০৯:৩৪ এম
তেল আবিব, ইসরাইল থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে, যখন বিমানে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায়।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় রোববার এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের বিমানটি অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইট হিসেবে পরিচিত। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোমানিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থায় বিমানের ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান এবং তারা সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে
বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান যাত্রীবাহী বিমানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সোফিয়া বিমানবন্দরে নিয়ে আসে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু এবং ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। সকলেই বিমান থেকে নিরাপদে নেমে গেছেন।
অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস এএফপিকে জানায়, বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়েছে। তল্লাশি শেষে যাত্রীদের দ্রুত বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ঘটনার পর একটি জরুরি সাড়াদান দল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
বিমান চলাচল ও ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে অবতরণ করে।
অন্য একটি ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, পরে দক্ষিণ দিকে ঘুরে আবার বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে।
এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য জানায়, একই সময় বিমানটি জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত ‘স্কোয়াক কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
গত মাসে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার অভিযোগের ঘটনা ঘটে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে মূল পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল, যখন বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।
ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা ৫ হাজার ১৮০ মিটার নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর ফ্লাইদুবাইয়ের অন্যান্য পাইলটরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে: নেতানিয়াহুর আহ্বান
পরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল ‘আত্মঘাতী’ মিশনের মাধ্যমে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। পরে ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।
ওই ঘটনার পর ইসরাইল সরকার দেশটিতে আসা সব বিমানের পাইলটদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।
এএম
আরও পড়ুন: মরক্কোর সাত শতাব্দীর প্রাচীন বু ইনানিয়া মাদ্রাসা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন