০১:২৪ এম
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘বিয়ের আশ্বাসে’ এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। অভিযোগে ওসির এক সহযোগী সোহেল নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ও তার লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছেন। এই কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পরেও ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রায় দেড় বছর আগে কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওসি ইফতেখার হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সময় ওসি ইফতেখার তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালীন তিনি নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
তরুণী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওসি ইফতেখার হোসেন তাকে তার বন্ধু সোহেলের বাসায় নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতেন। সোহেল এই অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। সোহেল নিয়মিতভাবে তরুণীকে ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, ওসি ইফতেখার তাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন এবং সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে তরুণী উল্লেখ করেন, এই ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা তাকে ফোন করে আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায়, ওসি নিজে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর, ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আঙ্কেলকে তরুণীর বাসায় পাঠান। এ সময় তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মোবাইল কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন। তরুণী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ওসি এবং তার সহযোগী সোহেল যেকোনো সময় তার এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন।
তরুণী আরও বলেন, কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।" তিনি জানান, তারা ভয়ে বাসা থেকেও বের হতে পারছেন না এবং বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় বিএনপির উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, রাজপথে বিশাল মিছিল
ভুক্তভোগী তরুণী দাবি করেন, ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অভিযুক্ত ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, "এগুলো সব কথা মিথ্যা।"
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, "একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন