ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্মাণে ৮ কোটি টাকা, তবু কাজে লাগছে না পানি শোধনাগার


নির্মাণে ৮ কোটি টাকা, তবু কাজে লাগছে না পানি শোধনাগার

পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভায় নির্মিত একটি পানি শোধনাগার, যা প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে, বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পৌরবাসীকে ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত পানি থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং রোগজীবাণু দূর করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা।

কিন্তু অবস্থা ভিন্ন। ২০২১ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রটি সাঁথিয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পর, মাত্র কয়েক দিনের জন্য এটি চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পৌর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা ২৫ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি পৌরসভা, যেখানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস। নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি শোধনাগার নির্মাণ এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল, যাতে ব্যয় হয় ৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: বরিশাল নগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

যদিও ২০২১ সালে প্রকল্পটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তবে বর্তমানে কেন্দ্রটির অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে এবং পৌরবাসী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পানি শোধনাগার বন্ধ থাকার বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী বলেন, প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরে এটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের উপর। তবে আমরা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।

একাধিক পানি ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন যে, সরকার যে উদ্দেশ্যে গভীর নলকূপ এবং পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। তাদের আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি শুধুমাত্র সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং পৌরবাসীকে একটি মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করার একটি দৃষ্টান্ত।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান জানিয়েছেন, পানি শোধনাগারটি চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পে যে পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, সেটি তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় পৌরবাসীর চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মাদকাসক্ত যুবকদের ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান ড. খন্দকার মারুফের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু আতঙ্ক নয়, মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


ডেঙ্গু আতঙ্ক নয়, মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা দাবি করেছেন যে, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। কারণ ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কোনো ভ্যাকসিন নেই এবং সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও বাজুতে নেই। তবে এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশেই রয়েছে। এজন্যই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য প্রথমে দরকার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কেননা, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইরে, ছাদ এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি। সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের উচিত বাড়ির আঙিনা সবসময় পরিষ্কার করে রাখার কাজ করা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের ভর্তি পানির পাত্রগুলোর মধ্যে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুর কারণে ৪৭ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। একই সময়ে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং ডেঙ্গুর কারণে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে শেষ নয়, বরং মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে শুরু হতে হবে। রোগীকে দ্রুত শনাক্তকরণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে ডেঙ্গু জনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃষ্টিকে যদি ডেঙ্গুর জন্য শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়, তাহলে সংকট আরো গভীর হবে। তবে বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করা সম্ভব।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। আমাদের চারপাশে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এসময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমানোর প্রয়াস নিতে হবে। পাশাপাশি ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা। পানির সঙ্গে ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ডা. হাসান হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হচ্ছে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং এই মশা কামড়াতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পাশাপাশি মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংঘর্ষের মধ্যেই শান্তি ও সংযমের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


সংঘর্ষের মধ্যেই শান্তি ও সংযমের আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ অবস্থার কারণে দেশটির সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি সকল নাগরিক, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তি, সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২৬ জুলাই) ভারতের সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কারণে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হয়ে যান। পরবর্তীতে কারফিউ চলাকালে পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সুনসারি ও আশপাশের অন্যান্য জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নেপালের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১,৩৮৪ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১,৩৮৪ জনের

গত সাড়ে ছয় বছরে রাজধানী ঢাকা নগরীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রয়েছেন পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক।

শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪ জন পুরুষ, ২১৯ জন নারী এবং ১৩১ জন শিশু। নিহতের মধ্যে পথচারীর সংখ্যা ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল আরোহীর সংখ্যা ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীর সংখ্যা ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

দুর্ঘটনার সময়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলা। মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাতের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, সকালে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, দুপুরে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, বিকেলে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ভোরে ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের শতকরা হার ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এরপর মোটরসাইকেলের হার ২৬ শতাংশ, বাসের হার ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি, লেগুনার হার ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপের হার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, রাতে রাজধানীতে ভারি যানবাহনের দৌরাত্ম্য, দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের অসহিষ্ণুতা, অপ্রতুল সড়ক, একাধিক গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল এবং নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থার অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনার জন্য সংবেদনশীল স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগকে জোরদার করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল এক শিশুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


ফেনীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল এক শিশুর

জেলার পরশুরামের নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মো. আফফান মেহেদী নামের আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আফফান হ'ল উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর জঙ্গলঘোনা গ্রামের প্রবাসী মো. আরিফ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, শুক্রবার সকালে পশ্চিম সাহেবনগরে রিটু মিয়ার বাড়িতে মেয়ে বিলকিস আক্তার তার শিশু ছেলে আফফানকে নিয়ে বেড়াতে যান। দুপুর ২টার দিকে আফফান বসতবাড়ির পাশে অবস্থিত পুকুরে পড়ে যায়। তাকে দীর্ঘ সময় খোঁজার পর পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ ভৌমিক শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান যে, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু ঘটেছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের কথা জানান। পরিবারের অনুরোধের কারণে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া আফফানের মৃতদেহ দাফনের জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%