০৫:২১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেভাবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, সেখান থেকে বর্তমান সরকার জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বাজেট সংলাপ: অগ্রাধিকার, ঘাটতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, একই সঙ্গে আমরা ধারাবাহিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী বাজেটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সবার জন্য যাতে ডাক্তার থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে বড় রকমের পরিবর্তন করা হবে। এমনভাবে পরিবর্তন করা হবে একদিকে যেমন শয্যার পরিমাণ বাড়ানো হবে, তার চেয়ে সেবা বড় হবে যাতে করে শিশুদের ব্যাপারে চিকিৎসক থাকে, নারীদের ব্যাপারে চিকিৎসক থাকে, ফিজিওথেরাপির ব্যাপারে চিকিৎসক থাকে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে যে হাসপাতালগুলোও ঢেলে সাজানো হবে। যেহেতু ডিজিজ বার্ডেন চেঞ্জ হয়েছে অর্থাৎ আগে ছিল সংক্রামক রোগ এখন লাইফস্টাইল ডিজিজ হচ্ছে, সেই কারণে প্রতিটি জেলায় করোনারি কেয়ার ইউনিট, কিডনি ডায়ালিসিস ইউনিটের মত এই বিষয়গুলোর দিকে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশকে তিনি (তারেক রহমান) বলেছেন গণতান্ত্রিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে ব্যাপকহারে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্স নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিশেষ করে শয্যা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা আরো যাতে বাড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েও সেবা বাড়বে। সবচেয়ে বড় যেটা পরিবর্তন করবে সেটি হচ্ছে যে- স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটা আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। অতীতে কোন সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তো ঠিক করেনি। আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার দিন দিন বেড়ে গেছে, বিদেশে প্রচুর ব্যয় করতে হয়েছে। হিমসিম খেতে হচ্ছে শয্যা সংকট, ঠিকমত রোগের চিকিৎসা নাই। অন্যদিকে ওষুধেরও প্রাপ্তি নাই। অর্থাৎ আমরা আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটা আমূল পরিবর্তন আনব।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
অনুষ্ঠানে ইউএপির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমা বেগমের সঞ্চালনা ও স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক ড. এম. এ. বাকী খলিলীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক ও প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন