ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঝিনাইদহ বিএনপিতে রাশেদ খানকে ঘিরে রাজনৈতিক আশার আলো


ঝিনাইদহ বিএনপিতে রাশেদ খানকে ঘিরে রাজনৈতিক আশার আলো

ঝিনাইদহ একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সাংগঠনিক ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নেতৃত্বের বিভাজন, আওয়ামী লীগের প্রতি জেলা নেতাদের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দলের সেই প্রভাব সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে ঝিনাইদহ বিএনপি এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও সদ্য ঘোষিত ডাকসুর সাবেক জিএস মোঃ রাশেদ খান কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পরাজিত হলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ রাশেদ খানের জাতীয় রাজনীতিতে নাটকীয় উত্থান এবং গণমাধ্যমে তার যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ এবং সরকারের সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়ার ফলে রাশেদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের মাঠে পরাজিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে রাশেদ খানের এই প্রভাবশালী অবস্থানকে দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ‘মরা গাঙে জোয়ার’ হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: এনসিপি নেতারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নাতনির ঝুলানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন

দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা এবং নানা ভাবে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন রাশেদ। তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রশাসনিকভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে প্রশংসিত হচ্ছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাশেদ খানের দ্রুত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। বাকপটু বাগ্মিতা এবং কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে তরুণদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন, এবং প্রবীণ নেতারাও তাঁকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

রাশেদ খানের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আশাবাদী। উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা বিএনপির নেতারা যেভাবে রাশেদ খানকে সমর্থন করছেন, তাতে বিএনপি পরাজয়ের গ্লানি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্যাগী ও মার্জিত চরিত্রের প্রার্থী মনোনীত করতে পারলে তৃণমূল বিএনপির পুরানো সুদিন ফিরে আসতে পারে।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান মন্তব্য করেন, "রাশেদ খান ঝিনাইদহের সন্তান এবং আমাদের গর্ব। তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপির পুরোনো শক্ত ঘাঁটিকে আবারও সংগঠিত করতে প্রতি সপ্তাহে ঝিনাইদহে আসছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী রাশেদ খানকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা তিনি যথাযথভাবে পালন করছেন।"

মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, "রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ায় তৃণমূল বিএনপির জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। তিনি অনেক মানুষকে প্রশাসনিকভাবে সাহায্য করতে পারছেন। তার দ্বারা মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী রাশেদ খানকে সঠিক জায়গায় স্থান দিয়েছেন।"

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ওসির বিরুদ্ধে তরুণীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ

বিএনপি ঘরানার রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক বলেন, "তিনটি আসনে পরাজয়ের তিক্ত দাগ ঝিনাইদহ বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল। কিন্তু সেই ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়ে আজ নতুন দিনের স্বপ্ন আঁকছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আইনমন্ত্রী আসাদুুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের হাত ধরে ঝিনাইদহের উন্নয়ন তরান্বিত হবে, বিশেষ করে রেল লাইন, মেডিকেল কলেজ এবং প্রয়াত এমপি মসিউর রহমানের করা স্থাপনাগুলো যাতে ভালোভাবে চলে, সেটাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ, কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানও রয়েছে অস্ত্রসহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ, কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানও রয়েছে অস্ত্রসহ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সফল অভিযানের কারণে বনদস্যু দলগুলো এখন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, কোস্ট গার্ডের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল এবং ১২ জন সক্রিয় দস্যু সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৬টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ বাহিনীর ১২ সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে, ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মিমি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারী অন্যান্য বনদস্যুরা হলেন, খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬); সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার আজিজুর রহমান (৪৫)। কোস্ট গার্ড জানায়, এই দস্যু দলটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্‌দীন জানান, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং ৪২ জন সাধারণ নাগরিককে জিম্মিদশা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে, কোস্ট গার্ডের চাপের মুখে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর মোট ৩৭ জন সক্রিয় দস্যু সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল।

তিনি আরও বলেন, “আমরা সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে। তবে যারা অপরাধ চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির আলোকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুষের অভিযোগে মুন্তাছির বদলি, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


ঘুষের অভিযোগে মুন্তাছির বদলি, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে

ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের বিতর্কিত সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে, যা পাহাড়সম দুর্নীতি ও বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগের পর ঘটেছে। তিনি গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন। ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা তার অপকর্মের ফলে স্থানীয় ইটভাটা, ক্লিনিক মালিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালনকালে মুন্তাছির রহমান পরিবেশ ছাড়পত্রের ভয় দেখিয়ে ইটভাটা, ক্লিনিক, সমিল এবং ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক ও মাসিক ভিত্তিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ঝিনাইদহ ইটভাটা মালিক সমিতির তথ্যমতে, প্রতিটি ইটভাটা থেকে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা হারে ঘুষ আদায় করা হতো। যদি চাহিদামতো টাকা না দেওয়া হতো, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ভারী অঙ্কের জরিমানা করার ভয় দেখানো হতো।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু তালেব অভিযোগ করেছেন, গত মৌসুমে চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তার ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে কালীগঞ্জের জেকে ব্রিকসের মালিক জয়নাল আবেদীন, বারোবাজারের ওয়াদুদ ইসলাম এবং মহেশপুরের ভাই ভাই ইটভাটার মালিক সুলতানও এই কর্মকর্তার হাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

চিকিৎসা খাত থেকেও একইভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কালীগঞ্জ ক্লিনিক মালিক সমিতির দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, স্থানীয় ক্লিনিকগুলোর কাছ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা নিলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুন্তাছির রহমান সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

ইটভাটা ও ক্লিনিকের পাশাপাশি জেলার প্রায় ৩০০টি ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করতেন এই কর্মকর্তা। বারোবাজারের মজুমদার এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের তেল মিল থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা, হরিণাকুণ্ডুর এক মুড়ি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বছরে ৫০ হাজার টাকা এবং কাঠচেরা কল বা সমিলগুলো থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।

জানা গেছে, ঘুষের এই লেনদেন পরিচালনা করতে তিনি আটটি সুনির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর ব্যবহার করতেন। এভাবে গত তিন বছরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি যশোরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া নামে বেনামে রয়েছে তার অবৈধ সম্পত্তি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব কর্মকাণ্ড ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়ায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল। অবশেষে এই বদলির আদেশে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, মুন্তাছির রহমান যখনই ঘুষ আদায় করতে ব্যর্থ হতেন, তখনই ভ্রাম্যমান আদালত বসানোর জন্য পীড়াপীড় শুরু করতেন। বিষয়গুলো জানান পর প্রশাসন খুবই বিব্রত বোধ করে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মুন্তাছির রহমান তা অস্বীকার করে জানান, ঝিনাইদহের ইটভাটা ও ক্লিনিক মালিকদের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। তিনি কারো কাছ থেকে ঘুষ নেননি। তবে যশোরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করার কথা জানাতেই তিনি লাইন কেটে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়েক শ পরিবার পানবন্দি থেকে মুক্তি, ৪ শ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


কয়েক শ পরিবার পানবন্দি থেকে মুক্তি, ৪ শ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর হলো

গোদাগাড়ীর রাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতে জমে থাকা হাঁটু পানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় "বেহালদশা, জনদুর্ভোগ চরমে" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর গোদাগাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ইসরাত জাহান, পৌরসভার প্রকৌশলী ও সচিব সাওয়ার জাহান মুকুল, এবং অন্যান্য পৌর কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভেকু ব্যবহার করে মাটির খনন করে কাঁচা নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে ৪ বিঘা জমির ফসল, এবং কয়েকশ পরিবার উপকৃত হয়েছে।

দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, "রাজধানী বা বড় শহর নয়, খোদ রাজশাহী জেলার প্রথম শ্রেণির গোদাগাড়ী পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট এখন চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।" সামান্য বৃষ্টিতে এসব রাস্তা চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায় আবার কোথাও কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গোদাগাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সামান্য বৃষ্টির পানি জমে বিশাল বিলের আকার ধারণ করেছে। এতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। পৌরসভায় বারবার অভিযোগ করার পরেও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

তবে উপজেলা প্রশাসন, গোদাগাড়ী পৌরসভা ও ওয়াসা রাজশাহীর যৌথ উদ্যোগে গতকাল বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ শুরু হয়। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফাজিলপুর এলাকার জনগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকশত বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর করতে কাঁচা ড্রেন খনন করা হয়েছে। এর ফলে এলাকার মানুষ উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং ওয়াসা, রাজশাহী কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, "আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করি। ভেকু দিয়ে মাটি কেটে কাঁচা ড্রেন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানগরী সড়কের পাশে থেকে রডসহ অবৈধ মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালপুরে খেজুরগাছ এখনো আছে, তবে নেই যত্নের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


গোপালপুরে খেজুরগাছ এখনো আছে, তবে নেই যত্নের অভাব

গোপালপুরের গ্রামাঞ্চলে এখনো দেখা যায় খেজুরগাছের সারি। রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় এবং ফসলের মাঠের আইলে অবস্থান করছে এসব গাছ, যা হারিয়ে যেতে বসা এক গ্রামীণ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবের কারণে খেজুরগাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। যদিও পুরোনো গাছগুলো টিকে আছে, নতুন করে চারা রোপণের কিংবা সংরক্ষণের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, কিছু পুরোনো খেজুরগাছ এখনো সবুজে ভরা। কোথাও গাছের কা-জুড়ে লতাপাতা (পরগাছা) এবং বট-পাকুরগাছ গজিয়েছে, আবার কোথাও গোড়ার চারপাশে ঘন আগাছা দেখা যাচ্ছে। রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির সীমানায় অবস্থিত এসব গাছের অধিকাংশেরই নিয়মিত পরিচর্যার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, একসময় গোপালপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরগাছ ছিল প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্য। শীতের মৌসুমে গাছিরা খেজুরগাছের কা- পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করতেন। সেই রস দিয়ে তৈরি হতো খেজুরের গুড় ও পাটালি। শীতের সকালে খেজুরের রস ঘিরে জমে উঠত গ্রামীণ উৎসবের আমেজ।

কালের পরিবর্তনে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের ঐতিহ্য যেমন কমেছে, তেমনি নতুন খেজুরগাছ লাগানোর প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিদ্যমান গাছগুলো বয়সের ভারে নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলোর জায়গা পূরণ করার মতো নতুন গাছ তৈরি হচ্ছে না।

গোপালপুরের গুড় ব্যবসায়ী সন্তোষ পাল জানান, স্থানীয়ভাবে খেজুরের গুড়ের চাহিদা থাকলেও এলাকায় উৎপাদন না হওয়ায় তাদের বাইরের অঞ্চল থেকে গুড় সংগ্রহ করতে হয়। তিনি বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রায় একশ মণেরও বেশি খেজুরের গুড় এনে গোপালপুর ও আশপাশের এলাকায় বিক্রি করি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “এখনো অনেক খেজুরগাছ আছে। কিন্তু গাছগুলোর যতœ নেওয়ার মানুষ কমে গেছে। পুরোনো গাছ নষ্ট হলে নতুন গাছ লাগানোও হয় না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর খেজুরগাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।”

গোপালপুর সকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (কৃষি), ফারুক আহম্মদ বলেন, খেজুরগাছ গ্রামীণ পরিবেশ ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ। নতুন করে খেজুরের চারা রোপণ ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা গেলে খেজুরগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদের মতে, খেজুরগাছ শুধু রস ও গুড়ের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ প্রকৃতি ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাস্তার পাশে ও পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে খেজুরের চারা রোপণ করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ এবং একই সঙ্গে পুরোনো গাছগুলোর তালিকা তৈরি করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গোপালপুরের পথে-প্রান্তরে এখনো দাঁড়িয়ে থাকা এসব খেজুরগাছ যেন কালের সাক্ষী। কিন্তু এখনই সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে একসময় গাছ থাকবে না, থাকবে শুধু স্মৃতিÑআর হারিয়ে যাবে শীতের ভোরে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে থাকা গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%