ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মতিঝিলে ছিনতাই করে পালানোর সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ১


মতিঝিলে ছিনতাই করে পালানোর সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছিনতাই করে পালানোর সময় মো. রাজু (২৬) নামের একজন ব্যক্তি ট্রাফিক সার্জেন্টের হাতে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এসময় তার কাছে পাওয়া যায় ছিনতাই করা কানের দুল, যা ভুক্তভোগী নারীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে মেট্রোরেলমুখী সড়কে কয়েকজন পথচারী এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. সাহাদত মীর দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন: সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ থাকবে দোকানপাট ও মার্কেট

পরে উপস্থিত জনসাধারণের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়। পরে ওই দুলটি ভুক্তভোগী নারীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া রাজুকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মতিঝিল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন ইস্যুতে ইতালি-ডেনমার্ক প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


অভিবাসন ইস্যুতে ইতালি-ডেনমার্ক প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতি

ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে এখন পর্যন্ত নজিরবিহীন সতর্কতামূলক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। রাজনৈতিকভাবে একপেশে ডানপন্থী এবং বামপন্থী ঘরানার এই দুই নেতার যৌথ বিবৃতি ইউরোপের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা অভিবাসন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা উস্কে দিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ইউরোপীয় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁরা সতর্কতা ব্যপ্ত করেন যে, অভিবাসনের কারণে অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থার কারণে নাগরিকদের সরকারের ওপর আস্থা কমছে।

এ দুই রাজনীতিক যোগ করেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ভিন্ন হলেও ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষার ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান একই। মেলোনি ইতালির ডানপন্থী দল ব্রাদার্স অব ইতালির নেতা। অন্যদিকে ফ্রেডেরিকসেন ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা। যদিও তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন, তবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাঁদের মধ্যে ঐক্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বরাবরই অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এবারে অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপের বাইরে রাখার পক্ষে তাঁর মত প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে উভয় নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে রিটার্ন সেন্টার বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা এটা উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ সহিংস অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা যৌন সহিংসতায় জড়িত হয়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতাকে নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইউরোপে অভিবাসন বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে। এতে অভিবাসী বিরোধী ডানপন্থী দলগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। আগস্টের প্রথমে, মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছান, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সাঁতরে আসেন। পরে তাঁদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর ইতালি স্পেনের সাথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে এবং পরে স্পেনও ইতালি থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহৎ রাজনৈতিক গ্রুপ ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা ম্যানফ্রেড ভেবার ইইউর বাইরের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং আফ্রিকায় দ্রুত রিটার্ন হাব স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই ধরনের কেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতা করবে, তাঁদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে পারে।

তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ কেন্দ্রে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো পরিকল্পনাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো তাদের মানবাধিকার বিষয়ক দায়িত্ব অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক নেতারা, প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক নেতারা, প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে

সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাত শিক্ষকের যুক্ত থাকার অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযোগের অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রের খবরে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ও সাময়িক বরখাস্ত কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের গোপন অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আক্তার মনিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

তথ্য অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নিজ বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ দেয়। তার একটি তদন্ত এখনো চলমান বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে অন্য একটি তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একইভাবে কমিটির সদস্য ড. মো. হারুন-আল-রশীদ শিক্ষক সমিতির আওয়ামিলীগ পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন‘নীল দল’-এর প্যানেল থেকে নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এবং নীল দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাওয়া কমিটির সদস্যদের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা থাকায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি সদস্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল এবং গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান। তাঁরা জুলাইয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন, দেবু পিকে (সাংকেতিক নাম) এবং এসকে বি (সাংকেতিক নাম)।

তবে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানাধীন। তথ্য অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “এখন তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রেজিস্ট্রার কোনো সময় উল্লেখ করেননি।

দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার প্রশ্ন রয়েছে, তাদের দিয়ে তদন্ত করানো হলে স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যাদের নামেই তদন্ত চলমান, তারা কীভাবে অন্যের তদন্তের দায়িত্বে থাকেন এ বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।”

আরেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। একইভাবে অভিযোগকে উপেক্ষাও করা উচিত নয়। তাই অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কমিটির প্রতিবেদন যেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হয় এবং কারও প্রতি পক্ষপাত না থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজে দগ্ধ মা-ছেলের পর বাবার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজে দগ্ধ মা-ছেলের পর বাবার মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজের কারণে যে বিস্ফোরণ ঘটে তাতে দগ্ধ হয়েছেন মা ও ছেলে। তাদের মৃত্যু ঘটার পর এবার মারা গেলেন পরিবারের কর্তা রাজমিস্ত্রি মাইদুল (২৪)।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

মাইদুলের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

এর আগে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি (২৪)। বিউটির শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং শুরু থেকেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

এছাড়া, তাদের আট বছর বয়সী ছেলে মারুফও এর আগে গত শনিবার দুপুরে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারুফের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

তাদের গ্রাম নাটোরে অবস্থিত। প্রায় এক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া ছিলেন।

ঘটনার দিন প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে, নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, টিনশেড ঘরের পাশের রান্নাঘরে তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল। পরে এই জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

দগ্ধ বিউটির মা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকার কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। শুক্রবার ভোরে মাইদুল লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরানোর চেষ্টা করলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাইদুল, তার স্ত্রী এবং তাদের একমাত্র ছেলে দগ্ধ হয়ে যায়। আগুনের কারণে ঘরের আসবাবপত্রও পুড়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চেয়ে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চেয়ে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব

বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো গভীর এবং বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেছে—রিজিওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-তে সদস্যপদ লাভ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় এবং বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন।

 

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড এবং ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হল্যান্ড। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ উইংয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশ সরকার এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে, দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের প্রসঙ্গে। বাংলাদেশ জানায় যে সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলীর জবাব ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আরসিইপির উচ্চমানের বাণিজ্যিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিল্পখাতের জন্য কাঁচামাল এবং উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক হ্রাস, সেবা খাতে ‘পজিটিভ লিস্ট’ থেকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ পদ্ধতিতে রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতা, পেটেন্ট, কপিরাইট ও ডেটা সুরক্ষা বিষয়ে আধুনিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা।

আরসিইপির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সংবেদনশীল শিল্প এবং পণ্য খাতের জন্য আসিয়ানভুক্ত এলডিসি দেশগুলোর মতো ১৫-২০ বছরের ধাপে ধাপে শুল্ক সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে এলডিসি উত্তরণ ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার যে আবেদন করেছে, তার পক্ষে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়া হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক দামস্ফীতির কারণে উত্তরণ-প্রক্রিয়ায় থাকা অর্থনীতিগুলো উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীলকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানায়, এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই; বরং অতিরিক্ত সময়কে টেকসই ও সুসংগঠিত প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক এফটিএ আলোচনার অগ্রগতি

বৈঠকে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডব্লিউটিওর ১৪তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন (MC-14) উপলক্ষে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এফটিএ আলোচনা শুরু করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশের মতে, এফটিএ কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষিযন্ত্র এবং ধাতব পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিউজিল্যান্ডের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি এবং পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার পাবে।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য তিনটি প্রস্তাব

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে—

১. আরসিইপি, এলডিসি-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ পর্যালোচনার জন্য একটি বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ গঠন;

২. এফটিএ আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন;

৩. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের নীতি-সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ডের নীতিনির্ধারকদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%