ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে ১৩ হাজার ইয়াবা ও ১১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩


রাজধানীতে ১৩ হাজার ইয়াবা ও ১১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এবং মুগদা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১১ কেজি গাঁজাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছেন—মো. আবুল হোসেন (৭০), কামরুল হাসান সজীব (২৪) ও মো. আলামিন তালুকদার (২৭)।

গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ডিবি-মতিঝিল বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান শুরু করে এবং আবুল হোসেন ও কামরুল হাসান সজীবকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১১ কেজি গাঁজা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা

এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ডিবি-মতিঝিল বিভাগের আরেকটি দল মুগদা থানার টিটিপাড়া এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের ৩ নম্বর গেটের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় মো. আলামিন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৩ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মুগদা থানায়ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।

আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানোর কথা রয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

ফোন কলের মধ্যে হাছান মাহমুদ বলেন: 'জি আপা, আসসালামু আলাইকুম।' শেখ হাসিনা উত্তর দেন: 'ফোন করছিলে।'

হাছান মাহমুদ আরও বলেন: 'না না, তখন চাপ পড়ে গেছিল, সরি।' শেখ হাসিনা বলেন: 'ও হো।'

হাছান মাহমুদ: 'কাদের ভাই রেখেছিল। তখন আবার চাপ পড়ে গেছিল। সরি।' শেখ হাসিনা: 'ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।'

হাছান মাহমুদ: 'হ্যাঁ হ্যাঁ।' শেখ হাসিনা: 'বুঝছো?'

হাছান মাহমুদ: 'জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন......' শেখ হাসিনা: 'না, আমাদের লোক থাকতে বলো...। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।'

হাছান মাহমুদ: 'জ্বি, জ্বি।' শেখ হাসিনা: 'আমাদের অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।'

হাছান মাহমুদ: 'জ্বি জ্বি রাইট, এইটাই টিট ফর ট্যাট। জ্বি আপা। কাদের ভাই আছে। জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা চলে আসব, যেহেতু প্রেগ্রাম দিয়ে দেওয়া হইছে।…যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।'

শেখ হাসিনা: 'না, যার যার এলাকায়।'

হাছান মাহমুদ: 'জ্বি জ্বি রাইট। যার যার এলাকায়।' শেখ হাসিনা: 'বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো...সব নেতা-কর্মীদের এইভাবে ব্যবস্থা কর।'

হাছান মাহমুদ: 'কাদের ভাইকে একটু দিচ্ছি।' শেখ হাসিনা: 'প্রত্যেকটা এমপিকে ডাক, খবর দাও। প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।'

ওবায়দুল কাদের: 'জ্বি, জ্বি।' শেখ হাসিনা: 'না, ওই যে তোমার সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‌্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলছি যে, যেখানে যেখানে গ্যাদারিং আছে, সব জায়গায় র‌্যাব....। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নাই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দিবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে...।'

ওবায়দুল কাদের: 'সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতিঝিলে ছিনতাই করে পালানোর সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


মতিঝিলে ছিনতাই করে পালানোর সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছিনতাই করে পালানোর সময় মো. রাজু (২৬) নামের একজন ব্যক্তি ট্রাফিক সার্জেন্টের হাতে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এসময় তার কাছে পাওয়া যায় ছিনতাই করা কানের দুল, যা ভুক্তভোগী নারীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে মেট্রোরেলমুখী সড়কে কয়েকজন পথচারী এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. সাহাদত মীর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পরে উপস্থিত জনসাধারণের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়। পরে ওই দুলটি ভুক্তভোগী নারীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া রাজুকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মতিঝিল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন ইস্যুতে ইতালি-ডেনমার্ক প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


অভিবাসন ইস্যুতে ইতালি-ডেনমার্ক প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি

ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন সতর্কতামূলক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। রাজনৈতিকভাবে একপেশে ডানপন্থী এবং বামপন্থী ঘরানার এই দুই নেতার যৌথ বিবৃতি ইউরোপের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা অভিবাসন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা উস্কে দিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ইউরোপীয় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁরা সতর্কতা ব্যপ্ত করেন যে, অভিবাসনের কারণে অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থার কারণে নাগরিকদের সরকারের ওপর আস্থা কমছে।

এ দুই রাজনীতিক যোগ করেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হলেও ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষার ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান একই। মেলোনি ইতালির ডানপন্থী দল ব্রাদার্স অব ইতালির নেতা। অন্যদিকে ফ্রেডেরিকসেন ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা। যদিও তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন, তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাঁদের মধ্যে ঐক্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বরাবরই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এবারে অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপের বাইরে রাখার পক্ষে তাঁর মত প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে উভয় নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে রিটার্ন সেন্টার বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা এটা উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ সহিংস অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা যৌন সহিংসতায় জড়িত হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতাকে নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইউরোপে অভিবাসন বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে। এতে অভিবাসী বিরোধী ডানপন্থী দলগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। আগস্টের প্রথমে, মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছান, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সাঁতরে আসেন। পরে তাঁদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর ইতালি স্পেনের সাথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে এবং পরে স্পেনও ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহৎ রাজনৈতিক গ্রুপ ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা ম্যানফ্রেড ভেবার ইইউর বাইরের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং আফ্রিকায় দ্রুত রিটার্ন হাব স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই ধরনের কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করবে, তাঁদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে পারে।

তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কেন্দ্রে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো পরিকল্পনাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো তাদের মানবাধিকার বিষয়ক দায়িত্ব অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক নেতারা, প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক নেতারা, প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে

সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাত শিক্ষকের যুক্ত থাকার অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযোগের অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রের খবরে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ও সাময়িক বরখাস্ত কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের গোপন অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আক্তার মনিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

তথ্য অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নিজ বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ দেয়। তার একটি তদন্ত এখনো চলমান বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে অন্য একটি তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একইভাবে কমিটির সদস্য ড. মো. হারুন-আল-রশীদ শিক্ষক সমিতির আওয়ামিলীগ পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন‘নীল দল’-এর প্যানেল থেকে নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এবং নীল দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাওয়া কমিটির সদস্যদের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা থাকায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি সদস্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল এবং গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান। তাঁরা জুলাইয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন, দেবু পিকে (সাংকেতিক নাম) এবং এসকে বি (সাংকেতিক নাম)।

তবে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানাধীন। তথ্য অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “এখন তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রেজিস্ট্রার কোনো সময় উল্লেখ করেননি।

দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার প্রশ্ন রয়েছে, তাদের দিয়ে তদন্ত করানো হলে স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যাদের নামেই তদন্ত চলমান, তারা কীভাবে অন্যের তদন্তের দায়িত্বে থাকেন এ বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।”

আরেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। একইভাবে অভিযোগকে উপেক্ষাও করা উচিত নয়। তাই অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কমিটির প্রতিবেদন যেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হয় এবং কারও প্রতি পক্ষপাত না থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%