০১:২১ এম
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে একটি গলিতে দেয়ালে ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’, ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল শুক্রবার ছয় ছাত্রীর লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছে। ছাত্রীদের দাবি, তারা স্লোগানগুলো ‘ইয়ার্কি’ (মজার) করে লিখেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাদের শরীরী ভাষা সে রকম ছিল না।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পোশাক পরিহিত কয়েকজন শিক্ষার্থী স্প্রে রঙ ব্যবহার করে বাড়ির দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখার কাজ করছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় নেতারা বক্তব্য দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তৎপর হয়। গতকাল প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় শিক্ষার্থীরা দাবি করে, তারা নিছক ইয়ার্কি ও মজার ছলে এসব লিখেছে।
শেখ রেজাউল করিম বলেন, ভিডিও ও ছবিতে যেসব শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে, তারা পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণির। তাদের অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে কালো রঙের একটি স্প্রে ছিল। দেয়ালে থাকা সাদা রঙের লেখাগুলো তারা করেনি; শুধুমাত্র কালো রঙের লেখাগুলো নিজেদের বলে স্বীকার করেছে। তিনি জানান, অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরামর্শে তারা এসব লিখেছে বলে দাবি করেছে। এ বিষয়ে আরো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় ছাত্রীর মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির এবং পাঁচজন সপ্তম শ্রেণির। তারা দাবি করেছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা প্রলোভন থেকে নয়, বরং ‘ইয়ার্কির ছলে’ তারা দেয়ালে লিখেছে।
আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে
চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব বলেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ মিছিল ছিল গোপন ষড়যন্ত্রকারী ও জেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারীদের বিরুদ্ধে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন নিয়ে দেয়ালে লেখার বিষয়টি জানার পর আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক-উজ-জামান সমকালকে জানান, সকালে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীদের ও তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। এ সময় তিনি এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফাহাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন