরিয়ে আনছেন। এটি তাদের কাছে অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এছাড়া ইরানকে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কার্যকর বিধিনিষেধ না রাখাকে তারা কার্যত ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। ইরানি পুনর্গঠন তহবিলের বিপুল অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে, যাকে সমালোচকরা নাৎসি জার্মানিকে মার্শাল প্ল্যান দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তির প্রতি সমর্থন জানানোর চেয়ে চিন্তিত থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং এই চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিন ও ন্যাশনাল রিভিউর সম্পাদকরা সরাসরি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে হতাশাজনক ও দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এরিক এরিকসন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে ট্রাম্প এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি রয়েছেন। তিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চাইলেও, তাঁর এই কৌশল উল্টো তাঁকে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়ে কোণঠাসা করে ফেলছে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত এই সংঘাত শেষ করা, কিন্তু তাঁর এই শান্তিপ্রয়াসী মনোভাব ইরানকে একটি ভালো চুক্তির জন্য অপেক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। চুক্তির মূল লিখিত রূপ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যদি ডানপন্থী সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে ট্রাম্প ওবামার ব্যর্থ নীতিকেই পুনরাবৃত্তি করছেন, তবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিশোধ নিলে হাড্ডি জোড়া লাগবে না, ব্যথাও কমবে না: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৩ এম


প্রতিশোধ নিলে হাড্ডি জোড়া লাগবে না, ব্যথাও কমবে না: প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে দলীয় নেতাকর্মীদের দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিজের ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘যারা এটার জন্য দায়ী, এখন আমি যদি সেরকম করি, সেটা হয়তো আমার পক্ষে করা পসিবল। কিন্তু আমার কি হাড় জোড়া লাগবে? আমি এখনও যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা কি চলে যাবে? তা তো হবে না। আমার মনে হয় সে জন্য আমাদের এই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।

২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই নির্যাতনের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মুক্তির পর তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটান।

বিগত দিনের সেই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য হলো, ‘আমি জেলের মধ্যে থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তাটা হলো–হ্যাঁ হয়েছে। আমি অনেক কিছু বলতে পারি যে আমি এই হারিছ, ওই হারিছ। এ এটার জন্য দায়ী, সে সেটার জন্য দায়ী।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার জন্য এখনও এক্স-রে করলে দেখা যাবে আমার পিঠের হাড্ডিটা এখনও বাঁকাভাবে একটু লেগে আছে। কারণ অনেক দিন আমাকে এটার পরও ফেলে রাখা হয়েছিল, প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি।’

তবে সেই ক্ষতি আর ফিরে আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা এটার জন্য দায়ী, এখন আমি যদি যদি সেরকম করি, সেটা হয়তো আমার পক্ষে করা পসিবল, আমারটা কি হাড় জোড়া লাগবে? আমি এখনও যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা কি চলে যাবে? অনুভব করা বন্ধ হয়ে যাবে? তা তো হবে না। আমার মনে হয় সে জন্যই আমাদের এই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আমাদের উচিত প্রতিটি মুহূর্তে চিন্তা করা যে, আমরা একচুয়ালি এখন কি কন্ট্রিবিউট করতে পারি ফর দ্য নেশন অ্যান্ড ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।’

তিনি তার এই বার্তাটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণদের শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে ইতিবাচক খাতে ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে খেলার মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে।’ অথচ সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই ইতিবাচক আয়োজনটি সেভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক সহিংসতা রোধে তিনি স্কুল পর্যায় থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান। এ ছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি প্রসঙ্গ টেনে আনেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আব্বা একসময় ওনার এক সহকর্মীকে বলেছিলেন, দিনটা যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হতো, তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।’ এখন নিজেরও একই রকম উপলব্ধি হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, ‘কখন অফিসে ঢুকছি, কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে… একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলার টাইম পাওয়া যাচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং খোলামেলা আলাপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হতাশার প্রথমার্ধ ভুলে এমবাপ্পের ম্যাজিকে এগিয়ে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫১ এম


হতাশার প্রথমার্ধ ভুলে এমবাপ্পের ম্যাজিকে এগিয়ে ফ্রান্স

ফ্রান্স প্রথমার্ধের চরম হতাশা এবং ছন্নছাড়া ফুটবল ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দারুণ গোলে সেনেগালের বিপক্ষে লিড নিতে সক্ষম হয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

নিউ জার্সির মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স তাদের পরিচিত ছন্দের ধারেকাছেও ছিল না। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলে বোঝাপড়ার ঘাটতি স্পষ্ট ভাবে লক্ষ্যণীয় ছিল। উল্লেখযোগ্য প্রথমার্ধের মধ্যে ফ্রান্স সেনেগালের গোলপোস্টে কোনো শটই রাখতে পারেনি। উল্টো ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে না লাগলে আফ্রিকার পরাশক্তিরা লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে পারত।

প্রথমার্ধের বিরতির পর ফ্রান্স সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে। তারা আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাইকেল ওলিসের রক্ষণচেরা অ্যাসিস্ট থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের পক্ষে নিজের ৫৭তম গোলটি করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুকে ছুঁয়ে ফেলেছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১৩-এ নিয়ে গিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার আরও কাছে পৌঁছে গেলেন তিনি।

ম্যাচের এক পর্যায়ে এমবাপ্পেকে বক্সের ভেতর ট্যাকল করলে সাদিও মানে পেনাল্টির আবেদন ওঠে। রেফারি প্রথমে সাড়া না দিলেও পরে ভিএআর যাচাই করেন, তবে ফরাসিদের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসেনি।

ফ্রান্স পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া সেনেগাল আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণভাগ তা এখন পর্যন্ত সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচের বাকি সময়ে এই ব্যবধান ধরে রেখে ফ্রান্স জয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারে, নাকি সেনেগাল ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%