০৮:৫৬ এম
ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতাতে রাজি নয় তেহরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিয়া জানায়, তিনি মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফর কালীন বক্তব্যে বলেন, যদি ইরানের হাতে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র না থাকত, তবে দেশটি আজ গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যেত।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, “আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে গাজার মতো গুঁড়িয়ে দিত। তারা বৃদ্ধ বা শিশুকে ছাড় দিত না।”
আরও পড়ুন: সৌদির ৪ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে রেড অ্যালার্ট জারি
তিনি এইরকম আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আলোচনা হবে না। এ বিষয়ে আমরা সমঝোতায় যাব না।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে। এই বাস্তবতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই।
যুদ্ধের সময় ইরান উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ ও ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূরণে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। পরে এটির পাল্লা ও নির্ভুলতা বাড়ানো হয়।
যদিও ইসরায়েল প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি মনে করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আনতে চেয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের
তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, “অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব অস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানের না থাকাটা কিছুটা অন্যায্য।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন