ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত : প্রধানমন্ত্রী


রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত : প্রধানমন্ত্রী

টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত।

তিনি একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন।

আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ারবাসকে ঋণ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকিতে: মার্কিন কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


এয়ারবাসকে ঋণ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকিতে: মার্কিন কর্মকর্তা

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিনিয়োগ ব্যাংক থেকে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকে কয়েকশ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক আরোপ স্থগিত রাখার সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তার দপ্তর এ বিষয়ে ‘কোনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি’। তিনি যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির সমাধান করার আহ্বান জানান।

এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করেছিলাম, এয়ারবাসকে দেওয়া ইউরোপের বাণিজ্য-বিকৃতিকারী ভর্তুকির দিন শেষ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি উড়োজাহাজ শিল্পে আটলান্টিকের দুই পাশের বাণিজ্য নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’

গত জুনে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) এয়ারবাসের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে রেকর্ড ৩০০ কোটি ইউরো বা ৩৪০ কোটি ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দেয়।

তখন ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমব্রোয়াজ ফায়োল এএফপিকে বলেছিলেন, ব্যাংকটির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই অর্থায়নের লক্ষ্য হলো এয়ারবাসকে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও নমনীয়তা দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ২০০৪ সাল থেকে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষই অভিযোগ করে আসছে, প্রতিপক্ষ সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে।

এ বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাস।

দীর্ঘ ১৭ বছরের এই বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ একে অপরের শত শত কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল।

তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে ২০২১ সালে উভয় পক্ষ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর থেকে দুই পক্ষের কেউই ওই বিরোধের জেরে পুনরায় শুল্ক আরোপ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মধ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এতে যুক্ত। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এই প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী আয়োজিত ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সাথে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, চিকিৎসার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় রোগী ও তার স্বজনদের বুঝিয়ে বলা, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি জানিয়ে দেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহিতা এবং অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, যা দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, সরকার দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সম্মেলনের সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, এই সম্মেলনে বিশ্বসেরা সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা সমৃদ্ধ হবেন এবং দেশের সাধারণ মানুষের সেবায় এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন। আপনাদের হাত ধরেই একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ কোলন এন্ড রেক্টাল সার্জন্স (বিএসসিআরএস)- এর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।

বিএসসিআরএস-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স ও সার্জন্স- এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

দুইদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এ দেশের তরুণ চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদল তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে সহায়ক শক্তি হবে: রুহুল কবির রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


যুবদল তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে সহায়ক শক্তি হবে: রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের পুনর্গঠন, মানুষের আর্থিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কলকারখানার সমৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত উদ্যোগগুলোতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল।

আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের সাথে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী যুবদলের সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শপথ হোক দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

এ সময় তিনি যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, "মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কলঙ্ক লেপন করে কখনো সাফল্য অর্জন করা যায় না। যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকেন, ইতিহাসে তাদের স্থান হয়।"

দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের অবদান ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের আলোচনা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের আলোচনা শুরু

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

বাণিজ্য সচিব জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশাবাদী।

বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন মন্তব্য করেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।

তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%