ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরানের বিশাল আয়োজন


খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরানের বিশাল আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুবার্ষিকীর চার মাস পর তেহরান একটি বিশাল ও নজিরবিহীন শেষযাত্রার আয়োজন করেছে। 

এই স্মরণানুষ্ঠান সপ্তাহব্যাপী চলমান থাকবে এবং দুই দেশের পাঁচটি শহরজুড়ে কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং দীর্ঘ দশকের অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ করতে ইরান কোনো কমতি রাখছে না। কাকতালীয়ভাবে মহোৎসবটি আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। 

তেহরান মূলত এই বিশাল আয়োজন ও ধর্মীয় প্রতীকীবাদের মাধ্যমে বিশ্বকে এবং বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর বার্তা দিতে চায় যে, অস্তিত্বসংকটের যুদ্ধ থেকে তারা শুধু টিকে আছে, বরং তাদের নিহত নেতাকে প্রতিরোধের এক অমর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহত্তম লজিস্টিক বা সাংগঠনিক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সফল করতে এবং ইরান ও ইরাক জুড়ে লাখ লাখ ‘তীর্থযাত্রী’ ও শোকগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, ফায়ার সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি নিয়োজিত করা হয়েছে। শিয়া প্রধান প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতেও লাখ লাখ মানুষ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেছেন, এই মহাকাব্যিক আয়োজন বিশ্বের কাছে ইরানি জাতির মহান আত্মার পরিচয় তুলে ধরবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি প্রমাণ করবে যে তারা নিপীড়নের মুখে কখনো নীরব থাকবে না। 

এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তেহরান ও অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারি, আড়াই হাজার অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শোকগ্রস্তদের খাওয়ানোর জন্য প্রায় পাঁচ কোটি রুটি তৈরিরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, এই স্মরণসভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং নিহত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য জনসমক্ষে উপস্থিতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে হামলায় তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হন, সেই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা জনসমক্ষে আসেননি এবং তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন। 

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

এই জানাজায় তার উপস্থিতি তার নেতৃত্বের বৈধতাকে মজবুত করবে, তবে তার অনুপস্থিতি তার শারীরিক সুস্থতা এবং পর্দার আড়ালে দেশ কে চালাচ্ছে তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সম্প্রতি মোজতবাকে ‘হত্যার তালিকায়’ রাখার হুমকি দিয়েছেন, যার পর ইরানের সামরিক বাহিনীও যেকোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব-নিকাশের’ বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। যদিও সরকার এই আয়োজনকে জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তবে তীব্র যানজট ও জ্বালানিসংকটের কারণে সাধারণ ইরানিদের একটি বড় অংশ এর প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছে এবং ছুটির দিনগুলোতে শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ের রাজপুত্র সেজে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


দুবাইয়ের রাজপুত্র সেজে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

মারিয়া বিশ্বাস করেছিলেন যে, তিনি দুবাইয়ের একজন রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়েছেন। তার মোহনীয় হাসি ও ভালোবাসার কথায় তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন লাইভ ভিডিও কলে।

কিন্তু বাস্তবে সেই ‘প্রেমিক’ ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক, যা একটি অনলাইন প্রতারণার অংশ হিসেবে কাজ করেছিল।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা ঘটনার মধ্যে অপরাধীরা বাস্তব জীবনের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন কিছু ঘটনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার অপরাধচক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মারিয়া প্রিন্স হামদান বিন মোহাম্মদের ছদ্মবেশ ধারণ করা এই প্রতারকের সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে পরিচিত হন। এই প্রতারককে ফাজ্জা ছদ্মনামে পরিচিত। এরপর তাদের কথোপকথন একটি মেসেজিং অ্যাপে চলে যায়, যেখানে সে মারিয়াকে অসংখ্য রোমান্টিক বার্তা পাঠাতে শুরু করে।

ভুক্তভোগী ফিলিপাইনের গৃহকর্মী মারিয়া এএফপি’কে জানান, ‘আমি ঘুমিয়ে থাকলেও সে বারবার আমাকে মেসেজ করত।’ তিনি বলেন যে, প্রতারক তার প্রকৃত নাম ও বয়স গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি জানান, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভালোবাসার জাদু আমাদের মনকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে।’

এএফপি’র দেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, প্রতারকটি এআইয়ের সহায়তায় ওই প্রিন্সের চেহারার মতো উপস্থিত হয়েছে স্ক্রিনে। তার কথাগুলো ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে মিলছিল, তবে কণ্ঠস্বরটি আসল প্রিন্সের ছিল না।

কণ্ঠস্বরটি মারিয়াকে বলেন, ‘হ্যালো প্রিয়তমা। তোমার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ মারিয়া বুঝতে পারেননি যাতে প্রতারণা হচ্ছে, কারণ তিনি প্রেমের আবেগে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, পরে তার এক বছরের সঞ্চয় হারান।

এভাবে প্রতারক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ১ লাখ পেসো (প্রায় ১ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার) দিতে বাধ্য করেন। প্রতারক ওই অর্থ দাবি করেছিলেন বিয়ে নিবন্ধন ও একটি ‘রয়্যাল মেম্বারশিপ কার্ড’-এর জন্য, যা মারিয়ার ভাষায়, দুবাইয়ে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তবে তার সন্দেহ শুরু হয়, যখন প্রতারক তাকে একটি হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং বুকিংয়ের জন্য আরও ৬০ হাজার পেসো (প্রায় ৯৭৪ মার্কিন ডলার) দাবি করে। মারিয়া এরপর তার ফেসবুক প্রোফাইলটিও ভালোভাবে যাচাই করে দেখেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়েছিল। তখন লক্ষ্য করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

পরে তিনি যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং শেষ একটি বার্তা পাঠান: ‘জাহান্নামে যাও, প্রতারক।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভবিষ্যৎ ড্রোন যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


ভবিষ্যৎ ড্রোন যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত

পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে ভারত এখন কাজ করে চলেছে।

বিশ্বজুড়ে সংঘাতগুলো সামরিক কৌশলের চিরচেনা রূপ পরিবর্তন করেছে। আধুনিক যুদ্ধে রণক্ষেত্রের আধিপত্য যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে। বর্তমানে দামি যুদ্ধবিমান, ট্যাংক কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ভারত এখন দেশীয় ড্রোন উৎপাদন, ড্রোন-প্রতিরোধী (অ্যান্টি-ড্রোন) প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাপক গতি দিয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, সামান্য খরচে তৈরি ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ ড্রোনগুলো লাখ লাখ ডলার মূল্যের ভারী সাঁজোয়াযান ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশি, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ অ্যাটাক ড্রোনের ঝাঁক আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিতে পারছে। বিশ্বরাজনীতির এই নতুন সমীকরণ এবং পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা, জম্মু বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ও ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নত করতে সচেষ্ট করছে।

ভারত এখন দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সর্ববৃহৎ সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের এই বড় উদ্যোগের ফলে আদানি গ্রুপ, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, আইডিয়াফোর্জ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো দেশীয় ড্রোন নির্মাতারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

নতুন এই ড্রোনবহর ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্ত নজরদারি, নিখুঁত হামলা ও রসদ সরবরাহে দারুণভাবে সহায়তা করবে। এটি আমেরিকার তৈরি বিখ্যাত ‘এমকিউ-নাইন বি প্রিডেটর’ ড্রোনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

এ ছাড়া সরকারের ‘ড্রোন শক্তি মিশন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজের শক্তিশালী ড্রোন ইকোসিস্টেম তৈরি করছে।

ড্রোনের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি, শত্রুপক্ষের ড্রোন থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ‘পেলোরাস টেকনোলজিস’ -এর মতো শীর্ষস্থানীয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সংস্থাটি এমন কিছু অত্যাধুনিক সিস্টেম তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোনকে দূর থেকে শনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিষ্ক্রিয় (জ্যাম) করার সক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ‘পুলিশ এক্সপো’-তে পেলোরাস টেকনোলজিস তাদের এই ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকৌশলের এই দ্রুত পরিবর্তন নতুন এক যুগের সংকেত দিচ্ছে। ভারতীয় ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তায় এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব অপরিসীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক উদ্ধারে পিপিএম পদকজয়ী এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


মাদক উদ্ধারে পিপিএম পদকজয়ী এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) কর্মরত অবস্থায় মাদক উদ্ধার ও চাঞ্চল্যকর মামলার সফল তদন্তের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক, সাহসিকতা’ (পিপিএম) অর্জনকারী এসআই মহিউদ্দিনের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের দ্বারা একটি মামলায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৯/১২/২০২০ তারিখে একাধিক মাদক মামলার চিহ্নিত আসামি মো. রেজাউল করিম রেজাকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেন মহিউদ্দিন ও তাঁর আভিযানিক দল। গ্রেফতারের পর নিয়ম অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

কারাগারে থাকাকালীন কিছুদিন পর আসামি রেজাউল করিম রেজা ‘কার্ডিয়াক অ্যানিমিক ফেইলিউর’ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিহতের বাবা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুরো আভিযানিক দলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। এরপর বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে বিষয়টির ওপর একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম বিচার বিভাগীয় তদন্তে আভিযানিক দলের কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন। এর ধারাবাহিকতায়, গত ৩০/০১/২০২২ তারিখে মহামান্য আদালত মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।

আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও স্বার্থান্বেষী একটি মহল ও মাদক ব্যবসায়ীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ থেকে আসামির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আইনি রায়কে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্ট আপলোড করা হয়।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর বিবৃতিতে জানান, মহামান্য আদালত কর্তৃক বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আমরা যেখানে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি, সেখানে এতদিন পর পুনরায় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে প্ররোচিত হয়ে একটি চক্র ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আদালত অবমাননাকর এই পোস্টে বিভিন্ন অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্তব্য করছে।

তিনি আরও জানান, যারা মহামান্য আদালতের আদেশ অমান্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করছে, তাদের ইতোমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে। এই অপপ্রচারের পেছনে জড়িত প্রধান হোতা এবং মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দেশের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


দুই দেশের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষ করার পর দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শুক্রবার (৩ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন, এ সম্পর্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সফরকালে সেনাপ্রধান উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

গত ২৮ জুন সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় ঢাকা ত্যাগ করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%