শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৮ এম
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও অন্তর্ভুক্ত আছেন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষক।
এই হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে। শহরটি পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট এবং ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সি এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সি এক শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় বেন্ডের সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে ১৬ বছর বয়সি বেন্ডের এক কিশোরকে, যে ঘটনাস্থলে মারা যায়। তবে তার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী তালাবদ্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সে আগে কখনো ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে কি না।
পুলিশ প্রধান ক্রান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে জরুরি সহায়তা চেয়ে প্রথম ফোন আসে। পরবর্তী কয়েক মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীরা আরও বহু ফোন পান।
প্রথম ফোনটি করেছিলেন একটি গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি, যিনি জানান, লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছে।
এরপর দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে লকডাউন জারি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছান।
ক্রান্টজ জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধাওয়া করে ভেতরে যান স্থানীয় এক ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি হামলাকারীকে গুলি করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা বিদ্যালয়ে ঢুকে হামলাকারীর মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ সদস্যরা পুরো বিদ্যালয় তল্লাশি করে আর কোনো হুমকি আছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা আহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেন।
পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনার পেছনের কারণ এবং হামলাকারীর সঙ্গে বিদ্যালয়টির কোনো পূর্বসম্পর্ক ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায় যে, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া, উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় আট থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে, সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮১ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে সব ধরনের শাকসবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে। শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্রেতা ও আড়তদাররা উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শহরের পুরান বাজার এলাকার প্রধান পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবজির দোকান রয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সবজি কিনতে আসছেন। কিন্তু বাড়তি দামে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিভিন্ন জেলা, যেমন বগুড়া, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী থেকে ট্রাকে করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, গাজর, পেঁপে সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি মাদারীপুরের পাইকারি আড়তে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে সেগুলো পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। পাইকারদের কাছ থেকে সবজি কিনে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতারা। এভাবে কয়েক হাত ঘুরে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছায় সবজি, যা দামে প্রভাব ফেলে। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পরিবহন খরচ কমলে সবজির দামও কমতে পারে।
আড়তদারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা, আদা ১৭০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আলু ১৭ থেকে ১৮ টাকা, পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা, পটল ৩৬ টাকা, বেগুন ৭৫ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জেলার সব পাইকারি বাজারেও শাকসবজির বাড়তি দাম। শুধু দাম বেড়েই যায়, কিন্তু কখনই কমে না। এটি দেখার যেন কেউই নেই। কী করব, আমাদের তো কিনে খেতেই হবে। আমরা ক্রেতারা অসহায়।’
ব্যবসায়ী ইরফান আহম্মেদ রেজা বলেন, ‘প্রতিদিনই বাজারে শাকসবজির দাম বেড়েই চলছে। পাইকারি কিনতে গেলে দাম বেশি, বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করতে হয়। আমরা চাই বাজার স্থিতিশীল থাকুক। কিন্তু তাও কখনই হয় না।’
আড়তদার বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।’
আবু তালহা বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী বাবুল মাতুব্বর বলেন, ‘একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কিছুটা বেড়েছে দাম। আমরা সাধ্যমতো দাম কম রাখার চেষ্টা করছি।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোনো পণ্যের দাম বেশি রাখে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক শিক্ষক ও তিন শিশু নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, হামলাকারীও গুলিতে নিহত হয়েছে।
বেন্ড পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্র্যান্তজ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে নিহতদের মধ্যে পাঁচ, আট এবং ১১ বছর বয়সি তিন শিশু এবং একজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ওরেগনের স্কুলে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একটি ১৬ বছর বয়সি কিশোরকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা জানায়, হামলাকারীকে ‘গুলি করা হয়েছে এবং সে মারা গেছে’ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেন্ড পুলিশ বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি; সে বেন্ড শহরের বাসিন্দা এবং তার বয়স ১৬ বছর।’
তিনি আরও জানান, ‘স্কুলে ওই সন্দেহভাজনকে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে স্কুলের ভেতরে যান এবং তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন; একপর্যায়ে ওই স্থানীয় ব্যক্তি সন্দেহভাজনকে গুলি করে।’
বেন্ড পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার জানিয়েছেন, একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবরের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যরা সাড়া দেন; এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলের ভেতরে একজন বন্দুকধারী সক্রিয় রয়েছে, এমন একাধিক জরুরি কল আসতে থাকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে সিএনএন ও সিবিএস নিউজ হতাহতের খবর জানায়।
মিলার জানিয়েছেন, সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে ৪০০ থেকে ৪৫০ শিশু পড়াশোনা করে এবং সেখানে ৪০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করেন।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলে নুরুল আলমের (৪৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, নেশার টাকার জন্য ঘুমন্ত মা রেজিয়া খাতুনকে (৭০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
এটি ঘটেছে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামে, যেখানে রেজিয়া খাতুন ওই গ্রামের মৃত হাসান উদ্দিনের স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নুরুল আলম নিয়মিতভাবে মাদক সেবন করতেন। নেশার টাকা সংগ্রহ নিয়ে তার মা রেজিয়া খাতুনের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। শুক্রবার ভোরে, যখন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন, নুরুল আলম হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসতঘরে রাখা ধারালো দা দিয়ে বিছানায় ঘুমন্ত মায়ের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে শুরু করেন।
রেজিয়া খাতুনের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে দেখেন, নুরুল আলম মাকে বিছানায় কুপিয়ে হত্যা করে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ও স্বজনরা মিলে নুরুল আলমকে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশের কাছে তুলে দেন।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী জানান, নেশার টাকার জন্য মা ও ছেলের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো। ভোরে যখন পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন নুরুল আলম ঘুম থেকে উঠে বিছানায় ঘুমন্ত মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে গলা কেটে এবং পরে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন, যা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যুর কারণ হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া নিহত রেজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ