ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা


বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে ব্যয় হিসেবে না দেখে, বরং এটি মানুষের জীবন, জাতীয় সম্পদ ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধুমাত্র দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়নের একটি মৌলিক ভিত্তি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন: নির্যাতনের বিচারহীনতায় বাড়ছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ঝুঁকিতে মুক্ত সাংবাদিকতা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা আবশ্যক। এ জন্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তা শুধু নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কাজ: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা মানসিকতা গঠন’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: রক্ষীবাহিনীর সময় থেকে এখনো বিচারবহির্ভূত হত্যার একই স্ক্রিপ্ট

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উড্ডয়ন নিরাপত্তার শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত শৃঙ্খলা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এই তিন দিনের সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন। প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের সময়ের মতো রাতে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে: এনসিপি

এতে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে হবে। নিরাপত্তায় বিনিয়োগ মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

রাজশাহীতে আদিবাসী সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিদর্শন করে নরওয়ে থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অভিভূত হয়েছেন। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটির ডেপুটি মেয়র সেলথ বেকবান ও ডাগ ভিগে, এবং এতে ৬ সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে তারা রাজশাহী সফর করছেন।

স্ট্রোমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং রাজশাহী ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) তারা পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রিন রিভ্যূলেশন’ এর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি এদিন সকালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শিমলা দীঘিপাড়া বহুভাষিক শিক্ষা স্কুলে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গ্রামের সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল নাচ ও গানের মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান। সাঁওতাল রীতি অনুযায়ী অতিথিদের পা ধুইয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বরণ পর্ব শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি সরাসরি শ্রেণিকক্ষে বসে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। একটি প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী ও কার্যকরী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা দেখে অতিথিরা অত্যন্ত আনন্দিত ও মুগ্ধ হন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মন্তব্য করেন, "একটি জাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় ও সম্পদ হলো তার ভাষা। মুখের ভাষা যদি হারিয়ে যায়, তবে সেই জাতিও একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে।" সাঁওতাল শিশুরা যে তাদের নিজের ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করতে পারছে, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং এটি তাদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। পরিদর্শন শেষে অতিথিরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।

এনএজিআর-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব স্টেফান সরেন এই পরিদর্শনের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের নিজস্ব ভাষায় পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী স্কুলটি পেয়ে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ।" এনএজিআর দ্বারা পরিচালিত ব্যতিক্রম বহুভাষিক শিক্ষা স্কুল ২০ পরিচালনা করছে। মেননাইট সেন্ট্রাল কমিটির অর্থায়নে ১৫টি এমএলই স্কুল ও ষ্ট্রমে ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং খ্রিষ্টিয়ানসেন্ড রাজশাহী ফ্রেন্ডশীপ কমিটি দ্বারা মোট পাঁচটি এমএলই স্কুল পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা নদীর চরের দখল নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে চার ঘণ্টা গোলাগুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


পদ্মা নদীর চরের দখল নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে চার ঘণ্টা গোলাগুলি

কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্তের সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বালুচরের দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের কারণে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা ধরে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলেছে। দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ এখনও কোনো হতাহতের নিশ্চিত তথ্য জানাতে সক্ষম হয়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত পদ্মা নদীর ডিগ্রির চর এলাকার কলাবাগান কালু বাহিনীর দখলে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া অংশের পদ্মা-গড়াই মোহনা থেকে কাকন বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্রলারে করে এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। চরের দখল নিতে মরিয়া কাকন বাহিনীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় কালু বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। স্থানীয় নৌকার মাঝিরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাকন বাহিনীর বহরে অস্ত্র ও লোকজনসহ আরও দুটি ট্রলার যোগ হলে গোলাগুলির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সংঘর্ষ চলাকালে চরের মাঠে ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক কাজ করছিলেন। গুলির শব্দে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকাসহ আশপাশের জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আকস্মিক এই গোলাগুলির সময় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সদর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি অভিযান চলছিল। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার জানান, নৌকায় ওঠার পরপরই তাঁরা একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়ে নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নদীতে তিন থেকে চারটি স্পিডবোটকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। এদিকে, বুধবার সকাল থেকে এই গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হন। ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলির শব্দ বন্ধ হওয়ার পর সেখানে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাগুলির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং পুলিশের জনবলও বেশ সীমিত। লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ১১ জন সদস্যের মধ্যে চারজন মৎস্য অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে প্রতিহত করতে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সমন্বয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ৩০০ ফুট ভাঙন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ৩০০ ফুট ভাঙন

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যাতলায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে শুরু হওয়া এই ভাঙনে নদীর দিকে একটি বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ক্রমেই মূল বেড়িবাঁধের দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমেছেন। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেড়িবাঁধের বাইরে ওয়াপদা সড়কসংলগ্ন প্রায় ১০০ ফুট চরের মতো অংশ ছিল। ঝড়ের পর ওই অংশে ভাঙন শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। এতে চরের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মূল ওয়াপদা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট ঢালও ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙন মূল সড়কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রিয়াছাদ আলীসহ আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বর্তমানে ভাঙনস্থলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পাশেই অন্য কাজের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখা জিও ব্যাগ স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে এবং অর্থের বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করে ভাঙনস্থলে ফেলা হচ্ছে। তবে ভাঙনের গতি ও বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না স্থানীয়দের।

স্থানীয় এনজিওকর্মী মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধের ভেতরের পাশে থাকা লেকটি ভাঙনের অন্যতম কারণ। ভাঙন দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে তালতলা বাজার, কুড়িকাহুনিয়া, প্রতাপনগর ফাজিল মাদ্রাসা, আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসা, বন্যাতলা, বন্যাতলা স্কুল ও দরগাতলার আইটিসহ প্রতাপনগর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে।

মাওলানা রিয়াছাদ আলী বলেন, সম্প্রতি কুড়িকাহুনিয়ায় দেখা দেওয়া ভাঙনের তুলনায় বন্যাতলার ভাঙনের পরিধি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এখানেও ভাঙনের গতি অনেক বেশি। তবে ভাঙনস্থলের ৪০০ ফুটের মধ্যে কয়েক হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত থাকায় প্রতিরোধকাজে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে। কুড়িকাহুনিয়ার মতো এখানেও বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে সমান্তরালভাবে একটি গভীর লেক রয়েছে বলে জানান তিনি।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর অধীন ৭/২ নম্বর পোল্ডারে আকস্মিক এ ভাঙনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। তবে কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁধ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপাতত কিছু প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে খোলপেটুয়া নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগে প্রশ্রয় দিত আ.লীগ, এখন দিচ্ছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


আগে প্রশ্রয় দিত আ.লীগ, এখন দিচ্ছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাদক নিয়ন্ত্রণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতা নিয়ে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাদককারবারিদের প্রশ্রয় দিতেন, এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের অভিযোগ উঠছে।" এ পরিস্থিতিতে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অক্ষম হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকা সম্পর্কেও মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর মিলনায়তনে এনসিপির রাজবাড়ী জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বর্তমান বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।"

এছাড়া ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়া এবং ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "বিএনপির ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।"

মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে করণীয় নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সারজিস আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, আবীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল।

এ সময় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%