ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টিকিট প্রতারণার অভিযোগে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা


টিকিট প্রতারণার অভিযোগে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

 ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে টিকিটের নামে প্রতারণার অভিযোগে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)’র বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে বিমান টিকিটের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছে।

জসীম উদ্দিন খান, সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া), আজ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম শুল্কমুক্ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘোষণা জ্বালানি মন্ত্রীর

প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলাটি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ ঘটনায় সিআইডি’র ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট অনুসন্ধান করে যে তথ্য পেয়েছে, তার ভিত্তিতে এ বছরের ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় প্রতিষ্ঠানের সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, মো. সাকীব হোসেন ও মোতাহের হোসেন।

সিআইডি জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (বিজনেস টু বিজনেস) ও বি-টু-সি (বিজনেস টু কনজিউমার) উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের আলোচনা শুরু

বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দেশ ত্যাগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশনের তারিখ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ পি.এম


যবিপ্রবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশনের তারিখ ঘোষণা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশনের তারিখ এখন ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ওরিয়েন্টেশন। একই দিন থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাসও শুরু হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপউপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইমরান খান।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। এছাড়া ওরিয়েন্টেশন কিট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে নবীন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চলতি মাসের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চলতি মাসের কিস্তি আদায় না করার অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, রাঙামাটির বন্যাকবলিত এলাকার অতিদরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চলতি মাসের ঋণের কিস্তি আদায় না করার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

আজ রবিবার (১৩ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার কারণে যেন কোনো এনজিও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা আদায় না করে।

তিনি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানাতে বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় এ অঞ্চলের অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে চলতি মাসের কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এ মাসের কিস্তি পরবর্তীতে গ্রহণ এবং বিলম্বের কারণে কোনো ধরনের সুদ বা জরিমানা আরোপ না করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে আমার এই অনুরোধ পৌঁছে দেবেন।’

বৈঠকে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য যুগ্মসচিব সুমন বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী জালাল উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অং সান সু চি আমাদের বোন : মায়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


অং সান সু চি আমাদের বোন : মায়ানমার

মায়ানমারের সরকার আসিয়ানকে জানিয়েছে যে, আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন এবং তার ভালোভাবে দেখাশোনা করা হচ্ছে। এবং তাকে ‘আমাদের বোন’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

মায়ানমারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের বিশেষ দূত এবং ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো জানান, মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানকে বলেছেন, ‘অং সান সু চি আমাদের আত্মীয়, তিনি আমাদের বোন। তাই আমরা তার যথাযথ যত্ন নেব।’

মারিয়া থেরেসা লাজারো, ৮১ বছর বয়সী সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২১ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সু চিকে আটক রাখা হয়েছে, যে অভ্যুত্থান দেশটিকে সংঘাতের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

লাজারো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন যে, অং সান সু চি সুস্থ আছেন। তিনি আরো বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘বোনের মতো’ উল্লেখ করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তার যথাযথ যত্ন নেওয়া হবে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম আসিয়ানভুক্ত ১১ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রবিবার মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ বন্ধে শান্তি প্রচেষ্টা আবার শুরু করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক হয়।

এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

অং সান সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যদিও সম্প্রতি তার সাজা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার সমর্থকদের দাবি, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে।

সু চি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।

আসিয়ানের প্রস্তাবিত ‘পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় মায়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে অংশ নিতে দেওয়া হয় না। এই শান্তি পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত খুব কম সাফল্য পেয়েছে। তবে লাজারো মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। লাজারো বলেন, ‘এই সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে, গত সপ্তাহে মায়ানমারের সামরিকপন্থী সংসদ আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে। তারা নতুন বেসামরিক নেতৃত্বাধীন, সেনাসমর্থিত সরকারকে এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বানও জানায়। তবে লাজারো আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরো কার্যকর করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

লাজারো বলেন, ‘তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করুক বা না করুক, আমি আমার অবস্থানে অটল। আসিয়ান এখনও পাঁচ-দফা শান্তি পরিকল্পনার পক্ষেই রয়েছে।’

এদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকে জানান, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়েকে তাদের প্রত্যাশার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তারা অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও চেয়েছেন, যাতে তিনি সত্যিই সুস্থ আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠকে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং আসিয়ানের কার্যক্রমে মায়ানমারের পূর্ণ ও সমান অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধারের জন্য গঠনমূলক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন, যাতে তিনি সত্যিই সুস্থ আছেন কি না, তা যাচাই করা যায়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যারা আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনা মানতে চায় না, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সমর্থন করা কঠিন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বন্যা পরিস্থিতি

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে সুনামগঞ্জ-সিলেটের পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে সুনামগঞ্জ-সিলেটের পানি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রবিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

মাত্রা কিছুটা কমলেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। সঙ্গে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল।

সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোথাও উন্নতি, অপরিবর্তিত। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আগের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়েছেন মানুষ।

এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। বরং সব পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা আতঙ্ক আপাতত কাটছে না।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবিগঞ্জ জেলায় আগের দিনের তুলনায় রবিবার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার এক-দুইটি নিম্নাঞ্চল ছাড়া প্রায় সব এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বন্যার পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় খালি হয়ে গেছে। তবে বাড়ি ফিরে অনেক পরিবার দেখতে পাচ্ছেন, ঘরবাড়ি কাদায় ভরে গেছে, আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে।

অনেক কাঁচা ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

জেলার আব্দাবখাই, নোয়াগাঁও ও কালীগঞ্জ ছাড়া বাকী গ্রামগুলো থেকে পানি প্রায় নেমে গেছে। পানি নামলেও অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট, কাঁদা জমে থাকা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বাঁধ ও বসতঘর মেরামতের পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে প্রভাব

কৃষিখাতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি জমির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগ।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল হক বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় ডুবে রয়েছে সেসব এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। আমরা নদী ভাঙ্গনের জায়গাটি পুনরায় বাঁধ দেওয়ার জন্য কাজ করছি।’

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

উজানে বৃষ্টিপাত কমায় মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হচ্ছে। মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরেছেন মানুষ।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের মনু নদীর দুটি স্থান উজিরপুর, একামুধা এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। অপরদিকে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ভাঙন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নি¤ միայնাঞ্চল প্লাবিত করে। গত কয়েকদিনে বন্যায় ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। বন্যা কবলিত অনেক এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হয় শুকনো খাবার। তবে এখন পানি কমছে।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের বন্যায় আক্রান্ত রফিক মিয়া, জসিম মিয়া ও আছিয়া বেগম বলেন, গত ৩ দিন পানির নিচে থাকার পর গতকাল শনিবার রাত থেকে ঘর বাড়ি থেকে পানি নামা শুরু করেছে। ঘরে খাবার নেই, অনেকে সরকারি সাহায্য পাচ্ছে, আমরা এখনো পাইনি। এছাড়াও আমাদের পরিবারের বাচ্চাকাচ্চার জ্বর উঠে গেছে আবার কারো ডায়রিয়া আক্রান্ত।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘বন্যা কবলিত এলকায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সাথে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত আছে। পানিবাহিত রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। নিচু এলাকায় অনেক স্থানে পানি রয়েছে।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য ইতোমধ্যে খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত প্রতিটি এলাকায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা মনিটারিং করছি।’

বন্যায় মৌলভীবাজারে কৃষি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি

বন্যায় মৌলভীবাজার জেলার ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর ক্ষত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় আউস ধান, আমন বীজতলা ও সবজি চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আউস আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ২৪৮ হেক্টর বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আমন বীজতলা অর্জিত তিন হাজার ৭৯ হেক্টরের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৫০ হেক্টর, খরিফ ২ সবজি আবাদ হয়েছে ২৩৬ হেক্টরে এর মধ্যে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৪ দশমিক ৫০ হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন।’

এদিকে, বন্যায় জেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে বিপর্যয় ও গ্রামীণ সড়কগুলোর বড় অংশের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট ভেঙেছে, পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্যায়  গ্রামীণ সড়কগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ চালাচ্ছি। পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হতে আরো তিন-চার দিন সময় লাগবে।’

জরিপ শেষে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সুনামগঞ্জে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম

সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে কুশিয়ারা নদীর পানি মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ ও ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৩৮ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। একই সময় সুরমা নদীর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদি  বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৪৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলাতেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।’

সিলেট বৃষ্টি কমলেও নদীতে বেড়েছে পানি

আগের দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর রবিবার সারাদিন বৃষ্টি ছিল না। তবে শেষ বিকেলে ফের বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিপাত কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট জেলার সব পয়েন্টে নদনদীর পানি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

এর মধ্যে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদী বিপৎসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার, এছাড়া সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি শূন্য দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ার পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৯১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাকি পয়েন্টেও নদীর পানি বিপৎসীমার কাছে অবস্থান করছিল।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব সিলেটের সব নদ-নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

[প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধির তথ্যের ভিত্তিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%