১০:২৩ পি.এম
বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলা সদরের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তবে এখনো অনেক নিম্নাঞ্চলে হাঁটু পরিমাণ পানি জমা দেখা যাচ্ছে। সেই কারণে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে কিছু পরিবার তাদের বাসতবাড়িতে পরিস্কারের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে এবং ওইসব এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
এদিকে, বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক গত তিনদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল, তবে পানি কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছেন। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাঙ্গুনিয়া এলাকায় একটি সেতু ধসে পড়ায় জেলার সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়ে এবং সড়কে পাহাড় ধসে অনেক উপজেলার সড়কে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলস্বরূপ নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘরবাড়ি ছেড়ে যারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন, তারা কাজ ও উপার্জন হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এবং অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের কারণে জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি ও বান্দরবান-রাঙ্গামাটিসহ অভ্যন্তরীণ উপজেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার ফলে পাহাড় ধস, সড়ক ভেঙে গিয়ে এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তবে রুমার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এখনো প্রায় দেড়শতাধিক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। রুমা উপজেলা বেথেলপাড়া থেকে মুনমামপাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ওই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট এসব পরিস্থিতিতে থানচি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাসদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণ করছেন। টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে থানচি-আলীকদম ও রুমা-থানচি সড়কের বেশ কিছু স্থানে মারাত্মক ধস নেমেছে।
এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সেনাসদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় উদ্ধার এবং অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অপরদিকে, এই দিন সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে এখনও শহরের অলিগলিতে সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী সড়ক পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ এবং যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। জেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
এই আশ্রয় কেন্দ্রে প্রশাসন, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শুকনা খাবার, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ যাবতীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ৮ লাখ ৪০ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার ফলে লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং আলীকদম উপজেলা নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বালাঘাটা এলাকার রাস্তায় পানি পুরোপুরি না নামায় বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কে পানি কমে যাওয়ার কারণে ওই সড়কপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন