০৩:০৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুবার্ষিকীর চার মাস পর তেহরান একটি বিশাল ও নজিরবিহীন শেষযাত্রার আয়োজন করেছে।
এই স্মরণানুষ্ঠান সপ্তাহব্যাপী চলমান থাকবে এবং দুই দেশের পাঁচটি শহরজুড়ে কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং দীর্ঘ দশকের অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ করতে ইরান কোনো কমতি রাখছে না। কাকতালীয়ভাবে মহোৎসবটি আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
তেহরান মূলত এই বিশাল আয়োজন ও ধর্মীয় প্রতীকীবাদের মাধ্যমে বিশ্বকে এবং বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর বার্তা দিতে চায় যে, অস্তিত্বসংকটের যুদ্ধ থেকে তারা শুধু টিকে আছে, বরং তাদের নিহত নেতাকে প্রতিরোধের এক অমর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহত্তম লজিস্টিক বা সাংগঠনিক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সফল করতে এবং ইরান ও ইরাক জুড়ে লাখ লাখ ‘তীর্থযাত্রী’ ও শোকগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, ফায়ার সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি নিয়োজিত করা হয়েছে। শিয়া প্রধান প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতেও লাখ লাখ মানুষ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেছেন, এই মহাকাব্যিক আয়োজন বিশ্বের কাছে ইরানি জাতির মহান আত্মার পরিচয় তুলে ধরবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি প্রমাণ করবে যে তারা নিপীড়নের মুখে কখনো নীরব থাকবে না।
এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তেহরান ও অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারি, আড়াই হাজার অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শোকগ্রস্তদের খাওয়ানোর জন্য প্রায় পাঁচ কোটি রুটি তৈরিরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই স্মরণসভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং নিহত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য জনসমক্ষে উপস্থিতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে হামলায় তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হন, সেই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা জনসমক্ষে আসেননি এবং তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
এই জানাজায় তার উপস্থিতি তার নেতৃত্বের বৈধতাকে মজবুত করবে, তবে তার অনুপস্থিতি তার শারীরিক সুস্থতা এবং পর্দার আড়ালে দেশ কে চালাচ্ছে তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সম্প্রতি মোজতবাকে ‘হত্যার তালিকায়’ রাখার হুমকি দিয়েছেন, যার পর ইরানের সামরিক বাহিনীও যেকোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব-নিকাশের’ বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। যদিও সরকার এই আয়োজনকে জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তবে তীব্র যানজট ও জ্বালানিসংকটের কারণে সাধারণ ইরানিদের একটি বড় অংশ এর প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছে এবং ছুটির দিনগুলোতে শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন