প্রতিবেদক, সাকিব আহমেদ মোহাম্মদপুর, ঢাকা
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৭ পি.এম
শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে খেলাধুলার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানী মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন। এ সময় তাঁরা মাঠ ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু খেলার মাঠ ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
রাজধানী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম বলেন, “শিশুরা শুধু বই পড়ে বড় হয় না। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। একটি মাঠ শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমরা কোনো বিরোধ চাই না, আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক এবং শিক্ষার্থীরা তাদের খেলাধুলার সুযোগ ফিরে পাক।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও খেলাধুলার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, শিশুদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতেও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে আর কালক্ষেপণ না করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ ও খেলার জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে তাঁরা আশাবাদী। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের খেলার মাঠ ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাবে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে দাবি জানান, দ্রুত মাঠ ব্যবহারের সমস্যার সমাধান করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও উপযুক্ত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, একটি খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের জায়গা নয়; এটি শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মতবিনিময় শেষে টঙ্গী বাজারের রাস্তা উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার
গাজীপুরের টঙ্গী বাজারে সম্মানিত ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) টঙ্গী বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদুল ইসলাম কিরণ।
মতবিনিময় সভায় ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে টঙ্গী বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের চলাচল সহজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে প্রধান অতিথি মো. শওকত হোসেন সরকার টঙ্গী বাজারের একটি রাস্তা উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা বাজার এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং বাজার এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী অঞ্চলে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মৃত সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন উপহার প্রদান করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার বিকেলে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক চেরাগ আলী এবং মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্রের খবর, সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও তার স্ত্রীর জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করার জন্য সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামী।
সেলাই মেশিন প্রদান শেষে, সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের জন্য প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই বিষয়টি অনুমোদনের জন্য আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এই সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতে নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, গাড়ি পার্কিং এবং স্থানসংকটের কারণে প্রায়ই জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাছাড়া, ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত বর্তমান সচিবালয়ের বেশিরভাগ ভবনই বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এসব ভবনের স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাকারিয়া তাহের বলেন, মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ও স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় রেলকোচ সংস্কারের মান নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘সৈয়দপুর রেলকারখানায় রেলকোচ সংস্কারকাজ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হোক। এত বড় একটি কারখানায় রেলওয়ে কোচ সংস্কারকাজের মান এত নিম্নমানের, এখানে নিজে না এলে তা কোনোভাবেই বুঝতে পারতাম না। এ ধরনের কাজ দেখার পর এখানকার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের যোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায়।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনকালে রেলকোচের জানালা সংস্কারকাজ প্রত্যক্ষ করার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনের সময় কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জানালার যেভাবে সংস্কার করা হচ্ছে, এর চেয়ে অনেক ভালো কাজ ছোটখাটো যেকোনো ওয়ার্কশপেও করা সম্ভব। আপনার নিজের বাড়ির জানালার সংস্কারকাজ হলে কি এভাবে অবহেলাভাবে কাজ করতেন?’
এ সময় মন্ত্রী কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হাবিবুল হাসান রুমি।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পদস্থ কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ