প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোরের আবহ তখনো শেষ হয়নি, শারদীয় গন্ধমাখা সকাল। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের দুর্গোৎসব কিছুটা ব্যতিক্রম। মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন হওয়ায় নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমী বিহিত পূজার জন্য পূজারীরা দীর্ঘ সময় পেয়েছেন।
আজ (১৭ অক্টোবর) ও কাল—এই দুই দিন ব্যাপ্ত। অর্থাৎ ‘অহোরাত্র সপ্তমী তিথি’ বা ডাবল সপ্তমী। পঞ্জিকাগত চক্রের সময়কাল ও তিথির বিশেষ বৃদ্ধি (তিথি বৃদ্ধি)’র কারণে এ বছর বিরল যোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মণ্ডপগুলোতে ভিড় অনেকটা কম রয়েছে।
মহাসপ্তমীর প্রথম দিন আজ (শনিবার) সকালে খুলনা নগরীর দোলখোলার ঐতিহ্যবাহী শীতলবাড়ি পূজা মন্দিরে এসব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
মন্দিরের পূজারী গৌতম সেন জানান, ‘মহাসপ্তমীর সকালে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এবার দুটি সপ্তমী পূজা হওয়ায় ভিড় কম। সবাই সময় নিয়ে আসছেন। তবে মহাঅষ্টমীতে তিথির সময় কম। এদিন দৃশ্য পাল্টে যাবে। সারাদিন দর্শনার্থী কম হলেও গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীর ভিড় রয়েছে। আগামী কয়েকদিন ভিড় আরো বাড়বে।’
শারদীয় উৎসব উপলক্ষে মহানগরী খুলনা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত পূজারী ও দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর থাকবে পূজা মণ্ডপগুলো।
মহানগরীতে ৭৬টি মণ্ডপসহ এবার জেলায় মোট ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম, দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
মাটির প্রতিমায় শিল্পীর হাতে ব্যতিক্রমী রূপ পেয়েছে নগরীর প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের দেবী দুর্গা। চারজন ভাস্করের দেড় মাসের পরিশ্রমে ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া ধানে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার রূপ, যা খুলনা অঞ্চলে প্রথম। এই শৈল্পিক প্রতিমা দেখতে পূজা শুরু হওয়ার আগেই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন।
তেঁতুলতলা মন্দিরে পূজা দেখতে আসা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘সত্যিই অসাধারণ। ধানের ওপর সোনালি রং, যেন মায়ের স্বর্ণের প্রতিমা।’
মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়ের ভাষায়, পূজারী ও দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই ব্যতিক্রমী আইডিয়া। প্রথমে মাটি দিয়ে দেবী মূর্তি গড়া হয়েছে। তারপর ধান ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা গড়তে হয়েছে। ধানের ওপর করা হয়েছে সোনালি রং। সোনালি আভায় ফুটে উঠেছে দেবী দুর্গার অকৃত্রিম রূপ।
এদিকে, জেলার ডুমুরিয়ায় গড়া হচ্ছে ১৫ ফুট উচ্চতার হনুমান, রাম-লক্ষণ ও সীতার প্রতিমা। খড়সংঘ মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ১৫২তম পূজা উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে ১৫২টি প্রতিমা। সেখানে স্থান পেয়ে সিকাগো শহরে স্বামী বিবেকানন্দের ভাষণ, ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও রাধা, জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, মহাভারতের রামচন্দ্র, দেবী দুর্গা, কালী, কালী ও পরমহংস দেবের লীলাসহ সমাজের ভালো-মন্দের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
মন্দিরের কোষাধাক্ষ্য সুমন শীল জানিয়েছেন, প্রতিবছরই তারা ব্যতিক্রমী আয়োজন করে থাকেন। এবার মন্দিরের ১৫২তম পূজা। তাই ১৫২টি প্রতিমায় সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন দেবীর লীলাকথা মূর্তির মাধ্যমে তুলে ধরে সনাতন ধর্মের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় বোধ জাগ্রত করতে প্রতিবছর এমন আয়োজন করা হচ্ছে।
খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরের ৭৬টিসহ খুলনায় এবার ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে সর্ব্বোচ ডুমুরিয়া উপজেলায় ২২৬টি। এছাড়া পাইকগাছায় ১৫১টি, দাকোপে ৮১টি, বটিয়াঘাটায় ১০৮টি, তেরখাদায় ৯৭টি, কয়রায় ৫৭টি, দিঘলিয়ায় ৬১টি, রূপসায় ৭৬টি এবং ফুলতলায় ৩৩টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মহানগরীর পাঁচ থানার মধ্যে সদর থানায় ২৬টি, সোনাডাঙ্গায় ১১টি, খালিশপুরে ১১টি, দৌলতপুরে ২০টি এবং খানজাহান আলী থানায় আটটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন