০৫:২৮ পি.এম
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেলা সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
শরীয়তপুর বাসীর পক্ষে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু। শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি সদর বা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের দাবিতে আন্দোলনকারীরা তিন দফায় কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে ২৩ অক্টোবর বিকেলে ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের গাগরীজোড়া এলাকায় এবং ২৭ অক্টোবর সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় ‘জাগো শরীয়তপুর’ ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে শরীয়তপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য চিঠি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন খসড়া আইন প্রণয়নের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হয়।
পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হয়। ওই বছরের ১২ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম নির্ধারণ করা হয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর'। একই বছর ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বতী সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাখে। ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখরকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় জমি পরিদর্শন করেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ। ওই জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই এলাকা জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয়টি শরীয়তপুর সদর কিংবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি ও ভালো শিক্ষক আকৃষ্ট করার সুযোগ থাকবে। তাঁদের মতে, দুর্গম এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে সদর ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, "শরীয়তপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি সদর অথবা ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে করা হোক। পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা জানি ডামুড্যায় নার্সিং ইনস্টিটিউট ও বুড়িরহাটে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের হতাশা রয়েছে। সদর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। শরীয়তপুরবাসীর দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন