ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপিতে ২ হাজার ১১৯টি মামলা


ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপিতে ২ হাজার ১১৯টি মামলা

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১১৯টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে মোট ১১৫ টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে মোট ২০৯ টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে মোট ৪১৫টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে মোট ১৬৬টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে মোট ১৩৫টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে মোট ২৫৮টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪৮৭টি মামলা হয়েছে এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে মোট ৩৩৪টি মামলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র: রাশেদ খান

এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৪৯৯ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২১০ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রোববার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিরপুর ১০ নম্বরে যান চলাচল স্বাভাবিক, পুলিশ সতর্ক অবস্থায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিন্ডিকেটে বেহাত হচ্ছে ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


সিন্ডিকেটে বেহাত হচ্ছে ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

লিজ, আদালতের আদেশ ও নথিপত্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ময়মনসিংহে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া মালিক ও ওয়ারিশ তৈরি এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে একের পর এক মূল্যবান সরকারি জমি বেহাত করা হচ্ছে। এসব জমিতে গড়ে উঠছে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তবে প্রশাসনের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ময়মনসিংহ নগরীর আমলাপাড়ার শেরপুকুর এলাকার প্রায় ২৫ শতক সরকারি জমি। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া মালিক সাজিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে একটি চক্র।

একইভাবে নগরীর বাউন্ডারি রোডের প্রায় ১০ শতাংশ সরকারি জমি লিজ নিয়ে পুরোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র গোলপুকুরপাড়ে প্রায় ২৫ শতক জায়গাজুড়ে শতবর্ষী জমিদারবাড়ি হিসেবে পরিচিত নাটোর লজের জমিতেও বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তি একসময় অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করে নিলামের নামে সরকারি এই সম্পত্তিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এদিকে নগরীর সি কে ঘোষ রোডে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২৬ শতাংশ সরকারি জমিও দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি বেহাতের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে তথ্য গোপন করে নগরীর রেলি মোড় এলাকায় পাট অধিদপ্তরের প্রায় ৮৪ শতাংশ জমি আদালতের মাধ্যমে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল একটি চক্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই দলিল বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই দুর্বল করে ফেলা হয় জমির নথিপত্র। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গায়েব হয়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় নথি আদালতে যথাসময়ে উপস্থাপন না করার সুযোগ নেওয়া হয়। ফলে সরকারি পক্ষের আইনি লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে নামজারি ও মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলেন, ময়মনসিংহ নগরীর অনেক মূল্যবান জমি একসময় হিন্দু জমিদারদের মালিকানাধীন ছিল। এসব সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভুয়া ওয়ারিশ তৈরি ও নথি জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব জমির ওপর এখন বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেক কিছুই জানেন। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক মূল্যবান সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি আজহারুল হক বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে নথি সংরক্ষণ, আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে উপস্থাপন এবং শক্তিশালী আইনি লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায় কোনো অংশে কম নয়। আদালত কাগজপত্র ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়। সংশ্লিষ্টরা যদি সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনে গাফিলতি করেন, তাহলে সরকারি পক্ষের আইনি লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)'র সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, লিজ কিংবা আদালতের আদেশকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই একের পর এক সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীলদের আরও জবাবদিহির মধ্যে আনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, একের পর এক মূল্যবান সরকারি সম্পদ বেহাত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আদালতের রায়ের পর প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের পর আমাদের মতামত চাওয়া হয়। এর বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না।

সচেতন মহলের দাবি, ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সব খাস, অর্পিত ও সরকারি জমির পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তালিকা তৈরি, নথিপত্র সংরক্ষণ নিশ্চিত এবং বিতর্কিত সম্পত্তিগুলো পুনঃতদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি বেহাতের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ও দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুয়ার খুলছে সুন্দরবনের, প্রস্তুত জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


দুয়ার খুলছে সুন্দরবনের, প্রস্তুত জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

বাগেরহাট, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল মঙ্গলবার সুন্দরবনের সব নদ-নদীতে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এটি মাছের প্রজনন মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই খবরে বাগেরহাট এবং মোংলার নদী-খালপাড়ের জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময় অলস পড়ে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলো মেরামত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। নৌকার তলায় আলকাতরা দেওয়ার কাজ চলছে, আবার কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন মেরামত করছেন। সুন্দরবনে মাছ আহরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে তারা জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছানোর কাজ করছেন।

চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা এবং বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সময়ে করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়া অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল। তিন মাস কর্মহীন থাকার পর এখন জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

বাগেরহাটসহ মোংলার বিভিন্ন নদী ও খালের পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলেরা সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পানিতে না নামানোর কারণে নৌকার বিভিন্ন অংশে মেরামতের প্রয়োজন হয়েছে। তাই নৌকা ঠিক করার পাশাপাশি জাল, দড়ি ও বরফ রাখার পাত্রসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন তারা।

জেলে মো. মতিন মোল্লা বলেন, "তিন মাস নদীতে মাছ ধরতে পারিনি। নৌকা পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় মেরামত করতে হয়েছে। এখন নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছি, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিক করছি। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে যেতে পারলে আবার মাছ ধরে সংসার চালাতে পারব।"

অন্যদিকে, জেলে মো. মাসুদ শেখ জানান, "নিষেধাজ্ঞার সময় নৌকা ও জাল মেরামত করে রেখেছি। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় আমরা খুশি। নিয়ম মেনে পাস-পারমিট নিয়ে নদীতে যেতে চাই।"

সুন্দরবন খুলে যাওয়ায় বনজীবীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য তারা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, নীলকমলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।

সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পর্যটক মো. জুলফিকার আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন বন্ধ ছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবন ঘুরতে আসব।"

এদিকে, সুন্দরবন খুলে যাওয়ার আগেই নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা মেরামতের ব্যস্ততা যেন নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে। আগামীকাল থেকে নদীতে নামবে জেলেদের নৌকা, বনে ফিরবেন বনজীবীরা এবং সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবেন পর্যটকরা। দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতার পর আবারও নদীপথ ও সুন্দরবনজুড়ে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।

সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বাসসকে জানান, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে করমজল স্পটে প্রায় এক কিলোমিটার ফুটট্রেইল নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুন্দরবন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে করমজলে নির্মাণ করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার।

তিনি বলেন, "তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বাসসকে জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস-পারমিট নিয়ে বনজীবীরাও বনে প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় করমজল পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স

সৌদি- পাকিস্তান-তুরস্ক জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


সৌদি- পাকিস্তান-তুরস্ক জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করেছে। এর নাম রাখা হয়েছে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। সোমবার ইস্তাম্বুলে তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর জোটটির এই নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফিদান বলেন, জোটটি অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মতো আন্তর্জাতিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অন্যান্য দেশকেও এই অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিন দেশের এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন এক মাসের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ছয় মাসেরও বেশি সময়ের সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই প্রতিরক্ষা জোটটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হলো।

কীভাবে কাজ করবে নতুন জোট?
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক গত ৭ আগস্ট মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল—তিন দেশের যেকোনও একটি আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই রাজনৈতিক ঘোষণাকে বাস্তব ও কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটি। সোমবার ইস্তাম্বুলের বৈঠকে এই কমিটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তবে জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে কোনও সদস্য আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা কার্যকর হবে, কে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সামরিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বৈঠকে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা, তবে রয়েছে বড় পার্থক্য
তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিকে অনেকেই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। ন্যাটোর ওই ধারায় কোনও একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে স্বাধীন বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই তুলনায় আপত্তি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, নতুন জোটের এখনও ন্যাটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো, স্থায়ী সামরিক বাহিনী কিংবা যৌথ সামরিক অবকাঠামো নেই।

ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন মনে করেন, জোটকে কার্যকর করতে একটি স্থায়ী দফতর বা সচিবালয় অপরিহার্য।
তার মতে, এই দফতর তিন দেশের যেকোনও একটিতে হতে পারে অথবা পালাক্রমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি ন্যাটোর ইউরোপভিত্তিক সামরিক সদর দফতরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর কমান্ড ও সমন্বয় কাঠামো ছাড়া প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাস্তব সামরিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া কঠিন।

কাতার ইউনিভার্সিটির গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম জেঙ্গিজও মনে করেন, জোটের সাংগঠনিক কাঠামো, ক্ষমতা ও দায়িত্বের বিষয়গুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পাঠানোর আগে এসব বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তার মতে, সংসদীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ শর্ত প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনাও কম।

যুদ্ধই হবে জোটের প্রথম বড় পরীক্ষা
নতুন প্রতিরক্ষা জোটের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত।

ইস্তাম্বুলের বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চতুর্থবারের মতো ইরান সফর করেন। গত ২৪ আগস্ট তেহরানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন।

পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ বন্ধ এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ওই সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে বলে তারা জানিয়েছিলেন।

তবে ইরান ও পাকিস্তানের এই আশাবাদ ওয়াশিংটনে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। দুই দিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাড়াহুড়ো করছে না’।

এরপর সোমবার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানি সেনাবাহিনীর দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এক মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্বীকৃত হামলা।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে বাস্তবে কীভাবে সক্রিয় করা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলও বড় উদ্বেগের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, তিন দেশের জন্য আরেকটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘কৌশলগত আধিপত্যশীল শক্তি’ হিসেবে দেখা হলে তার প্রভাব পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক—তিন দেশের নিরাপত্তার ওপরই পড়ে।

এর একটি উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মক্কায় তিন দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পর ওই ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল। স্থানটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে।

ইসরায়েল দাবি করেছিল, তুরস্ক সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে।

আঙ্কারা ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করে, এটি তিন দেশের নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে দুর্বল করার চেষ্টা।

আর কোন দেশ যোগ দিতে পারে?
তিন দেশের জোটটি অন্য রাষ্ট্রের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ৯ আগস্ট জানিয়েছিলেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তির বিকল্প নয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও বলেছেন, ভবিষ্যতে তিন দেশের কাঠামো আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ রয়েছে আঙ্কারার।

মিসরের সম্ভাবনা কতটা?
মিসর আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চার দেশের নিরাপত্তা আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তবে গত ৭ আগস্টের মূল প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরকে রাখা হয়নি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ১৫ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মিসরের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, চুক্তিটি নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি পরে জানিয়েছেন, কায়রো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এর মাধ্যমে মিসরের বিদ্যমান আঞ্চলিক চুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সাবেক কাতারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল-থানি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সব সদস্যকে নতুন জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উপসাগরীয় দেশগুলোও কি এগিয়ে আসবে?
জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে অবশ্য মতভেদ রয়েছে।

বিশ্লেষক এরেলি মনে করেন, মিসরই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য সদস্য। তার মতে, আরব কূটনীতিতে মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং তুরস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কোন্নয়ন দেশটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে সিনেম জেঙ্গিজ মিসরের দ্রুত যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মিসর ও সিরিয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে নতুন জোটটি কীভাবে এগোয় তার ওপর।

তার দৃষ্টিতে, স্বল্পমেয়াদে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর এগিয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এসব দেশের সঙ্গে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী।

তবে বিশ্লেষক করিমের মতে, নতুন কোনও দেশকে সদস্য করার আগে তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশকে সেই দেশের নিরাপত্তার দায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হতে হবে। বিশেষ করে কোনও সম্ভাব্য সদস্য নিজেই যদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও জটিল হবে।

তার মতে, মিসর, সিরিয়া কিংবা বাংলাদেশ—যেকোনও একটি দেশ ভবিষ্যতে জোটে যোগ দিতে পারে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমঝোতা তৈরি করতে সময় লাগবে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন
সব মিলিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা জোট ইতোমধ্যে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোতে শুরু করেছে। রিয়াদে সচিবালয় স্থাপন এবং যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়া সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তবে জোটটির প্রকৃত সক্ষমতা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কীভাবে কার্যকর হবে, যৌথ সামরিক কমান্ড ও যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে কি না, তিন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কতটা সমন্বয় সম্ভব হবে এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্যদের নিরাপত্তার দায় প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো কতটা নিতে প্রস্তুত।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন নতুন জোটটির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

এখন মূল প্রশ্ন—‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ কি কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কাঠামো হয়ে থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে এটি বাস্তব সামরিক জোটে রূপ নেবে? সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারগঞ্জে কেমিক্যালের ড্রাম কাটার সময় বিস্ফোরণ, ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


মাদারগঞ্জে কেমিক্যালের ড্রাম কাটার সময় বিস্ফোরণ, ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

জামালপুরের মাদারগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত স্টিলের ড্রাম কাটার সময় বিস্ফোরণের ফলে নিহত হয়েছেন নুরনবী ফকির (৪৫), যিনি একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পৌর শহরের জোনাইল বাজারে।

নিহত নুরনবী ফকির ছিলেন জোনাইল পক্ষীমারী এলাকার মৃত মতিউর রহমান মতি ফকিরের পুত্র। তিনি জোনাইল বাজারে জনতা ব্যাংকের পাশে একটি ওয়ার্কশপ পরিচালনা করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে নুরনবী ফকির নিজের ওয়ার্কশপের জন্য কেমিক্যাল রাখার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত স্টিলের ড্রাম কাটছিলেন। হঠাৎ করেই ড্রামটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে ড্রামের একটি অংশের আঘাতে তাঁর মাথা ও মুখ গুরুতরভাবে জখম হয়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত নুরনবী ফকিরকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মাদারগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

নিহত নুরনবী ফকির স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%