ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে


কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে

 

ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে।

সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর গতি যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগে বিতর্কের সৃষ্টি

সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

এটি যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে। এবং সমস্ত বাধা, উপেক্ষা করে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়।

কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, একই সাথে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।

কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি।

সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন।

কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলামে প্রবেশ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের দুই যুবকের সউদী আরব ও লিবিয়ায় মৃত্যু

এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী।

বিশেষভাবে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।

২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানের সরকার উৎখাতের অঙ্গীকার, সফলতা নিয়ে প্রশ্ন

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি।

নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক।

ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরান: হামলা হলে ৭ দেশের এআই ও তেল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবে

২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)।

তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে-কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন: উত্তাল তিউনিসিয়া, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ

অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র।

অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন।

কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি।

২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)।

এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ!

তার মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন।

অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়-ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনিংস পরাজয়ের মুখে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


ইনিংস পরাজয়ের মুখে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস হারের শঙ্কায় থেকে তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১১৭ রান করেছে টাইগাররা। ইনিংস হার এড়াতে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ১৫৩ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় দিন শেষ করার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রান করেছিল। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে তারা ২৩০ রানে পিছিয়ে ছিল।

তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ২১ রান নিয়ে খেলতে নেমে ২২ রানে আউট হয়ে যান।

ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ৯ রানে অপরাজিত থাকা মোমিনুল হক। তিনি ১৩ রানে ফিরে যান।

৪৬ রানে ৩ উইকেট পতনের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ৬১ রানের জুটি গড়ে দলের রান ১শ পার করেন। শান্ত ৩০ রান করে রিসোর্ট হন।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ব্যক্তিগত ৩৪ রানে আউট হন মুশফিক। এর মধ্যে তাওহিদ হৃদয় ২ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ৩টি উইকেট নিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


টাঙ্গাইলে ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার মৃত্যুদণ্ড

 জেলার গোপালপুরে ভাতিজা কে. এম. রাহেনুল ইসলাম আরাফ (৫)কে হত্যার দায়ে আদালত চাচা মো. নুরনবীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

এছাড়া আদালত অপহরণের দায়ে নুরনবীকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মরদেহ গুমের দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত নূরনবী গোপালপুর উপজেলার নবধূলটিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় নুরনবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌশুলী ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মুক্তিপণের দাবিতে গোপালপুরের নাসির উদ্দিনের নাতি কে. এম. রাহেনুল ইসলাম আরাফ (৫)কে কয়েক জনের সহযোগিতায় অপহরণ করেন চাচা নুরনবী।

এরপর ১১ অক্টোবর দাদা নাসির উদ্দিন গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পর দিন কালিয়াকৈর এলাকা থেকে রাহেনুল ইসলাম আরাফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই মামলার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ মে গোপালপুর থানার এসআই মামুন ভূঞা, নুরনবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সমস্ত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে নারী হত্যা: ঋণের চাপে সোনা লুটে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


টাঙ্গাইলে নারী হত্যা: ঋণের চাপে সোনা লুটে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নাজমা আলম নাজু (৫১) হত্যা ঘটনার পর স্থানীয় চৌরাস্তা জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

৩০ জুন মঙ্গলবার, টাঙ্গাইল সদর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রেজুয়ান সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক তদন্তে আটক মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপে ছিলেন। তিনি নিহত নাজমা আলম নাজুর একই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি পরিকল্পনা করে নাজমা আলম নাজুর ঘরে প্রবেশ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সোনা-গয়না লুটের উদ্দেশ্যে তিনি নাজমা আলম নাজুর ঘরে ঢুকে মূল্যবান মালামাল ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে, বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নাজমা আলম নাজুকে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মোশারফ। পরে তদন্তের জন্য সংগৃহীত বিভিন্ন আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোশারফ হোসেনকে আটক করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যা ঘটনার সাথে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার হয়েছে এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গত রোববার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় পুলিশের সহযোগিতায় নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মামলা করার সুযোগ থাকায় ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


মামলা করার সুযোগ থাকায় ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমে এসেছে। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি থাকবার একটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, "এখন থানায় গিয়ে মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই।" এই কারণেই রেকর্ডভুক্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের দাবি পেশ করা হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই দাবি ছাঁটাই করার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা সংবাদ মাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "গত মার্চ ও এপ্রিলে সারা দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।" তিনি আরও বলেন, "দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুন হচ্ছে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি প্রশংসা জানিয়ে আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে অধিবেশনে আসা রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, "এই যখন আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তখন আমরা ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের দাবি তুলছি!" তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মুগ্ধতা যদি তিনি তার কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে ১ টাকা করার প্রস্তাব দিতাম না।"

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক দেশে মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।" পাশাপাশি তিনি এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবে বলেন, "গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে উন্নত অবস্থানে আছি।" তবে তিনি এটাও বলেছিলেন যে ধর্ষণের মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। তার মতে, "আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা থানায় যেতে পারতেন না।" এখন অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় রেকর্ডের সংখ্যা বেড়েছে।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, "ঘটনা যেখানেই ঘটুক, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।" গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া কোনো দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।"

মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের সময় জানতে চেয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কতটুকু বেড়েছে।" তিনি বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে।" ভবিষ্যতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের মতো বিষয়গুলো পাস হওয়ার পর প্রকল্প অনুযায়ী আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে।

এ ছাড়া, রুমিন ফারহানার পোশাক (আইনজীবীদের ব্যান্ড) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করে বলেন, "সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি রয়েছে। এখানে বাইরের কোনো বিধি প্রযোজ্য নয় এবং পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।" তবে তিনি বলেছেন, "তার পরা পোশাকটিও অত্যন্ত শোভন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%