ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’


‘জনপ্রতিনিধিদের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নাগরিকরা যদি ভুলত্রুটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হন তবে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতা বহিষ্কার, আমিনুল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। সুতরাং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও যদি অনিয়ম ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।

সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। যদি কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

আইনমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়মের সুযোগ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হেনস্তা করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

শৈলকূপার উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। দিগনগর ইউনিয়নেও বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে। এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীরা উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।

তিনি মত দেন, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহির চর্চা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ: হুইপ অপু

ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন। এসময় শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় সাঁথিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উপভোগ করলেন লক্ষাধিক মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


পাবনায় সাঁথিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, উপভোগ করলেন লক্ষাধিক মানুষ

পাবনার সাঁথিয়ায় প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভাধীন আফতাবনগর-ছেচানিয়া সেতুসংলগ্ন ইছামতী নদীতে এ বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নদীর তীরজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শকেরা নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে উৎসবে অংশ নেন এবং নৌকাবাইচের অনবদ্য আনন্দ উপভোগ করেন। শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সবাই যেন ফিরে যান শিকড়ের সেই আনন্দঘন গ্রামীণ উৎসবে।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান) সাইয়েদ আবদুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আল হাসান আসিফ, সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালাউদ্দিন খান পিপিএম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিকসহ অনেকে।

এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় ১১টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ‘এরশাদ ফাইটার্স’ প্রথম স্থান অধিকার করে পুরস্কার অর্জন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার পরও কি জাগবে প্রশাসন? বরিশালে প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দোকানে ঢুকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা আবারও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বরিশালে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পরও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বরং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাংবাদিক আসলামের প্রশ্ন, একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও যদি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিপদের মুহূর্তে তিনি কার কাছে যাবেন? তাঁর আশঙ্কা, তাঁর মৃত্যুর পরই কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়বে?


সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে মহড়া ও প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তালাশ বিডি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করাই ছিল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব। তবে এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মাথায় অস্ত্র তাক করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতেও তাঁকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার হননি।

৭ অক্টোবর ফের হত্যার হুমকি, মামলা প্রত্যাহারে চাপের অভিযোগ

সাংবাদিক আসলামের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাঁদের মধ্যে মামলার ৬ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত আসলাম গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী আসলাম গত ৭ অক্টোবর তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।

আসলামের ভাষ্য, মামলার ৬ নম্বর আসামি আসলাম ওরপে মেলা আসলাম। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ছোট সন্তান স্কুলে পড়ে—এ বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন তিনি মামলা তুলে নেন, সে উদ্দেশ্যেই এ চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে নিজের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও চরম উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম।

‘আসামির লোকেশন খুঁজে দেওয়া কি সাংবাদিকের দায়িত্ব?’

মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, একাধিকবার বিষয়টি জানিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম তাঁকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। আপনি আসামির বর্তমান লোকেশন (অবস্থান) দিন, আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করব।”

অন্যদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি মডেল থানা) অলক কান্তি শর্মা বলেন, “পুরো ব্যাপারটা আমি দেখছি।”

তবে আসলামের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি জানানোর পরও তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক। আমি সংবাদ সংগ্রহ করি, অপরাধের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরি এবং জনগণের সামনে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করি। কিন্তু একজন অভিযুক্ত কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব নয়। আমি যদি নিজেই আসামির লোকেশন খুঁজে বের করে দিতে পারি, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতার ভূমিকা কী?”

তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্তে সময় লাগতে পারে। কিন্তু সে কারণে হত্যার হুমকির অভিযোগে আক্রান্ত একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তদন্তে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা, তবু অধরা প্রধান আসামি নাকা রুবেল।

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর দাবি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেছেন।

তবে মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক আসলাম।

তাঁর দাবি, একসময় র‍্যাবের ক্রসফায়ারের তালিকায় নাম থাকা এই ব্যক্তির কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত সম্পর্কেও প্রশাসন অবগত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।

মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্ন, মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা না গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হত্যার হুমকির মুখে থাকা একজন সাংবাদিক, কীভাবে নিরাপদ বোধ করবেন? অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেখানে একজন সাংবাদিককেই যদি আসামির অবস্থান খুঁজে দিতে হয়, তাহলে পুলিশের তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভূমিকা কী?

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক আসলাম বলেন, “একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে জনসমক্ষে তুলে ধরা। আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করানো আমার দায়িত্ব নয়। পুলিশ যদি একজন সাংবাদিকের কাছেই আসামির লোকেশন চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজটা কী? একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকার পরও যদি তাঁকে নিরাপত্তা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা আর শোক প্রকাশ করা ছাড়া প্রশাসনের আর কী করার থাকবে?”

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই না, আমার মৃত্যুর পর প্রশাসন তৎপর হোক। আমি বেঁচে থাকতে আমার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করা হোক, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তাঁকে জীবিত অবস্থায় নিরাপত্তা দেওয়াই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”

আমার মৃত্যুর পরই কি জাগবে প্রশাসন?’

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর আশঙ্কা, হত্যার হুমকির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারেন তিনি।

নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে আসলাম বলেন, “আমি যদি কোনো দিন হত্যার শিকার হই, তখন কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘুম ভাঙবে? আমার মৃত্যুর পর কি আমার অভিযোগ, আমার মামলা এবং আমার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে? একজন সাংবাদিককে বাঁচিয়ে রাখতে যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর বিচার চাওয়ার অপেক্ষা কেন?”

তিনি আরও বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পেয়ে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই না। আমি রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং অপরাধের তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকতা করি। কিন্তু আমার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। সে স্কুলে পড়ে। আমার কিছু হয়ে গেলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? তাকে কে দেখবে, কীভাবে বড় হবে? একজন বাবা হিসেবে এই প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবায়।”

আসলামের বক্তব্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি চান, তাঁর সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক এবং তাঁকে বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে না হোক।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি হত্যার হুমকি, হামলা কিংবা মামলা প্রত্যাহারের চাপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

সাংবাদিক আসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। তাঁর দায়ের করা মামলার তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি কী? প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? গত ৭ অক্টোবর নতুন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না? তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আমার কলম থামানোর আগে সত্য যাচাই করুন’

সাংবাদিক আসলামের বক্তব্য, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা কাউকে হয়রানি করা তাঁর সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য নয়। অপরাধের তথ্য সংগ্রহ, প্রমাণ যাচাই এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করাই তাঁর কাজ। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং আইনসম্মতভাবে প্রতিকার চাওয়ার পথও খোলা রয়েছে। কিন্তু হত্যার হুমকি কিংবা জোর করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আশ্বাস বা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ এবং বাস্তব নিরাপত্তাব্যবস্থা।

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, হুমকির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সম্ভাব্য বিপদ প্রতিরোধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া কতটা জরুরি। কোনো সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে আগেই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চান আসলাম

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সাংবাদিক আসলাম জানিয়েছেন, সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যেতে চান না তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করবে এবং তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি চান না, তাঁর সন্তানকে কখনো বাবার হত্যার বিচার চাইতে রাজপথে দাঁড়াতে হোক কিংবা বাবার অনুপস্থিতিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হোক।

একজন সাংবাদিকের কলম যদি অপরাধের তথ্য তুলে ধরার কারণে ভয়ের মুখে থেমে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু ওই সাংবাদিক নন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকারও। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়; এটি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষার অপরিহার্য অংশ।

সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্নটি তাই শুধু তাঁর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নয়; এটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়েও।

তাঁর আকুতি, “আমার মৃত্যু হলে তখন হয়তো আমার কথা সবাই শুনবেন। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে, আমার সন্তান বাবাকে কাছে পেতে এবং আমি নিরাপদে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে—সেই নিশ্চয়তা কি এখনই দেওয়া যায় না?”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ এম


শেরপুরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে,

শেরপুরে কেক কাটার মাধ্যমে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার চতুর্থ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০ টায় শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও কেক কাঁটার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানের দৈনিক কালবেলার শেরপুর প্রতিনিধি জাহিদুল খান সৌরভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। আমরা আশা করছি, পত্রিকাটি একসময় বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ে চলে যাবে। বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অপব্যাখ্যামূলক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে কালবেলা এসবের বাইরে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করছে। আশা করি সংবাদ মাধ্যমে এই গণমাধ্যমটি শীর্ষ স্থান ধরে রাখবে।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, নির্বাহী সদস্য হোসাইন আহম্মেদ মোল্লা, নির্বাহী সদস্য কাজী মাসুম, জেলা বিএনপির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমদ ময়না, সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মানিক, দৈনিক আলোচিত জামালপুরের শেরপুর প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম রতন, দৈনিক মুক্ত খবরের শেরপুর প্রতিনিধি রাজাদুল ইসলাম বাবু, ওসমান গনি, আর টিভির শেরপুর প্রতিনিধি ফজলুর রহমান, নিউজ ২১ এর শেরপুর প্রতিনিধি শান্ত রায়।

অনুষ্ঠানে অন্যানোদের মধ্যে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দিনকালে প্রতিনিধি আবু হানিফ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ইনডিপেনডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি মেরাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জেলা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজদিখানে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক: সরকারি তালিকায় নাম, গুদাম ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষের অভিযোগ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: রনি শিকদার, চীফ রিপোর্টার

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


সিরাজদিখানে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক: সরকারি তালিকায় নাম, গুদাম ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষের অভিযোগ!

পাঁচ ডিলারশিপকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ; নিয়োগপ্রক্রিয়া, ব্যবসায়িক অবকাঠামো ও সার বিতরণের হিসাব প্রকাশের দাবি

মো: রনি শিকদার, চীফ রিপোর্টার: তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা, দোকান ও গুদামের অস্তিত্ব, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ্যতা যাচাই এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা ডিলারব্যবস্থায় কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রশুনিয়া, বাসাইল, কেয়াইন, রাজানগর ও শেখের নগর ইউনিয়নের পাঁচটি ডিলারশিপকে ঘিরে ঘুষ, প্রভাব খাটানো, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং সার সংরক্ষণের উপযুক্ত অবকাঠামো না থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রশুনিয়া ইউনিয়নের একটি ডিলারশিপের ক্ষেত্রে প্রায় দুই লাখ টাকা অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-এমন কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়। বরং সরকারি নথি, আবেদনপত্র, অনুমোদনপ্রক্রিয়া, গুদাম পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ করা সরকারি নথিতে সিরাজদিখান উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক ডিলার প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। ফলে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে-অনুমোদিত ডিলাররা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কি না এবং তাঁদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল।

সরকারি নথিতে কী পাওয়া যাচ্ছে? সংযুক্ত সাত পৃষ্ঠার সরকারি নথিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকার সার ডিলারদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক তথ্য রয়েছে। নথির প্রথম পৃষ্ঠায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় ও বিভিন্ন এলাকার অনুমোদিত ডিলারের তালিকা দেখা যায়। ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় সিরাজদিখান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন বা এলাকার ডিলার প্রতিষ্ঠানের নাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। সপ্তম পৃষ্ঠায় ডিলার নিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনার শর্তসংক্রান্ত নির্দেশনা রয়েছে। নথিতে কেয়াইন, ইছাপুরা, জৈনসার, বয়রাগাদী, রশুনিয়া, মধ্যপাড়া, বালুচর, বাসাইল, মালখানগর, রাজানগর, চিত্রকোট, কোলা, লতব্দী ও শেখের নগর এলাকার নাম দেখা যায়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সরকারি তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা মানে সেটি অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত-কিন্তু এর দ্বারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। একইভাবে তালিকায় নাম থাকার কারণে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সব শর্ত মেনে চলছে, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই অনুমোদনের নথির পাশাপাশি বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও গুদাম পরিদর্শনের তথ্যও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাঁচ ডিলারশিপকে ঘিরে যেসব অভিযোগ

১. রশুনিয়া ইউনিয়ন: রনি ট্রেডার্স ও রনি এন্টারপ্রাইজের নাম নিয়ে অসংগতি:
রশুনিয়া ইউনিয়নের ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি সামনে এসেছে। অভিযোগের বিবরণে মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের নাম উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে মোহাম্মদ খোকনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই লাখ টাকা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার বিক্রি ও সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দোকান কিংবা উপযুক্ত গুদাম নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এখানে সরকারি নথির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি রয়েছে। সংযুক্ত নথির ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রশুনিয়া ইউনিয়নের ডিলার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স রনি ট্রেডার্স হিসেবে পড়া যাচ্ছে। অভিযোগে ব্যবহৃত ‘রনি এন্টারপ্রাইজ’ নামটির সঙ্গে সরকারি তালিকার প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয় একই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এই পার্থক্য যাচাই না করে দুটি নামকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা জরুরি: ডিলারশিপের জন্য জমা দেওয়া আবেদনপত্র ও অনুমোদনের আদেশ। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যবসায়িক ঠিকানা ও মালিকানার তথ্য। সার সংরক্ষণের গুদামের ঠিকানা এবং বাস্তব অস্তিত্ব। কথিত দুই লাখ টাকা লেনদেনের কোনো আর্থিক নথি, সাক্ষ্য বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে কি না। নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন প্রতিবেদন। এসব তথ্য যাচাই করা গেলে ডিলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

২. বাসাইল ইউনিয়ন: এস এ এন্টারপ্রাইজের যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি:
বাসাইল ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে এস এ এন্টারপ্রাইজের নাম সরকারি তালিকায় রয়েছে। অভিযোগের বিবরণে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে মহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরিগত পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সার বিক্রির নির্দিষ্ট দোকান ও গুদাম না থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে পরিচিত-এ তথ্য একাই অনিয়ম প্রমাণ করে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, ডিলার নিয়োগের শর্তে তাঁর বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অযোগ্যতা ছিল কি না, আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গিয়েছিল কি না এবং বাস্তবে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে কি না।
এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সার মনিটরিং কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া প্রয়োজন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছিল কি না।

৩. কেয়াইন ইউনিয়ন: ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নিয়ে প্রশ্ন:
কেয়াইন ইউনিয়নের ডিলার তালিকায় ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের নাম রয়েছে। অভিযোগের বিবরণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে মোহাম্মদ ওহিদুল বেপারী নজুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরিগত পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দোকান ও গুদামের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই অভিযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তব পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঠিকানা থাকলেই সেখানে সার সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা আছে-এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। আবার সরেজমিনে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দোকান বন্ধ পাওয়া গেলেই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন-এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। সুতরাং গুদামের ঠিকানা, ভাড়ার চুক্তি বা মালিকানার নথি, মজুত খাতা, সার উত্তোলনের হিসাব এবং বিক্রির রেকর্ড মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৪. রাজানগর ইউনিয়ন: শামীম এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম কোথায়?

রাজানগর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজের নাম সরকারি তালিকায় রয়েছে। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে শামীম হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডিলারশিপ পরিচালনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা রয়েছে এবং সার সংরক্ষণের উপযুক্ত গুদাম নেই। এখানে দুটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথমত, ডিলারশিপের আবেদন ও অনুমোদন যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়েছিল কি না। দ্বিতীয়ত, অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে নিয়মিত সার উত্তোলন, সংরক্ষণ ও কৃষকদের কাছে বিক্রির কাজ করছে কি না। প্রতিষ্ঠানের নামে গুদাম না থাকার অভিযোগ সত্য হলে তা সংশ্লিষ্ট নীতিমালার আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন। আর অভিযোগটি সত্য না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও প্রমাণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা জরুরি।

৫. শেখের নগর ইউনিয়ন: সোনালী কৃষি ট্রেডার্স নিয়ে অভিযোগ:

শেখের নগর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে সোনালী কৃষি ট্রেডার্সের নাম সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের বিবরণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে মো. সাইজুদ্দিন সাধুর নাম এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাই করা আর্থিক দলিল, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদনের হাতে নেই। তাই এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আবেদনপত্র, যোগ্যতার কাগজপত্র, অনুমোদনের ভিত্তি এবং গুদাম পরিদর্শনের প্রতিবেদন পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রমাণভিত্তিক তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ঘুষের অভিযোগ: তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্ত নয়:
রশুনিয়ার ডিলারশিপ নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা অনৈতিক লেনদেনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা গুরুতর। কারণ সরকারি ডিলারশিপের মতো একটি ব্যবস্থায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তবে সংবাদে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ করা আর সেই লেনদেন প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। কথিত অর্থের উৎস, প্রাপক, লেনদেনের সময়, অর্থ প্রদানের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সাক্ষী এবং আর্থিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও নিয়োগ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত।
কোনো লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারি সার বিতরণব্যবস্থায় গুদাম ও দোকানের গুরুত্ব, সার ডিলারের দায়িত্ব কেবল তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা নয়। কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার সরবরাহ, মজুতের হিসাব রাখা, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রের বাস্তব অবস্থা যাচাই না করা হলে কয়েক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে: প্রথমত, সারপ্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা: নির্ধারিত এলাকায় কার্যকর বিক্রয়কেন্দ্র না থাকলে কৃষককে দূরের বাজারে যেতে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মজুতের হিসাব যাচাইয়ের সমস্যা: বাস্তব গুদাম ও মজুতের তথ্যের সঙ্গে কাগজপত্রের মিল না থাকলে সার উত্তোলন ও বিক্রির হিসাব যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে। তৃতীয়ত, মূল্য পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা: বিক্রয়কেন্দ্র ও মূল্যতালিকা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। চতুর্থত, বরাদ্দের স্বচ্ছতা: কোন ডিলার কত সার উত্তোলন করছেন এবং কোন এলাকার কৃষকদের কাছে কত সার বিক্রি করছেন, তার হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরার উদ্দেশ্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা।

নীতিমালার আলোকে কী কী পরীক্ষা করা প্রয়োজন?
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন’ শিরোনামে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০২৫ সালের সমন্বিত নীতিমালার সংশোধিত সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছিল। নীতিমালার সুনির্দিষ্ট ধারা ও কার্যকর হওয়ার বিধান মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের নিয়োগ ও বর্তমান কার্যক্রম যাচাই করা প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষের কাছে নিচের বিষয়গুলোর নথি চাওয়া যেতে পারে:
১. ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র ও যাচাই প্রতিবেদন।
২. জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদনসংক্রান্ত নথি।
৩. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যবসায়িক ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
৪. গুদামের ঠিকানা, ধারণক্ষমতা, মালিকানা বা ভাড়ার প্রমাণ এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন।
৫. সার উত্তোলন, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের হিসাব।
৬. সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণের রেকর্ড এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনের তথ্য।
৭. ডিলারদের বিরুদ্ধে আগে কোনো লিখিত অভিযোগ বা পরিদর্শন প্রতিবেদন রয়েছে কি না।
৮. অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা চেয়েছে বা তদন্ত শুরু করেছে কি না।
এই নথিগুলো একত্রে পর্যালোচনা করলে অভিযোগ, অনুমান ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হবে।
সিরাজদিখানে সার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শনের নজির

সিরাজদিখানে সার ডিলার পয়েন্টের তদারকি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পূর্বেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শনের কথা বলা হয়। সেখানে গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন, রেজিস্টার, সারের মজুত ও বিক্রয় খতিয়ান পরীক্ষা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা যাচাইয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।এটি দেখায় যে ডিলারদের বাস্তব কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য গুদাম পরিদর্শন ও হিসাব পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। তবে ওই পরিদর্শনের তথ্যকে বর্তমান প্রতিবেদনে উল্লিখিত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আলাদা পরিদর্শন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কৃষকের স্বার্থে কোন ধরনের তদন্ত জরুরি?
সার ডিলার নিয়োগের উদ্দেশ্য হলো কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা সুসংহত করা। তাই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত কৃষকের বাস্তব সুবিধা, ডিলারদের যোগ্যতা এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানানো যেতে পারে:
এক. যৌথ পরিদর্শন: উপজেলা কৃষি কার্যালয়, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অভিযোগে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ঠিকানা ও গুদাম যাচাই।
দুই. নথি যাচাই: আবেদনপত্র, নিবন্ধন, যোগ্যতার কাগজপত্র এবং অনুমোদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা।
তিন. মজুত ও বিক্রির হিসাব মিলিয়ে দেখা: সার উত্তোলন, গুদামের মজুত, বিক্রির খাতা এবং বিতরণসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা।
চার. অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ: অভিযোগের ভিত্তি, সময়, স্থান ও সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ।
পাঁচ. অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে অভিযোগের বিপরীতে তাঁদের ব্যাখ্যা প্রকাশ।
ছয়. তদন্তের ফল জানানো: অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেই তথ্যও প্রকাশ করা।
সাত. কৃষকের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা: সার না পাওয়া, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম চাওয়া কিংবা বিক্রয়কেন্দ্রের অবস্থানসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

প্রশাসনের কাছে জনস্বার্থের প্রশ্ন: সিরাজদিখানে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া কি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা হয়েছিল?
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রের ঠিকানা কী?
নিয়োগের আগে এবং পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছিল কি?
অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে কি?
ডিলারদের সার উত্তোলন ও বিতরণের হিসাব কতটা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়?
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সরকারি নথি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। কোনো উত্তর না পাওয়া গেলে তা সংবাদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। সরকারি সার কৃষকের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সার ডিলার নিয়োগ, বরাদ্দ, সংরক্ষণ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের বিষয়। সিরাজদিখানের পাঁচটি ডিলারশিপকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে জনতার কণ্ঠস্বর। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিলারশিপ পেয়ে থাকলে কিংবা সার বিতরণে অনিয়ম করে থাকলে তদন্তে তা প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষাও নিশ্চিত করা হোক। জনস্বার্থে সত্য উদ্‌ঘাটনই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার লক্ষ্য। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী ঘোষণা করা নয়, বরং নথি, প্রমাণ, প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা-এটাই হওয়া উচিত এই অনুসন্ধানের মূল উদ্দেশ্য।

জনতার কণ্ঠস্বরের দাবি: সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত থাকুক। জনতার কণ্ঠস্বর -দেশ ও জনতার কথা বলে। সম্পাদকীয় ও তথ্যসূত্র নোট প্রধান নথি: ব্যবহারকারীর সরবরাহ করা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাত পৃষ্ঠার সরকারি ডিলার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা। বাহ্যিক প্রেক্ষাপট: কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের নীতিমালা-সংক্রান্ত প্রকাশনা এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিরাজদিখানে সার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শনবিষয়ক স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন। প্রকাশের আগে যাচাই আবশ্যক: পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ আইনগত নাম, মালিকানার তথ্য, গুদামের বাস্তব অবস্থা, নিয়োগের শর্ত পূরণের প্রমাণ, কথিত আর্থিক লেনদেনের ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য। আইনগত সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে ঘুষ, প্রভাব খাটানো ও গুদাম না থাকার বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; তদন্তে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়। চলবে.........

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%