জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
১০:৪৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত প্রায় এক হাজার সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা রোববার (১২ জুলাই) বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং মেডিকেল টিমের প্রধান সমন্বয়ক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষায়িত মেডিকেল টিম।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৫০টি পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ দিনের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এসময় ডা. আউয়াল বলেন, বিএনপির রাজনীতিই হচ্ছে জনগণের জন্য। বন্যার সাথে সাথেই ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ৩ হাজার ৪৫০ টন চালের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, প্রায় এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজও তড়িৎগতিতে চলছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নেতা এই কাথারিয়া ইউনিয়নের কাথারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় দশ হাজার খাবারের স্যালাইন ও বন্যাবাহিত রোগের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নিয়ে এসেছি। তবুও, দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা আছে।
১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন; ঠিক এবারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফলভাবে জান-মাল রক্ষা করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ শিহাব, ডা. খোন্দকার সিফাত-উল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ডা. হাসিবুল হাসিব, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শাফায়েত হোসেন শিশির, সিনিয়র সভাপতি ডা. ইরফানুর রহমান জিশান, সহ সভাপতি ডা. তানভীর আহমেদ শাকিল, ডা. জামান মো. নুরশাদ, শোয়াইব সিফাত, মো. শাহজাদা, আসিফ হাসান নিয়ন, আবু তাসিন সামি, নাদিম সামি, নাজমুল হাসান, দিবাকর রায় দীপ্ত, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আরাফাতুল ইসলাম মিজবাহ, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. সালাউদ্দিন স্বপন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর, ফরহাদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদ, রাকিবুল ইসলাম রাফিসহ অন্যান্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোবাইল কোর্ট আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের আওতায় পরিচালিত মামলার সাজার আপিল, রিভিশন এবং রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে আজ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে দ্রুতকৃত সুপারিশ প্রদান কমিটির সভাপতি থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।
কমিটির সদস্যদের মাঝে রয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব।
‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে মোবাইল কোর্টের সাজার আপিল, রিভিশন এবং রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।
পাশাপাশি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সহায়ক ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সভায় আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষমতা থাকবে কমিটির।
কমিটিকে সচিবিক সহায়তা প্রদান করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটি গঠনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আজ কোস্টগার্ড বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা ৪০০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করেছে। জব্দ করা মদের বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তাসহ উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান, মানব ও মাদকপাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রোববার সকালে কোস্ট গার্ড বেইস, চট্টগ্রাম ইপিজেড থানার আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক কারবারিদের একটি গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা ৪০০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। জব্দ করা মদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ড এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছড়ার স্রোতে ভেসে নিখোঁজ সজিব জলদাসের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারি শুরু হয়।
ভয়াবহ বন্যা ও ভারি বর্ষণের কারণে সেখানে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ শিশুকন্যা, ৫ জন ছেলে এবং ২০ বছরের একজন যুবকও আছেন।
এছাড়া, ১২ বছরের শিশুর নাম সজিব জলদাস, যে গতকাল ২৩ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রবিবার বিকেল ৩টায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।
চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পানি কোমর থেকে গলা পর্যন্ত রয়েছে। যেসব স্থান থেকে পানি নেমে যাচ্ছে সেখানে ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে।
গতকাল শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত অবশ্য কিছুটা কমেছে, কিন্তু আজ রবিবার আবারও অতি ভারি বর্ষণ শুরু হলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলায় বিকালের পর বৃষ্টিপাত কমে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বানের পানির সাথে যুদ্ধ করার পাশাপাশি স্বজন হারা হয়ে দুঃখে কাতর। রবিবার বিকেলে চকরিয়ার বরইতলীতে বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে মারা যান মোহাম্মদ আতাউল্লাহ (২০) নামের যুবক। যুবকটি বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিবাজারস্থ পূর্ব ছড়াকূলের ফতেহ আলী সিকদার পাড়ার নেসার আহমদের পুত্র, এবং চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে, ফলে ২ শিশু মারা যায়। নিহত শিশুরা হলেন, মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৫) এবং আবদুল মজিদের ছেলে মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)।
এছাড়া, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে ভারি বর্ষণের সময় পাহাড় ধ্বসে নিহত হয় ৭ বছরের শিশু মিনহাজ উদ্দিন। ৯ জুলাই, চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের অতি ভারি বর্ষণে মারা যায় ২½ বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিম। ১০ জুলাই, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নৌকায় যাচ্ছিল আবদুল মালেকের পরিবার, কিন্তু নৌকা ডুবে যায়।
গত শনিবার রাতে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে ১৯ মাসের শিশুপুত্র মুশফিকুর রহিম পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিবারের দাবি, পানি ঢুকে পড়ায় শিশুটি পানিতে পড়ে যায়।
চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানালেন, শিশুর নিখোঁজ খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে যায়, কিন্তু পানির শক্তিশালী স্রোতের কারণে ফিরে আসে। পরে চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল ২৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা এক সপ্তাহের ব্যবধানে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ