ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : জ্বালানি মন্ত্রী


গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : জ্বালানি মন্ত্রী

সরকার বর্তমানে দেশের ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করছে। আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুসন্ধান, কূপ খনন ও অফশোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫)-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, তন্মধ্যে বর্তমানে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন চলছে।

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলোÑ তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, সিলেট, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, বিয়ানীবাজার, সালদা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, শাহবাজপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেমুতাং, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার, জালালাবাদ ও বাঙ্গুরা।

গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও আটটি কূপে কাজ চলছে। বাকি কূপগুলোর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র শনাক্তে ব্যাপক ভূকম্পীয় (সিসমিক) জরিপও পরিচালিত হচ্ছে। ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের কাজ বর্তমানে চলছে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিপিবি কার্যালয়ে হামলা

তিনি আরও জানান, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় শিগগিরই ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শুরু হবে। এছাড়া ভোলার চরফ্যাশন, ছাতক-দোয়ারাবাজার, জামালপুর, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকা এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ কৈলাশটিলা ও পশ্চিম ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার সম্ভাব্য কাঠামোতেও একই ধরনের জরিপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ব্লক-১২-এ ২৫৫ লাইন কিলোমিটার এবং হিঞ্জ জোন ও ফোরডিপ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অফশোর অনুসন্ধানের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৬ সালের ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকসহ মোট ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী নভেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের প্রাথমিক প্রস্তুতিও চলছে।

আরও পড়ুন: দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রুমি, বললেন-‘আপনারা ভালো থাকেন’

রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঁচটি ড্রিলিং রিগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ২ হাজার অশ্বশক্তি ও ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির আরও দুটি ড্রিলিং রিগ কেনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্জনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, বাপেক্সের মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯-এ ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন হওয়ায় তথ্য বিশ্লেষণের পর নতুন কূপ খননের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা সহজ হবে।

তিনি আরও জানান, ২ হাজার অশ্বশক্তির ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের দরপত্র মূল্যায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরিকল্পিত দুটি নতুন রিগ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে, বাপেক্সের মোট রিগের সংখ্যা সাতটিতে উন্নীত হবে। এতে কম সময়ে অধিকসংখ্যক কূপ খনন সম্ভব হবে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবককে পেটানোর ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম বহিষ্কার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে : মহাপরিচালক বিআইবিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে : মহাপরিচালক বিআইবিএম

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেছেন, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড ফাইন্যান্সের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

এছাড়া, পণ্যভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরস্থ ক্যাম্পাসে ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় দেশের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ট্রেড ফাইন্যান্স খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, গ্রাহকসেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও কার্যকর ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।

কর্মশালায় গবেষণা দলের পক্ষে ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক রিভিও পেপারের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএম’র অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। তিনি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ট্রেড ফাইন্যান্সে উল্লেখযোগ্য এক্সপোজার রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে যে, ট্রেড-সংশ্লিষ্ট ঋণ পোর্টফোলিওতে সম্পদের গুণগত মানের ওপর চাপ ইতোমধ্যেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এ ধরনের ব্যাংকগুলোর ট্রেড ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংকে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেশি এবং একই সঙ্গে ট্রেড ফাইন্যান্সে উল্লেখযোগ্য এক্সপোজার রয়েছে, সেসব ব্যাংকে ট্রেড ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, নন-ফান্ডেড দায় জোরপূর্বক ঋণে রূপান্তরিত হওয়া ট্রেড ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে, মূলধনী যন্ত্রপাতি, তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল, চিনি ও সারজাতীয় পণ্য, জ্বালানি এবং স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ট্রেড ফাইন্যান্সে এ ধরনের ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সম্পদের গুণগত মান অবনতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণায় রপ্তানি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। মতামত জরিপে প্রায় সব ব্যাংকারই মনে করেন, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের ফলে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি মূলত নিশ্চিত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি এর ভিত্তি হিসেবে থাকা চুক্তি দুর্বল, বিতর্কিত বা আইনগতভাবে কার্যকর না হয়, তবে পুরো অর্থায়ন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে, রপ্তানি আয় সময়মতো না এলে বা আদায় না হলে ট্রেড ফাইন্যান্সের স্বয়ং-পরিশোধযোগ্য বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যায় এবং তা দ্রুত জোরপূর্বক ঋণে পরিণত হয়ে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণাপত্রটি যৌথভাবে প্রস্তুত করেন বিআইবিএম’র অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক রাহাত বানু, প্রভাষক রাজিব কুমার দাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আরাফাত আলী এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ.টি.এম. নেছারুল হক।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি প্রফেসর ও এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, সিডিসিএস, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই-সৃষ্ট গুজব মোকাবিলায় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ অব্যাহত : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


এআই-সৃষ্ট গুজব মোকাবিলায় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ অব্যাহত : তথ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে তৈরি হওয়া গুজব, ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। আজ জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিরোধী দলের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘এআই এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে তৈরি হওয়া গুজব, ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তাদের ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ফ্যাক্ট-চেকিং ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস উদ্যোগের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এখন পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট মোট ৮৬০টি ফ্যাক্ট-চেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও এবং রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩০৬টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বললেন, এআই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন জানান, বাংলাফ্যাক্ট নিয়মিতভাবে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সেইসঙ্গে ভুল তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোকেও শনাক্ত করছে।

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ম্যানুয়াল’ প্রকাশের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, ভুল তথ্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌকায় তুলে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, এরপর যা ঘটল...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


নৌকায় তুলে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, এরপর যা ঘটল...

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় নৌকায় তুলে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হেলিম মিয়া (১৯) নামে এক মাঝিকে। পুলিশ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। হেলিম উপজেলার ৪ নং শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আত্মীয়ের বাসায় আসার উদ্দেশ্যে কান্দিগাঁও নৌকা ঘাটে যান। বৃষ্টি আছেরে একটি টং দোকানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সিরিয়ালের নৌকা না থাকায় হেলিম মিয়ার নৌকা রিজার্ভ করেন। এ সময় আরেকজন লোক শাল্লা যাবেন বলে মাঝিকে (হেলিম) বলেন। তখন মাঝি তাকে অন্য নৌকায় যাওয়ার কথা বলেন এবং যাত্রীর (পিন্টু) অনুরোধে ১শ টাকা ভাড়া দাবি করেন। ওই যাত্রী ৫০ টাকা বললে মাঝি শর্ত সাপেক্ষে নৌকা চালানোর কথা বলে যাত্রীকে নৌকায় উঠান।

কান্দিগাঁও হতে কিছু দূরে কান্দখলার হাওরের মধ্যে যাওয়ার পর, নৌকার ভেতরে বসা অবস্থায় ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন মাঝি হেলিম মিয়া। গুঞ্জন শুনে নৌকার পেছনে বসা আরেক যাত্রী পিন্টু দাস এসে হেলিম মিয়ার থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, "আমি শাল্লায় বেড়াতে এসেছি। যোগাযোগের অন্য মাধ্যম না থাকায় শাল্লায় যাওয়ার জন্য একটি নৌকা রিজার্ভ করি। হাওরের মধ্যে এনে নৌকার ভেতরে আমাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি করেন মাঝি হেলিম মিয়া। পরে চিৎকার শুরু করলে নৌকায় থাকা আরেক যাত্রী পিন্টু দাস এসে মাঝি হেলিমকে ধমক দিয়ে পেছনে যেতে বলেন। পরে আমি আত্মীয়কে ফোনে ঘটনা বলার পর মাঝি মেশিন বন্ধ করে দেন এবং শাল্লায় না যেতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু দাসের অনুরোধে শাললা গুদাম ঘাটে আমাকে নিয়ে যায়। এ সময় আমার আত্মীয় ও স্থানীয় কিছু লোক আমাকে উদ্ধার করেন।"

তবে নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান জানান, "লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং-০৬। আমরা অভিযুক্ত হেলিমকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে বর্তমানে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই : জ্বালানি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


দেশে বর্তমানে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই : জ্বালানি মন্ত্রী

দেশে বর্তমানে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জও পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে আজ জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (জামালপুর-৩)-এর একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে, ‘বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই।’

তবে তিনি আরও জানান, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৮৬ মেগাওয়াট এবং আশুগঞ্জের প্রিসিশন এনার্জি লিমিটেডের ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্র দু’টি এখন চালু রয়েছে।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (৮৬ মেগাওয়াট) এবং প্রিসিশন এনার্জি লিমিটেড, আশুগঞ্জ (৫৫ মেগাওয়াট)-এর সাথে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রে দু’টি বর্তমানে কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু না থাকায় এসব কেন্দ্রের বিপরীতে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হচ্ছে না।’

এছাড়া, তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারের সঙ্গে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান কোনো চুক্তিও নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%