ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে ধর্ষণ


মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে ধর্ষণ

 

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৪) অপহরণ করে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া ও তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে।

কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার বারেরা এলাকায় গত শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে পুলিশ অভিযুক্তদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া পৌরসভার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে এবং অপর আসামি ইসমাইল হোসেন, সবুজের মামাতো ভাই।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরের দেড় হাজার পরিবার ৮ মাস ধরে বিদ্যুৎহীন

অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই মেয়েকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত সবুজ মিয়া। কিন্তু ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, সবুজ তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। গত ১০-১২ দিন আগে সবুজ ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে নিজ মোবাইল নম্বর দিয়ে বাড়ি গিয়ে তাকে ফোন করতে বলে। ফোন না করলে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ক্ষতি করার ভয় দেখায়।

পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে রাতে সবুজকে ফোন করে। তখন সবুজ তাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতেও ওই ছাত্রী রাজি হয়নি। পরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সবুজ মিয়া সেই ছাত্রীকে ফোন করে শনিবার সকালে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় দেখা করার জন্য বলে। না হলে ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখায়।

পরদিন সকালে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে সেখানে গেলে সবুজ তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিজ বাড়ি বারেরা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তার ঘরের একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সবুজ। এর কিছুক্ষণ পর তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেন ওই কক্ষে গিয়ে একই ছাত্রীকে ফের ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীকে রাস্তায় তুলে দিয়ে দুইজন পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা জানান, সবুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখাত। সে এবং তার মামাতো ভাই আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় আমার মেয়ে নিজে বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছে। ঘটনার পরপর মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সে ভয়ে আমাদের আর কিছু জানায়নি। মঙ্গলবার সকালে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মেয়ে এই ঘটনা খুলে বলে।

আরও পড়ুন: বাবুর খালে নৌকার লড়াই, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বুধবার বিকেলে জানান, অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিন-চার দিন আগের ঘটনা হওয়ায় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যদিও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দিচ্ছে রেলওয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দিচ্ছে রেলওয়ে

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে অগ্রিম কাটা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিচ্ছে।

বুধবার সকালে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামগামী কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের ষোলশহর ও জান আলী হাট এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

রেলওয়ের টিকিট বিক্রয়কর্মীরা জানাচ্ছেন, ট্রেন চলাচল বন্ধের বিষয়টি যাত্রীদের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। সেইসাথে, যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রেললাইন থেকে পানি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। বর্তমানে স্টেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’

নিরবচ্ছিন্ন এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য প্রদান করেন।

বিদ্যুতের উপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী (যশোর-৬) এর একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর বিপরীতে, প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২০ মে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ঐ দিনটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।’

সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের অপচয় ও অবৈধ ব্যবহার রোধ করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসাথে পুরোনো বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস কমানোর জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

যশোর-৬ আসনের কেশবপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কেশবপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন এ এলাকায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। বর্তমানে সেখানে ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নওয়াপাড়া গ্রিড এবং যশোর গ্রিড থেকে কেশবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : জ্বালানি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : জ্বালানি মন্ত্রী

সরকার বর্তমানে দেশের ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করছে। আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুসন্ধান, কূপ খনন ও অফশোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫)-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তন্মধ্যে বর্তমানে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন চলছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলোÑ তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, সিলেট, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, বিয়ানীবাজার, সালদা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, শাহবাজপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেমুতাং, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার, জালালাবাদ ও বাঙ্গুরা।

গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও আটটি কূপে কাজ চলছে। বাকি কূপগুলোর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র শনাক্তে ব্যাপক ভূকম্পীয় (সিসমিক) জরিপও পরিচালিত হচ্ছে। ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের কাজ বর্তমানে চলছে।

তিনি আরও জানান, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় শিগগিরই ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শুরু হবে। এছাড়া ভোলার চরফ্যাশন, ছাতক-দোয়ারাবাজার, জামালপুর, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকা এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ কৈলাশটিলা ও পশ্চিম ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার সম্ভাব্য কাঠামোতেও একই ধরনের জরিপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ব্লক-১২-এ ২৫৫ লাইন কিলোমিটার এবং হিঞ্জ জোন ও ফোরডিপ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অফশোর অনুসন্ধানের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৬ সালের ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকসহ মোট ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের প্রাথমিক প্রস্তুতিও চলছে।

রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঁচটি ড্রিলিং রিগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ২ হাজার অশ্বশক্তি ও ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির আরও দুটি ড্রিলিং রিগ কেনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্জনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, বাপেক্সের মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯-এ ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন হওয়ায় তথ্য বিশ্লেষণের পর নতুন কূপ খননের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা সহজ হবে।

তিনি আরও জানান, ২ হাজার অশ্বশক্তির ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের দরপত্র মূল্যায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরিকল্পিত দুটি নতুন রিগ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে, বাপেক্সের মোট রিগের সংখ্যা সাতটিতে উন্নীত হবে। এতে কম সময়ে অধিকসংখ্যক কূপ খনন সম্ভব হবে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে : মহাপরিচালক বিআইবিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে : মহাপরিচালক বিআইবিএম

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেছেন, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড ফাইন্যান্সের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

এছাড়া, পণ্যভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরস্থ ক্যাম্পাসে ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় দেশের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ট্রেড ফাইন্যান্স খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, গ্রাহকসেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও কার্যকর ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।

কর্মশালায় গবেষণা দলের পক্ষে ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক রিভিও পেপারের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএম’র অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। তিনি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্সে উল্লেখযোগ্য এক্সপোজার রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে যে, ট্রেড-সংশ্লিষ্ট ঋণ পোর্টফোলিওতে সম্পদের গুণগত মানের ওপর চাপ ইতোমধ্যেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এ ধরনের ব্যাংকগুলোর ট্রেড ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংকে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেশি এবং একই সঙ্গে ট্রেড ফাইন্যান্সে উল্লেখযোগ্য এক্সপোজার রয়েছে, সেসব ব্যাংকে ট্রেড ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, নন-ফান্ডেড দায় জোরপূর্বক ঋণে রূপান্তরিত হওয়া ট্রেড ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে, মূলধনী যন্ত্রপাতি, তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল, চিনি ও সারজাতীয় পণ্য, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ট্রেড ফাইন্যান্সে এ ধরনের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সম্পদের গুণগত মান অবনতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণায় রপ্তানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। মতামত জরিপে প্রায় সব ব্যাংকারই মনে করেন, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের ফলে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি মূলত নিশ্চিত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি এর ভিত্তি হিসেবে থাকা চুক্তি দুর্বল, বিতর্কিত বা আইনগতভাবে কার্যকর না হয়, তবে পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে, রপ্তানি আয় সময়মতো না এলে বা আদায় না হলে ট্রেড ফাইন্যান্সের স্বয়ং-পরিশোধযোগ্য বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যায় এবং তা দ্রুত জোরপূর্বক ঋণে পরিণত হয়ে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণাপত্রটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেন বিআইবিএম’র অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক রাহাত বানু, প্রভাষক রাজিব কুমার দাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আরাফাত আলী এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.টি.এম. নেছারুল হক।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি প্রফেসর ও এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, সিডিসিএস, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%